সংবাদ শিরোনাম ::
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য: চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি সুনামগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী আড়াল ভেঙে ফিরছেন বুবলী মাদক কারবারিদের এলাকা থেকে বিতাড়িত করার দাবিতে ফুঁসে উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের এলাকাবাসী ‘আমার সঙ্গী তো আর্জেন্টিনারই’ স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে রোনালদোর রসিকতা জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৯.১৬ শতাংশ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৩ গ্রামের সংঘর্ষ খেলা শেষ, খোদা হাফেজ : মাহফুজ আলম

নওগাঁর সকল ফিলিং স্টেশনে অ্যাপে মিলছে জ্বালানী তেল

ভোগান্তি ও অনিয়ম ঠেকাতে নওগাঁর ফিলিং স্টেশনে ফুয়েল ব্যবস্থাপনা অ্যাপে মিলছে জ্বালানী তেল। নওগাঁর ২৯টি ফিলিং স্টেশন থেকে হয়রানি ছাড়াই জ্বালানী তেল পেতে ও অনিয়ম ঠেকাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চালু করা হয়েছে ফুয়েল ব্যবস্থাপনা অ্যাপ। এতে করে জেলাজুড়ে জ্বালানী তেল বিতরণে বৈষম্যের সৃষ্টি না হওয়ায় স্বচ্ছতার ভিত্তিতে তেল পাওয়ায় ভোক্তাদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।
গত রোববার (৫ এপ্রিল) প্রাথমিক ভাবে সদর উপজেলার ১১টি পেট্রোল পাম্পে প্রথমবারের মতো এই কার্যক্রম শুরু করা হলেও মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) থেকে জেলার ১১টি উপজেলার সকল ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে এই অ্যাপ চালু করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। মঙ্গলবার সকালে জেলার রাণীনগর উপজেলার ৫টি ফিলিং স্টেশনে ফুয়েল ব্যবস্থাপনা অ্যাপ স্থাপনের পর তেল সরবরাহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে তেল বিতরণের কার্যক্রম তদারকি করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান।
মোটরসাইকেলে তেল নিতে আসা সদর উপজেলার হাসাইগাড়ি এলাকার হাফিজুল মন্ডল জানান, অনেকের বাইকে তেল থাকার পরেও লাইনে দাঁড়িয়ে বারবার তেল নেয়। অ্যাপসের মাধ্যমে তেল দেওয়ার ফলে কোন চালক চাইলেই আর নির্দিষ্ট পরিমাণ মোটরসাইকেল চালানোর আগে তেল নিতে পারবে না। আমরা প্রশাসনের কাছে এই অ্যাপস ব্যবস্থা কার্যকর রাখার দাবি জানাই।
জেলার বদলগাছি উপজেলার কোলা বাজার এলাকা থেকে আসা আরেক গ্রাহক আবু হাসান বলেন, তীব্র রোদে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। নতুন করে ফুয়েল অ্যাপে তথ্য দেওয়াতে বাড়তি সময় ব্যয় হচ্ছে। এটিকে কিভাবে আরো দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর করা যায় সেটি নিয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
নওগাঁর মুক্তির মোড়ের মেসার্স সাকিব ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আল আমিন বলেন, এই অ্যাপ পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসন কর্তৃক ট্রেনিং করতে হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অ্যাপসের মাধ্যমে তেল বিক্রয়ের নির্দেশনা মেনে সকাল থেকেই তেল বিক্রি করা হচ্ছে। এই মাধ্যমে কেউ চাইলেই একাধিকবার তেল নিতে পারবে না। এতে আমাদের তেল দিতেও সুবিধা হচ্ছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি)  