ঢাকা ০৩:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জুলাই বিপ্লবের স্মরণে একমঞ্চে জামায়াত ও তরুণ নেতৃবৃন্দ: জাতীয় ঐক্যের বার্তা কসবায় ২৬৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার, আটক ১ টুঙ্গিপাড়ায় জলাবদ্ধতায় এক গ্রামের শতাধিক পরিবার পানিবন্দী ১৫ দিনের ছুটি নিয়ে ২২ দিন পর কর্মস্থলে ফিরলেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শেয়ারবাজারে বন্ধ কোম্পানির সংখ্যা বেড়ে ৩৫ তারেক রহমানকেও জেআইসি সেলে বন্দি রেখে নির্যাতন করা হয়েছিল: চিফ প্রসিকিউটর কালিয়াকৈরে ৪৬ লাখ টাকার সড়ক উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন রিমঝিম বৃষ্টিতে বর্ষার আনন্দ, পটুয়াখালীতে প্রথমবার ‘বর্ষা উৎসব ১৪৩৩’ অনুষ্ঠিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে নজর কাড়লেন মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন একটি চক্র জ্বালানি খাতকে অস্থিতিশীল করার জন্য সক্রিয়: প্রধানমন্ত্রী

ভোলায় বিশ্বব্যাংকের ঋণের অর্থে উন্নয়ন প্রকল্প– স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন

ভোলায় বিশ্বব্যাংকের ঋণের টাকায় নির্মিত মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও সার্ভিলেন্স চেকপোস্ট এখন স্থানীয় মৎস্য বিভাগের জন্য ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ২৩ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণ শেষে ভবনগুলো পড়ে আছে প্রায় অকেজো অবস্থায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলেদের উন্নয়নের লক্ষ্যে মেঘনা নদীর তীরে নির্মিত এসব স্থাপনা কোনো কাজেই আসছে না। নেই রক্ষণাবেক্ষণের জনবল বা বাজেট। যে ঘাটে অবতরণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে, সেখানে জেলেদের নৌকা-ট্রলার ভিড়ে না; এমনকি যাতায়াতের জন্যও নেই উপযোগী রাস্তা।
সরেজমিনে লালমোহন উপজেলার বুড়ির দোন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীর তীরে নির্মিত বিশাল পাকা ভবনটি জনশূন্য অবস্থায় পড়ে আছে। ভবনের গেটে তালা ঝুলছে, চারদিকে নীরবতা। নদীর ঢেউ আছড়ে পড়ছে ভবনের দেয়ালে। বেড়িবাঁধের বাইরে হওয়ায় সেখানে মানুষের যাতায়াতও নেই।
ভোলা সদর উপজেলার ভবানিপুর (কাঠির মাথা) এলাকায় নির্মিত অবতরণ কেন্দ্রের সামনেই জেগে উঠেছে চর। ফলে বড় নৌযান ভিড়তে পারে না। এতে মাছ খালাস বা বেচাকেনা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
মৎস্য অধিদফতরের ‘সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিসারিজ’ প্রকল্পের আওতায় ভোলার ভবানিপুর ও লালমোহনে দুটি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। একই প্রকল্পে চরফ্যাসনের চর কচ্ছপিয়ায় সার্ভিলেন্স চেকপোস্ট, চিংড়ি হ্যাচারি ও পন্টুন নির্মাণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৩ কোটি টাকা।
অভিযোগ রয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী জেনারেটর, মিনি হিমাগার, ডিজিটাল স্কেলসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করেই ঠিকাদার বিল তুলে নিয়েছেন। নির্মাণকাজেও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় জেলে মফিজুল ইসলাম বলেন, “আমাদের ছোট নৌকা, অল্প মাছ। এত বড় ভবনের দরকার নেই। এখানে মাছ বিক্রি করলে ট্যাক্স দিতে হবে, তাই কেউ আসবে না।”
ঘাটের আড়ত মালিক মো. সিরাজ মাল বলেন, “এই অবতরণ কেন্দ্র আমাদের কোনো কাজে আসবে না। মাছ বিক্রির প্রচলিত ব্যবস্থা এখানে নেই।”
জেলে মিজান জানান, চালুর আগেই ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মনির খান বলেন, “চুক্তি অনুযায়ী অনেক কাজই হয়নি। উদ্বোধনের আগেই সিঁড়ির টাইলস উঠে যাচ্ছে, পানির ট্যাংক লিক করছে।”
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদার মো. শহিদুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, বরাদ্দ অনুযায়ী সব কাজ করা হয়েছে। বরং অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে, যার অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ভোলা জেলা মৎস্য অফিসেও প্রকল্পের ব্যয়, নকশা বা কাজের বিস্তারিত তথ্য নেই। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে স্থাপনাগুলো বুঝে নেওয়া হয়েছে। তবে কোনো ডিজাইন বা মালামালের তালিকা দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও জানান, ভবনগুলো চালুর পরিকল্পনা থাকলেও এখনো তা প্রক্রিয়াধীন এবং প্রয়োজনীয় জনবল নেই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পনার অভাব, ভুল স্থান নির্বাচন ও তদারকির ঘাটতির কারণে কোটি টাকার এই প্রকল্প এখন ব্যবহারহীন হয়ে পড়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই বিপ্লবের স্মরণে একমঞ্চে জামায়াত ও তরুণ নেতৃবৃন্দ: জাতীয় ঐক্যের বার্তা

