ঢাকা ০৩:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকসহ দুই স্বাস্থ্যকর্মীকে বরখাস্ত করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী তরুণ উদ্ভাবকরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ : প্রধানমন্ত্রী কালিয়াকৈরে ৫০ ভিক্ষুক পরিবারের পুনর্বাসনে ২৪ লাখ টাকার বকনা গরু বিতরণ জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এলো ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার ফেনী পাসপোর্ট অফিসের এডি জাহাঙ্গীরকে ঘিরে দালাল সিন্ডিকেটের অভিযোগ সিলেটে দল বদলেছে, দখল বদলায়নি; চাঁদাবাজি চলছে আগের মতোই ডিএনসিসি প্রশাসক ও ঢাকা-১৮ এর এমপির ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ রায়পুরায় মোমেন মিয়া কে গুলি করে হত্যা, আহত ৩ বরগুনায় ডিবির অভিযানে ৩ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার চট্টগ্রাম গণপূর্তে প্রকৌশলী মেহেদী ও এনডিইকে ঘিরে ৫০ লাখ টাকার ঘুষের অভিযোগ

বহুবিবাহে সমতার শর্ত, যা জানা জরুরি

  • ধর্ম ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:২৮:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • ৬৫৯ বার পড়া হয়েছে

ইসলাম একাধিক বিয়ের অনুমতি দিয়েছে সব স্ত্রীর হক সমানভাবে, কোন ধরনের বৈষম্য ছাড়া আদায় করতে পারার শর্তে। সব স্ত্রীর মধ্যে সমতা বজায় রাখতে না পারলে, কিংবা হক আদায় করতে না পারলে একাধিক বিয়ে করা জায়েজ নয়।

আল্লাহ তাআলা বলেন, নারীদের মধ্যে যাদের ভাল লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন, কিংবা চারটি পর্যন্ত। আর যদি ভয় কর যে, তোমরা সমান আচরণ করতে পারবে না, তাহলে একটিই। (সুরা নিসা: ৩)

একাধিক স্ত্রী থাকলে তাদের মধ্যে সমতা বজায় না রাখা হারাম ও কবিরা গুনাহ । সব স্ত্রীর প্রতি সমান আচরণ না করলে আখেরাতে ভয়াবহ শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যার দুইজন স্ত্রী আছে আর সে তার মধ্যে একজনের প্রতি অধিক ঝুঁকে পড়ে, সে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন বিকলাঙ্গ অবস্থায় উঠবে। (সুনানে আবু দাউদ)

স্ত্রীদের মধ্যে সমতা রক্ষার মানে হলো, তাদের বাসস্থান, খাদ্য-পানীয়, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং রাত্রি যাপনের ব্যাপারে সমতা বজায় রাখতে হবে। সব স্ত্রীকে একই মানের বাসস্থানে রাখতে হবে, তাদের জন্য একই মানের খাবার ও পোশাকের ব্যবস্থা করতে হবে। সব স্ত্রীর সঙ্গে সমান সংখ্যক রাত কাটাতে হবে।

স্ত্রীদের মধ্যে কারো প্রতি মনের টান বা ভালোবাসা বেশি থাকতে পারে, এটা ‍পাপ নয়, যেহেতু মনের টান মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে না।

আল্লাহ্ তাআলা বলেন, আর তোমরা যতই কামনা কর না কেন তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে (সার্বিকভাবে) সমান আচরণ করতে কখনো পারবে না। সুতরাং তোমরা (একজনের প্রতি) সম্পূর্ণরূপে ঝুঁকে পড়ো না, যার ফলে তোমরা (আরেকজনকে) ঝুলন্তের মত করে রাখবে। আর যদি তোমরা মীমাংসা করে নাও এবং তাকওয়া অবলম্বন কর, তবে নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সুরা নিসা: ১২৯)

তবে কোনো স্ত্রীর প্রতি বেশি ভালোবাসা যেন অন্য এক/একাধিক স্ত্রীর ওপর জুলুম করতে উৎসাহিত না করে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। যদি ভালোবাসার কারণে সব সময় এক স্ত্রীরই আবদার-আবেদন রক্ষা করা হয়, তার কাছেই বেশি বেশি রাত্রি যাপন করা হয়, একজনকে বেশিরভাগ সময় নিজের কাছে রেখে অন্য এক বা একাধিক স্ত্রীকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়, তাহলে তা অসমতা গণ্য হবে এবং আখেরাতে ভয়াবহ শাস্তির কারণ হবে।

দ্বিতীয় বিয়ের জন্য প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিতে হবে?

