১৯২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার রাজাপুর কহেলা গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আরফান আলী খান ছিলেন স্বাধীনতাপূর্ব বঙ্গ-ভারত উপমহাদেশের একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী। তাদের বাড়ি দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটী গ্রামে।
তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে শওকত আলী খান ছিলেন মেজো। তাঁর বড় ভাইয়ের নাম হাজী আমজাদ খান মায়া, ছোটভাই আলী আরফান ও বোন মারিয়ম হাসিনা সংসদ সদস্য ছিলেন।
শওকত আলী খান শৈশবে পিতার ব্যবসা কর্মস্থল বার্মার রেঙ্গুন হতে বাল্যশিক্ষা লাভকরেন। ১৯৪২ সালে এন্ট্রান্স পাস করেন। কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ হতে ইন্টারমিডিয়েট, স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে বিএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার্থে লন্ডন গমন করেন। লন্ডনের লিংকনস ইন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যারিস্টারি (বার-এট-ল) ডিগ্রি লাভ করেন।
দেশে ফিরে ১৯৫৬ সালে ঢাকা হাইকোর্ট ও ১৯৬১ সালে পাকিস্তান সুপ্রিমকোর্টে আইন পেশা শুরু করেন। সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ছিলেন।
তিনি ১৯৭০ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মির্জাপুর-নাগরপুর আসনে আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পাকিস্তান কেন্দ্রীয় পরিষদের সদস্য ছিলেন।
তিনি হামদর্দ (ওয়াকফ) বাংলাদেশের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান, কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গল (বিডি) লিমিটেডের অন্যতম পরিচালক, সাপ্তাহিক জনতার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ছিলেন। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত ওতোপ্রোতভাবে ছিলেন।
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি, বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি, যক্ষ্মা সমিতি, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি, ঢাকা ক্লাবের আজীবন সদস্য ছিলেন।
১৯৯৬ সালে সুপ্রিমকোর্টে বার কাউন্সিলের সভাপতি নির্বাচিত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট মেম্বার এবং যাকাত বোর্ডের সম্মানিত সদস্য ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে রয়েছে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ, ছিলেন সংগঠক।
তাঁর পিতার নামে দেলদুয়ারের লাউহাটীতে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘লাউহাটী আরফান খান মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ’ ও ‘লাউহাটী আজহার উদ্দিন স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়।
কীর্তিমান মানুষটি ২০০৬ সালে ২৯ জুন মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দেশের জন্য তিনি যে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন তা স্মরণীয়।
ব্যারিস্টার শওকত আলী খানকে ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার (মরণোত্তর) ভূষিত করে সরকার।
স্টাফ রিপোর্টারঃ সাইদ আল মামুন। 






