ভোলায় বিশ্বব্যাংকের ঋণের অর্থে উন্নয়ন প্রকল্প– স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় ১১:৩৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
ভোলায় বিশ্বব্যাংকের ঋণের টাকায় নির্মিত মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও সার্ভিলেন্স চেকপোস্ট এখন স্থানীয় মৎস্য বিভাগের জন্য ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ২৩ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণ শেষে ভবনগুলো পড়ে আছে প্রায় অকেজো অবস্থায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলেদের উন্নয়নের লক্ষ্যে মেঘনা নদীর তীরে নির্মিত এসব স্থাপনা কোনো কাজেই আসছে না। নেই রক্ষণাবেক্ষণের জনবল বা বাজেট। যে ঘাটে অবতরণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে, সেখানে জেলেদের নৌকা-ট্রলার ভিড়ে না; এমনকি যাতায়াতের জন্যও নেই উপযোগী রাস্তা।
সরেজমিনে লালমোহন উপজেলার বুড়ির দোন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীর তীরে নির্মিত বিশাল পাকা ভবনটি জনশূন্য অবস্থায় পড়ে আছে। ভবনের গেটে তালা ঝুলছে, চারদিকে নীরবতা। নদীর ঢেউ আছড়ে পড়ছে ভবনের দেয়ালে। বেড়িবাঁধের বাইরে হওয়ায় সেখানে মানুষের যাতায়াতও নেই।
ভোলা সদর উপজেলার ভবানিপুর (কাঠির মাথা) এলাকায় নির্মিত অবতরণ কেন্দ্রের সামনেই জেগে উঠেছে চর। ফলে বড় নৌযান ভিড়তে পারে না। এতে মাছ খালাস বা বেচাকেনা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
মৎস্য অধিদফতরের ‘সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিসারিজ’ প্রকল্পের আওতায় ভোলার ভবানিপুর ও লালমোহনে দুটি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। একই প্রকল্পে চরফ্যাসনের চর কচ্ছপিয়ায় সার্ভিলেন্স চেকপোস্ট, চিংড়ি হ্যাচারি ও পন্টুন নির্মাণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৩ কোটি টাকা।
অভিযোগ রয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী জেনারেটর, মিনি হিমাগার, ডিজিটাল স্কেলসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করেই ঠিকাদার বিল তুলে নিয়েছেন। নির্মাণকাজেও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় জেলে মফিজুল ইসলাম বলেন, “আমাদের ছোট নৌকা, অল্প মাছ। এত বড় ভবনের দরকার নেই। এখানে মাছ বিক্রি করলে ট্যাক্স দিতে হবে, তাই কেউ আসবে না।”
ঘাটের আড়ত মালিক মো. সিরাজ মাল বলেন, “এই অবতরণ কেন্দ্র আমাদের কোনো কাজে আসবে না। মাছ বিক্রির প্রচলিত ব্যবস্থা এখানে নেই।”
জেলে মিজান জানান, চালুর আগেই ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মনির খান বলেন, “চুক্তি অনুযায়ী অনেক কাজই হয়নি। উদ্বোধনের আগেই সিঁড়ির টাইলস উঠে যাচ্ছে, পানির ট্যাংক লিক করছে।”
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদার মো. শহিদুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, বরাদ্দ অনুযায়ী সব কাজ করা হয়েছে। বরং অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে, যার অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ভোলা জেলা মৎস্য অফিসেও প্রকল্পের ব্যয়, নকশা বা কাজের বিস্তারিত তথ্য নেই। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে স্থাপনাগুলো বুঝে নেওয়া হয়েছে। তবে কোনো ডিজাইন বা মালামালের তালিকা দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও জানান, ভবনগুলো চালুর পরিকল্পনা থাকলেও এখনো তা প্রক্রিয়াধীন এবং প্রয়োজনীয় জনবল নেই।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পনার অভাব, ভুল স্থান নির্বাচন ও তদারকির ঘাটতির কারণে কোটি টাকার এই প্রকল্প এখন ব্যবহারহীন হয়ে পড়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।