সংবাদ শিরোনাম ::
সরকারের উচ্চপদস্থদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ পোস্ট, গ্রেপ্তার ৬ ‘অর্থনীতিতে সিএমএসএমই খাতের অবদান ৬০ শতাংশের বেশি করতে হবে : শিল্পমন্ত্রী একাধিক দুর্নীতি মামলার আসামি তবুও সিডিএর ক্ষমতাধর কর্মকর্তা হাসান! পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আইওএম মিশন প্রধানের বৈঠক দুই মাস পর আবারও শুরু চাল বিতরণ, সুবিধা পাচ্ছে ১৭ হাজার পরিবার বরগুনায় চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাধারণ সভা-২০২৬ অনুষ্ঠিত পানি প্রকল্পে ১০ কোটি টাকার লুট, কাজের আগেই কোটি টাকার বিল উত্তোলন একটি ঘরের অপেক্ষায় অসহায় রাসেল মন্ডল পরিবার-প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবন ১৬ জুলাইকে ‘শহীদ দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত : মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ডেটার স্বাধীনতা ও আস্থা বাড়াতে হবে : পরিকল্পনামন্ত্রী

কার্ড পাওয়া সেই কবির প্রকৃত কৃষক, এআই ছবি ও গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি

  • জেলা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০১:৫৩:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫৭৮ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড নেওয়া টাঙ্গাইলের কবির হোসেনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিভিন্ন মাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে তিনি প্রকৃত কৃষক কি না?

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শহিদ মারুফ স্টেডিয়ামে সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের উত্তর তারটিয়া এলাকার কৃষক কবির হোসেনের হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেওয়ার পর কবিরের এইআই জেনারেটেড ছবিসহ বিভিন্ন গুজব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে যেন আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসায় কৃষি অধিদপ্তরসহ জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকতারা কবির হোসেনের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, ওই গ্রামের মৃত আবু সাইদ মিয়ার ছেলে কবির হোসেনের নিজস্ব জমি রয়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে কৃষিকাজ করে আসছেন। স্থানীয়দের মতে, তিনি এলাকায় একজন কৃষক হিসেবেই পরিচিত। তবে তিনি কৃষি কাজের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কন্টেন্ট তৈরি করে আয় করার চেষ্টা করেন। বিষয়টি সামনে আসার পর থেকে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন কৃষকের দাবি, কবির যেহেতু বর্গাচাষ করেন এবং তার নিজস্ব জমিও রয়েছে, তাই তিনি কৃষক কার্ড পাওয়ার যোগ্য। কৃষিকাজই কবিরের মূল পেশা। তাকে নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।

কৃষক কবির হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে কুচক্রী মহল এমন করছে। আমি একজন কৃষক। কৃষি কাজের পাশাপাশি কন্টেন্ট বানিয়ে কিছু অতিরিক্ত আয় করি।

ঘারিন্দা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সৈয়দ কবিরুজ্জামান ডল বলেন, কবির হোসেন সত্যিকার একজন কৃষক। ওনার নিজস্ব ১৩ শতাংশ জমি আছে। ২০০ শতাংশ বর্গা জমি আবাদ করেন। এছাড়া গরু পালন, সবজি আবাদ ও সেচপাম্প রয়েছে।

তিনি জানান, তিনি কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নেই। ওনার এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে। মেয়েকে ১২-১৪ বছর আগে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেকে গত বছর বিদেশ পাঠিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো কাজ পায়নি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আশেক পারভেজ জানান, নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করেই কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম বলেন, আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখেছি। কবির প্রকৃতপক্ষে একজন কৃষক। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সঠিক নয়।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারের উচ্চপদস্থদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ পোস্ট, গ্রেপ্তার ৬

কার্ড পাওয়া সেই কবির প্রকৃত কৃষক, এআই ছবি ও গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি

আপডেট সময় ০১:৫৩:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড নেওয়া টাঙ্গাইলের কবির হোসেনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিভিন্ন মাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে তিনি প্রকৃত কৃষক কি না?

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শহিদ মারুফ স্টেডিয়ামে সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের উত্তর তারটিয়া এলাকার কৃষক কবির হোসেনের হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেওয়ার পর কবিরের এইআই জেনারেটেড ছবিসহ বিভিন্ন গুজব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে যেন আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসায় কৃষি অধিদপ্তরসহ জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকতারা কবির হোসেনের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, ওই গ্রামের মৃত আবু সাইদ মিয়ার ছেলে কবির হোসেনের নিজস্ব জমি রয়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে অন্যের জমি বর্গা নিয়ে কৃষিকাজ করে আসছেন। স্থানীয়দের মতে, তিনি এলাকায় একজন কৃষক হিসেবেই পরিচিত। তবে তিনি কৃষি কাজের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কন্টেন্ট তৈরি করে আয় করার চেষ্টা করেন। বিষয়টি সামনে আসার পর থেকে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন কৃষকের দাবি, কবির যেহেতু বর্গাচাষ করেন এবং তার নিজস্ব জমিও রয়েছে, তাই তিনি কৃষক কার্ড পাওয়ার যোগ্য। কৃষিকাজই কবিরের মূল পেশা। তাকে নিয়ে অযথা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে।

কৃষক কবির হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে কুচক্রী মহল এমন করছে। আমি একজন কৃষক। কৃষি কাজের পাশাপাশি কন্টেন্ট বানিয়ে কিছু অতিরিক্ত আয় করি।

ঘারিন্দা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সৈয়দ কবিরুজ্জামান ডল বলেন, কবির হোসেন সত্যিকার একজন কৃষক। ওনার নিজস্ব ১৩ শতাংশ জমি আছে। ২০০ শতাংশ বর্গা জমি আবাদ করেন। এছাড়া গরু পালন, সবজি আবাদ ও সেচপাম্প রয়েছে।

তিনি জানান, তিনি কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নেই। ওনার এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে। মেয়েকে ১২-১৪ বছর আগে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেকে গত বছর বিদেশ পাঠিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো কাজ পায়নি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আশেক পারভেজ জানান, নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করেই কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম বলেন, আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখেছি। কবির প্রকৃতপক্ষে একজন কৃষক। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সঠিক নয়।