ইসলামে দ্বিতীয় বিয়ের জন্য প্রথম স্ত্রীর কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া অপরিহার্য নয়। অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলেও বিয়ে শুদ্ধ হয়ে যাবে। তবে স্ত্রীর প্রতি সদাচারের অংশ হিসেবে দ্বিতীয় বিয়ের প্রয়োজনীয়তা স্ত্রীকে বুঝিয়ে অনুমতি নেওয়া স্বামীর নৈতিক কর্তব্য। যেহেতু স্ত্রীর প্রতি সর্বক্ষেত্রে ন্যায় ও উত্তম আচরণ করা স্বামীর দায়িত্ব, স্ত্রীকে খুশি রাখাও স্বামীর একটি দায়িত্ব।

আল্লাহ তাআলা বলেন, তাদের সাথে দয়া ও সততার সঙ্গে জীবন যাপন কর, যদি তাদেরকে না-পছন্দ কর, তবে হতে পারে যে তোমরা যাকে না-পছন্দ করছ, তারই মধ্যে আল্লাহ বহু কল্যাণ দিয়ে রেখেছেন। (সুরা নিসা: ১৯)

আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, মুমিনদের মধ্যে ইমানে সে ব্যক্তি পরিপূর্ণ, যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর। আপনাদের মধ্যে উত্তম হলো তারা, যারা স্ত্রীদের কাছে উত্তম। (সুনানে তিরমিজি)

আরেকটি হাদিসে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, নারীদের প্রতি কল্যাণের (ও সদাচরণের) উপদেশ অঙ্গীকার গ্রহণ কর। পাজরের হাঁড়ের সবচেয়ে বেশি বাঁকা হল এর ওপরের অংশ। তুমি তাকে সোজা করতে গেলে তা ভেঙ্গে ফেলবে। আর তাকে যথাবস্থায় রাখলে তা সদা বাঁকাই থেকে যাবে। নারীদের প্রতি কল্যাণের উপদেশ গ্রহণ কর। (সহিহ ‍বুখারি)

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকসহ দুই স্বাস্থ্যকর্মীকে বরখাস্ত করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বহুবিবাহে সমতার শর্ত, যা জানা জরুরি

আপডেট সময় ০৬:২৮:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

ইসলাম একাধিক বিয়ের অনুমতি দিয়েছে সব স্ত্রীর হক সমানভাবে, কোন ধরনের বৈষম্য ছাড়া আদায় করতে পারার শর্তে। সব স্ত্রীর মধ্যে সমতা বজায় রাখতে না পারলে, কিংবা হক আদায় করতে না পারলে একাধিক বিয়ে করা জায়েজ নয়।

আল্লাহ তাআলা বলেন, নারীদের মধ্যে যাদের ভাল লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন, কিংবা চারটি পর্যন্ত। আর যদি ভয় কর যে, তোমরা সমান আচরণ করতে পারবে না, তাহলে একটিই। (সুরা নিসা: ৩)

একাধিক স্ত্রী থাকলে তাদের মধ্যে সমতা বজায় না রাখা হারাম ও কবিরা গুনাহ । সব স্ত্রীর প্রতি সমান আচরণ না করলে আখেরাতে ভয়াবহ শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত নবীজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যার দুইজন স্ত্রী আছে আর সে তার মধ্যে একজনের প্রতি অধিক ঝুঁকে পড়ে, সে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন বিকলাঙ্গ অবস্থায় উঠবে। (সুনানে আবু দাউদ)

স্ত্রীদের মধ্যে সমতা রক্ষার মানে হলো, তাদের বাসস্থান, খাদ্য-পানীয়, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং রাত্রি যাপনের ব্যাপারে সমতা বজায় রাখতে হবে। সব স্ত্রীকে একই মানের বাসস্থানে রাখতে হবে, তাদের জন্য একই মানের খাবার ও পোশাকের ব্যবস্থা করতে হবে। সব স্ত্রীর সঙ্গে সমান সংখ্যক রাত কাটাতে হবে।

স্ত্রীদের মধ্যে কারো প্রতি মনের টান বা ভালোবাসা বেশি থাকতে পারে, এটা ‍পাপ নয়, যেহেতু মনের টান মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকে না।

আল্লাহ্ তাআলা বলেন, আর তোমরা যতই কামনা কর না কেন তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে (সার্বিকভাবে) সমান আচরণ করতে কখনো পারবে না। সুতরাং তোমরা (একজনের প্রতি) সম্পূর্ণরূপে ঝুঁকে পড়ো না, যার ফলে তোমরা (আরেকজনকে) ঝুলন্তের মত করে রাখবে। আর যদি তোমরা মীমাংসা করে নাও এবং তাকওয়া অবলম্বন কর, তবে নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সুরা নিসা: ১২৯)

তবে কোনো স্ত্রীর প্রতি বেশি ভালোবাসা যেন অন্য এক/একাধিক স্ত্রীর ওপর জুলুম করতে উৎসাহিত না করে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। যদি ভালোবাসার কারণে সব সময় এক স্ত্রীরই আবদার-আবেদন রক্ষা করা হয়, তার কাছেই বেশি বেশি রাত্রি যাপন করা হয়, একজনকে বেশিরভাগ সময় নিজের কাছে রেখে অন্য এক বা একাধিক স্ত্রীকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়, তাহলে তা অসমতা গণ্য হবে এবং আখেরাতে ভয়াবহ শাস্তির কারণ হবে।

দ্বিতীয় বিয়ের জন্য প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিতে হবে?

ইসলামে দ্বিতীয় বিয়ের জন্য প্রথম স্ত্রীর কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া অপরিহার্য নয়। অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলেও বিয়ে শুদ্ধ হয়ে যাবে। তবে স্ত্রীর প্রতি সদাচারের অংশ হিসেবে দ্বিতীয় বিয়ের প্রয়োজনীয়তা স্ত্রীকে বুঝিয়ে অনুমতি নেওয়া স্বামীর নৈতিক কর্তব্য। যেহেতু স্ত্রীর প্রতি সর্বক্ষেত্রে ন্যায় ও উত্তম আচরণ করা স্বামীর দায়িত্ব, স্ত্রীকে খুশি রাখাও স্বামীর একটি দায়িত্ব।

আল্লাহ তাআলা বলেন, তাদের সাথে দয়া ও সততার সঙ্গে জীবন যাপন কর, যদি তাদেরকে না-পছন্দ কর, তবে হতে পারে যে তোমরা যাকে না-পছন্দ করছ, তারই মধ্যে আল্লাহ বহু কল্যাণ দিয়ে রেখেছেন। (সুরা নিসা: ১৯)

আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, মুমিনদের মধ্যে ইমানে সে ব্যক্তি পরিপূর্ণ, যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর। আপনাদের মধ্যে উত্তম হলো তারা, যারা স্ত্রীদের কাছে উত্তম। (সুনানে তিরমিজি)

আরেকটি হাদিসে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, নারীদের প্রতি কল্যাণের (ও সদাচরণের) উপদেশ অঙ্গীকার গ্রহণ কর। পাজরের হাঁড়ের সবচেয়ে বেশি বাঁকা হল এর ওপরের অংশ। তুমি তাকে সোজা করতে গেলে তা ভেঙ্গে ফেলবে। আর তাকে যথাবস্থায় রাখলে তা সদা বাঁকাই থেকে যাবে। নারীদের প্রতি কল্যাণের উপদেশ গ্রহণ কর। (সহিহ ‍বুখারি)