ঢাকা ০৪:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গণঅভ্যুত্থান ছিল ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের ফসল : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাই বিপ্লবের স্মরণে একমঞ্চে জামায়াত ও তরুণ নেতৃবৃন্দ: জাতীয় ঐক্যের বার্তা কসবায় ২৬৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার, আটক ১ টুঙ্গিপাড়ায় জলাবদ্ধতায় এক গ্রামের শতাধিক পরিবার পানিবন্দী ১৫ দিনের ছুটি নিয়ে ২২ দিন পর কর্মস্থলে ফিরলেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শেয়ারবাজারে বন্ধ কোম্পানির সংখ্যা বেড়ে ৩৫ তারেক রহমানকেও জেআইসি সেলে বন্দি রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর কালিয়াকৈরে ৪৬ লাখ টাকার সড়ক উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন রিমঝিম বৃষ্টিতে বর্ষার আনন্দ, পটুয়াখালীতে প্রথমবার ‘বর্ষা উৎসব ১৪৩৩’ অনুষ্ঠিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে নজর কাড়লেন মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন

শেয়ারবাজারে বন্ধ কোম্পানির সংখ্যা বেড়ে ৩৫

দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হওয়া কোম্পানির সংখ্যা বেড়ে ৩৫টিতে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেডের কারখানা বন্ধের তথ্য জানিয়েছে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত ১ আগস্ট থেকে এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলসের কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে তাদের পক্ষে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

কোম্পানিটি আরো জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। একইসঙ্গে ঋণদাতা ব্যাংকগুলো এলসি খোলার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করে। ফলে উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও রাসায়নিক আমদানি ব্যাহত হয়। এর পাশাপাশি দক্ষ শ্রমিকদের একটি বড় অংশ চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ায় কোম্পানিটিতে তীব্র জনবল সংকট তৈরি হয়। কাঁচামাল ও রাসায়নিকের সরবরাহে বিঘ্ন এবং জনবল সংকট- সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কোম্পানিটি।

তবে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে জানিয়ে এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস বলেছে, পরিস্থিতির উন্নতি হলে তারা আবার উৎপাদন শুরু করতে চায়। দ্রুত উৎপাদন শুরু করতে না পারলে কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস নতুন করে তালিকায় যুক্ত হওয়ায় ডিএসইতে বন্ধ বা অকার্যকর শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এখন ৩৫টি। ডিএসই সূত্র জানায়, কিছু কোম্পানি তাদের কার্যক্রমে সমস্যার কথা এক্সচেঞ্জকে জানিয়েছে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান কারখানা বন্ধের তথ্য প্রকাশ করেনি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডিএসইর পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট কারখানার কার্যক্রম এরইমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। এসব কোম্পানির বেশির ভাগই ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে উৎপাদন বন্ধ করেছে। তবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এর চেয়েও দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্ক্রিয় রয়েছে।

ডিএসইতে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকা তালিকাভুক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান হলো মেঘনা পিইটি ইন্ডাস্ট্রিজ। প্রতিষ্ঠানটি ২০০২ সাল থেকে বন্ধ। এছাড়া বাংলাদেশ ওয়েল্ডিং ইলেকট্রোডস ২০১৬ সাল থেকে উৎপাদন কার্যক্রমে নেই। বন্ধ কোম্পানির তালিকায় এছাড়াও ইস্পাত, বস্ত্র, বিদ্যুৎ, সিমেন্ট, প্রকৌশল, সিরামিক, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রাসায়নিক খাতের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলসের আগে সর্বশেষ তালিকায় যুক্ত হয়েছে একই গ্রুপের দুই প্রতিষ্ঠান অ্যাক্টিভ ফাইন কেমিক্যালস ও এএফসি অ্যাগ্রো বায়োটেক।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এক্সচেঞ্জটিতে মোট ৩৬০টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ১৬০টি, ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৭৪টি এবং ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে ১২৬টি কোম্পানি। বন্ধ অনেক প্রতিষ্ঠানই ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণঅভ্যুত্থান ছিল ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের ফসল : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শেয়ারবাজারে বন্ধ কোম্পানির সংখ্যা বেড়ে ৩৫

আপডেট সময় ০৩:০২:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হওয়া কোম্পানির সংখ্যা বেড়ে ৩৫টিতে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেডের কারখানা বন্ধের তথ্য জানিয়েছে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত ১ আগস্ট থেকে এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলসের কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে তাদের পক্ষে উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

কোম্পানিটি আরো জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। একইসঙ্গে ঋণদাতা ব্যাংকগুলো এলসি খোলার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করে। ফলে উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও রাসায়নিক আমদানি ব্যাহত হয়। এর পাশাপাশি দক্ষ শ্রমিকদের একটি বড় অংশ চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ায় কোম্পানিটিতে তীব্র জনবল সংকট তৈরি হয়। কাঁচামাল ও রাসায়নিকের সরবরাহে বিঘ্ন এবং জনবল সংকট- সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কোম্পানিটি।

তবে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে জানিয়ে এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস বলেছে, পরিস্থিতির উন্নতি হলে তারা আবার উৎপাদন শুরু করতে চায়। দ্রুত উৎপাদন শুরু করতে না পারলে কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস নতুন করে তালিকায় যুক্ত হওয়ায় ডিএসইতে বন্ধ বা অকার্যকর শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এখন ৩৫টি। ডিএসই সূত্র জানায়, কিছু কোম্পানি তাদের কার্যক্রমে সমস্যার কথা এক্সচেঞ্জকে জানিয়েছে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান কারখানা বন্ধের তথ্য প্রকাশ করেনি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডিএসইর পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, সংশ্লিষ্ট কারখানার কার্যক্রম এরইমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। এসব কোম্পানির বেশির ভাগই ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে উৎপাদন বন্ধ করেছে। তবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এর চেয়েও দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্ক্রিয় রয়েছে।

ডিএসইতে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকা তালিকাভুক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান হলো মেঘনা পিইটি ইন্ডাস্ট্রিজ। প্রতিষ্ঠানটি ২০০২ সাল থেকে বন্ধ। এছাড়া বাংলাদেশ ওয়েল্ডিং ইলেকট্রোডস ২০১৬ সাল থেকে উৎপাদন কার্যক্রমে নেই। বন্ধ কোম্পানির তালিকায় এছাড়াও ইস্পাত, বস্ত্র, বিদ্যুৎ, সিমেন্ট, প্রকৌশল, সিরামিক, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রাসায়নিক খাতের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলসের আগে সর্বশেষ তালিকায় যুক্ত হয়েছে একই গ্রুপের দুই প্রতিষ্ঠান অ্যাক্টিভ ফাইন কেমিক্যালস ও এএফসি অ্যাগ্রো বায়োটেক।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এক্সচেঞ্জটিতে মোট ৩৬০টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ১৬০টি, ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৭৪টি এবং ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে ১২৬টি কোম্পানি। বন্ধ অনেক প্রতিষ্ঠানই ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে।