সংবাদ শিরোনাম ::
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য: চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি সুনামগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী আড়াল ভেঙে ফিরছেন বুবলী মাদক কারবারিদের এলাকা থেকে বিতাড়িত করার দাবিতে ফুঁসে উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের এলাকাবাসী ‘আমার সঙ্গী তো আর্জেন্টিনারই’ স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে রোনালদোর রসিকতা জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৯.১৬ শতাংশ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৩ গ্রামের সংঘর্ষ খেলা শেষ, খোদা হাফেজ : মাহফুজ আলম

সড়কের ইট উত্তোলন নিয়ে উত্তেজনা, নিলাম প্রক্রিয়া ঘিরে ভুল বোঝাবুঝি

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের মন্থনা হাটের পূর্ব দিকের সড়কের পুরাতন ইট উত্তোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা মূলত ভুল বোঝাবুঝির ফল বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, সরকারি নিয়ম মেনেই ইটগুলো নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী উত্তোলন কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলজিইডির আওতাধীন ওই সড়কটি সংস্কারের অংশ হিসেবে পুরাতন ইট অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ১২ অক্টোবর উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী সরেজমিনে গিয়ে ইটের পরিমাণ নির্ধারণ করেন। পরদিন উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে প্রাক্কলন তৈরি করে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে নিলামের মতামত দেওয়া হয়।
নিলামে মোট ১১ জন দরদাতা অংশগ্রহণ করেন। এতে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ঠিকাদার মো. রাশেদুজ্জামান রাসেল নির্বাচিত হন। তিনি সোনালী ব্যাংক গঙ্গাচড়া শাখায় ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা জমা দেওয়ার পাশাপাশি ভ্যাটসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচও পরিশোধ করেন বলে জানা গেছে।
পরবর্তীতে ঠিকাদার তার শ্রমিকদের মাধ্যমে ইট উত্তোলন শুরু করলে স্থানীয় দোকান মালিক সমিতি ও কিছু এলাকাবাসী আপত্তি জানান। তাদের দাবি, পুরাতন ইটগুলো স্থানীয় মসজিদ, মাদ্রাসা বা সামাজিক প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার করা উচিত। এ নিয়ে হাট এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান, বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং সাময়িকভাবে ইট উত্তোলন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে বড়বিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. সামছুল হুদা বলেন,
“সরকারি বিধি মেনেই নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এখানে ব্যক্তিগতভাবে কারও কিছু করার সুযোগ নেই। কিছু ব্যক্তি ভুল তথ্য ছড়িয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেছে।”
নিলামপ্রাপ্ত ঠিকাদার রাশেদুজ্জামান রাসেল বলেন,
“আমি বৈধভাবে নিলামের মাধ্যমে ইট কিনেছি এবং ব্যাংকে টাকা জমা দিয়েছি। এরপরও যদি আমাকে কেউ ইট নিতে বাধা দেয়, তাহলে আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।”
বর্তমানে ইট উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় মন্থনা হাটে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। দ্রুত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন

সড়কের ইট উত্তোলন নিয়ে উত্তেজনা, নিলাম প্রক্রিয়া ঘিরে ভুল বোঝাবুঝি

আপডেট সময় ১২:১২:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের মন্থনা হাটের পূর্ব দিকের সড়কের পুরাতন ইট উত্তোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা মূলত ভুল বোঝাবুঝির ফল বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, সরকারি নিয়ম মেনেই ইটগুলো নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী উত্তোলন কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলজিইডির আওতাধীন ওই সড়কটি সংস্কারের অংশ হিসেবে পুরাতন ইট অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ১২ অক্টোবর উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী সরেজমিনে গিয়ে ইটের পরিমাণ নির্ধারণ করেন। পরদিন উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে প্রাক্কলন তৈরি করে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে নিলামের মতামত দেওয়া হয়।
নিলামে মোট ১১ জন দরদাতা অংশগ্রহণ করেন। এতে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ঠিকাদার মো. রাশেদুজ্জামান রাসেল নির্বাচিত হন। তিনি সোনালী ব্যাংক গঙ্গাচড়া শাখায় ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা জমা দেওয়ার পাশাপাশি ভ্যাটসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচও পরিশোধ করেন বলে জানা গেছে।
পরবর্তীতে ঠিকাদার তার শ্রমিকদের মাধ্যমে ইট উত্তোলন শুরু করলে স্থানীয় দোকান মালিক সমিতি ও কিছু এলাকাবাসী আপত্তি জানান। তাদের দাবি, পুরাতন ইটগুলো স্থানীয় মসজিদ, মাদ্রাসা বা সামাজিক প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার করা উচিত। এ নিয়ে হাট এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান, বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং সাময়িকভাবে ইট উত্তোলন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে বড়বিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. সামছুল হুদা বলেন,
“সরকারি বিধি মেনেই নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এখানে ব্যক্তিগতভাবে কারও কিছু করার সুযোগ নেই। কিছু ব্যক্তি ভুল তথ্য ছড়িয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেছে।”
নিলামপ্রাপ্ত ঠিকাদার রাশেদুজ্জামান রাসেল বলেন,
“আমি বৈধভাবে নিলামের মাধ্যমে ইট কিনেছি এবং ব্যাংকে টাকা জমা দিয়েছি। এরপরও যদি আমাকে কেউ ইট নিতে বাধা দেয়, তাহলে আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।”
বর্তমানে ইট উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় মন্থনা হাটে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। দ্রুত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।