মো. মাসুদুল হক জানান, একটি গাড়ি অ্যাপসের মাধ্যমে তেল সরবরাহ করতে মাত্র ১৫-২০ সেকেন্ড সময়ের বেশি লাগছে। তবে পরবর্তীতে অসাধু ব্যক্তিগণকে শনাক্ত করলে তারা আর লাইনে ভীড় করতে পারবে না ফলে প্রাপ্য ব্যক্তিগণ  বরং এখনকার চেয়ে অল্প সময়েই তেল পাবেন। এটি পুরোপুরি চালু হলে জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত হবে। অ্যাপটির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণে মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা কাজ করছেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, নওগাঁ জেলায় ভিন্ন আঙ্গিকে এই ফুয়েল অ্যাপ চালু করা হয়েছে। অ্যাপের মূল লক্ষ্য হলো গাড়ি প্রতি যৌক্তিক ব্যবহার সীমা নির্ধারণপূর্বক জ্বালানি তেলের কালোবাজারি, অবৈধ মজুদ এবং একাধিকবার তেল নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করা। দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র একই মোটরসাইকেল বা ভিন্ন পরিচয়ে বারবার তেল নিয়ে তা বেশি দামে বিক্রি করছিল। এই অ্যাপ চালু হওয়ায় সেই সুযোগ আর থাকছে না।
তিনি আরো জানান, এখন থেকে ফুয়েল অ্যাপ ব্যবহার করে সকল গ্রাহককে তেল নিতে হবে। এই অ্যাপের মাধ্যমে তেল নিলে গ্রাহক চাইলেই আর একাধিকবার তেল নিতে পারবেন না। গাড়িতে তেল দেওয়ার সময়, তেলের পরিমাণ, গাড়ির মাইলেস এবং লাইসেন্স নাম্বার অ্যাপে সংরক্ষিত থাকবে। একটি মোটরসাইকেল একবার ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে।
এরপর ১২৫ কিলোমিটার চালানোর পরে সেই মোটরসাইকেলে আবার তেল দেওয়া হবে। কেউ যদি ১২৫ কিলোমিটার গাড়ি না চালিয়ে অন্য পাম্পে তেল দিতে যায় তাহলে অ্যাপের মাধ্যমে সেটি ধরা পড়বে। মঙ্গলবার থেকে প্রকল্পের আওতায় জেলার সকল ফিলিং স্টেশনে এই অ্যাপ চালু করা হয়েছে। নওগাঁবাসী এই অ্যাপের মাধ্যমে উপকৃত হবেন এবং জ্বালানী তেল নিয়ে কোন অনিয়মের সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন

নওগাঁর সকল ফিলিং স্টেশনে অ্যাপে মিলছে জ্বালানী তেল

আপডেট সময় ০৪:০৭:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
ভোগান্তি ও অনিয়ম ঠেকাতে নওগাঁর ফিলিং স্টেশনে ফুয়েল ব্যবস্থাপনা অ্যাপে মিলছে জ্বালানী তেল। নওগাঁর ২৯টি ফিলিং স্টেশন থেকে হয়রানি ছাড়াই জ্বালানী তেল পেতে ও অনিয়ম ঠেকাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চালু করা হয়েছে ফুয়েল ব্যবস্থাপনা অ্যাপ। এতে করে জেলাজুড়ে জ্বালানী তেল বিতরণে বৈষম্যের সৃষ্টি না হওয়ায় স্বচ্ছতার ভিত্তিতে তেল পাওয়ায় ভোক্তাদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।
গত রোববার (৫ এপ্রিল) প্রাথমিক ভাবে সদর উপজেলার ১১টি পেট্রোল পাম্পে প্রথমবারের মতো এই কার্যক্রম শুরু করা হলেও মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) থেকে জেলার ১১টি উপজেলার সকল ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে এই অ্যাপ চালু করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। মঙ্গলবার সকালে জেলার রাণীনগর উপজেলার ৫টি ফিলিং স্টেশনে ফুয়েল ব্যবস্থাপনা অ্যাপ স্থাপনের পর তেল সরবরাহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে তেল বিতরণের কার্যক্রম তদারকি করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান।
মোটরসাইকেলে তেল নিতে আসা সদর উপজেলার হাসাইগাড়ি এলাকার হাফিজুল মন্ডল জানান, অনেকের বাইকে তেল থাকার পরেও লাইনে দাঁড়িয়ে বারবার তেল নেয়। অ্যাপসের মাধ্যমে তেল দেওয়ার ফলে কোন চালক চাইলেই আর নির্দিষ্ট পরিমাণ মোটরসাইকেল চালানোর আগে তেল নিতে পারবে না। আমরা প্রশাসনের কাছে এই অ্যাপস ব্যবস্থা কার্যকর রাখার দাবি জানাই।
জেলার বদলগাছি উপজেলার কোলা বাজার এলাকা থেকে আসা আরেক গ্রাহক আবু হাসান বলেন, তীব্র রোদে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। নতুন করে ফুয়েল অ্যাপে তথ্য দেওয়াতে বাড়তি সময় ব্যয় হচ্ছে। এটিকে কিভাবে আরো দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর করা যায় সেটি নিয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।
নওগাঁর মুক্তির মোড়ের মেসার্স সাকিব ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আল আমিন বলেন, এই অ্যাপ পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসন কর্তৃক ট্রেনিং করতে হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অ্যাপসের মাধ্যমে তেল বিক্রয়ের নির্দেশনা মেনে সকাল থেকেই তেল বিক্রি করা হচ্ছে। এই মাধ্যমে কেউ চাইলেই একাধিকবার তেল নিতে পারবে না। এতে আমাদের তেল দিতেও সুবিধা হচ্ছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি)  মো. মাসুদুল হক জানান, একটি গাড়ি অ্যাপসের মাধ্যমে তেল সরবরাহ করতে মাত্র ১৫-২০ সেকেন্ড সময়ের বেশি লাগছে। তবে পরবর্তীতে অসাধু ব্যক্তিগণকে শনাক্ত করলে তারা আর লাইনে ভীড় করতে পারবে না ফলে প্রাপ্য ব্যক্তিগণ  বরং এখনকার চেয়ে অল্প সময়েই তেল পাবেন। এটি পুরোপুরি চালু হলে জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত হবে। অ্যাপটির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণে মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা কাজ করছেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, নওগাঁ জেলায় ভিন্ন আঙ্গিকে এই ফুয়েল অ্যাপ চালু করা হয়েছে। অ্যাপের মূল লক্ষ্য হলো গাড়ি প্রতি যৌক্তিক ব্যবহার সীমা নির্ধারণপূর্বক জ্বালানি তেলের কালোবাজারি, অবৈধ মজুদ এবং একাধিকবার তেল নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করা। দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র একই মোটরসাইকেল বা ভিন্ন পরিচয়ে বারবার তেল নিয়ে তা বেশি দামে বিক্রি করছিল। এই অ্যাপ চালু হওয়ায় সেই সুযোগ আর থাকছে না।
তিনি আরো জানান, এখন থেকে ফুয়েল অ্যাপ ব্যবহার করে সকল গ্রাহককে তেল নিতে হবে। এই অ্যাপের মাধ্যমে তেল নিলে গ্রাহক চাইলেই আর একাধিকবার তেল নিতে পারবেন না। গাড়িতে তেল দেওয়ার সময়, তেলের পরিমাণ, গাড়ির মাইলেস এবং লাইসেন্স নাম্বার অ্যাপে সংরক্ষিত থাকবে। একটি মোটরসাইকেল একবার ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে।
এরপর ১২৫ কিলোমিটার চালানোর পরে সেই মোটরসাইকেলে আবার তেল দেওয়া হবে। কেউ যদি ১২৫ কিলোমিটার গাড়ি না চালিয়ে অন্য পাম্পে তেল দিতে যায় তাহলে অ্যাপের মাধ্যমে সেটি ধরা পড়বে। মঙ্গলবার থেকে প্রকল্পের আওতায় জেলার সকল ফিলিং স্টেশনে এই অ্যাপ চালু করা হয়েছে। নওগাঁবাসী এই অ্যাপের মাধ্যমে উপকৃত হবেন এবং জ্বালানী তেল নিয়ে কোন অনিয়মের সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা।