সংবাদ শিরোনাম ::
অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী ঝালকাঠি পৌর প্রশাসক ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী খেলায় ৯নং ওয়ার্ডের জয় কালিহাতীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

একদিনে ইরানকে তছনছ করার হুমকি ট্রাম্পের, আদৌ কি সম্ভব?

ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ও চুক্তি করতে সময়সীমা বেধে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যদি ইরান তার শর্তে রাজি না হয় তাহলে একদিনে ইরানকে তছনছ করে দেবেন। দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ব্রিজ ধ্বংস করে দেবেন।

তবে এটি কি আদৌ সম্ভব?

সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছিল গ্রিফিত এশিয়া ইনস্টিটিউটের ফেলো এবং অস্ট্রেলিয়ার বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা পিটার লেটনকে।

সামরিক এই বিশেষজ্ঞকে সিএনএনের সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কীভাবে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ইরানের কয়েকশ বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সম্ভবত কয়েক হাজার ব্রিজ ধ্বংস করতে পারবে?

জবাবে পিটার লেটন কিছু হিসাব-নিকাশ প্রকাশ করেছেন—

পিটার বলেছেন, তিনি হিসাব করে দেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ স্টিলথ বোম্বারের বহর একটি মিশনে একসঙ্গে দুই হাজার পাউন্ডের ৯৬টি জয়েন্ট ডাইরেক্ট অ্যাটাক বোমা বহন করতে পারে। দিনে বি-২ বোম্বারগুলো দিয়ে যদি দুটি মিশন চালানো হয় তাহলে সেগুলো ইরানে গিয়ে ১৯২টি বোমা ফেলতে পারবে।

বি-২ বোম্বারের বহরের সঙ্গে যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আরও ৪০টি এফ-১৫ বিমান অংশ নেয়, যে বিমানগুলো একেকটি ছয়টি করে ২ হাজার পাউন্ডের বোমা বহন করতে পারে। তাহলে এই ৪০টি বিমান দিয়ে ২৪০টি বোমা ইরানে ফেলা যাবে।

যার অর্থ ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যদি বড় হামলার প্রস্তুতি নেয় তাহলে একদিনে তারা সবমিলিয়ে ৩৪০টি বোমা ফেলতে পারবে।

তিনি এও বলেছেন, ৩৪০টি বোমাও যদি নির্দিষ্ট টার্গেটে আঘাত করে তা সত্ত্বেও এগুলো যে বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও ব্রিজের ব্যাপক ক্ষতি করতে পারবে সেটির নিশ্চয়তা নেই।

তার মতে, একেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র অনেক বড় জায়গা নিয়ে তৈরি। ফলে বড় ধরনের কোনো ক্ষতি করতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে খুবই সতর্কতামূলক পরিকল্পনা নিতে হবে। কারণ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তৈরিতে অনেক সময় শক্ত বস্তু ব্যবহার করতে হয়।

কিন্তু ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিকেও আবার উড়িয়ে দিচ্ছেন না অস্ট্রেলিয়ার বিমানবাহিনীর এ সাবেক কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন, “যদি আপনি ভেতরে ঢুকতে পারেন এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেনারেটরগুলোর ক্ষতি করতে পারেন এবং আর কোনো বাড়তি জেনারেটর না থাকে তাহলে আপনি অনেক ক্ষয়ক্ষতি করতে পারবেন।”

বি-২ বোম্বারের পাশাপাশি মার্কিনিরা ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালাতে বি-১ এবং বি-৫২ বোম্বার ব্যবহার করতে পারে। যেগুলোর একেকটি যথাক্রমে ২৪ ও ২০টি করে বোমা বহন করতে পারে। এই সামরিক বিশেষজ্ঞ বলেছেন, এসব বিমান হামলায় যুক্ত করলেও একরাতে ইরানকে তছনছ করে দেওয়ার ব্যাপারে তিনি সন্দিহান।

সূত্র: সিএনএন

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের

একদিনে ইরানকে তছনছ করার হুমকি ট্রাম্পের, আদৌ কি সম্ভব?

আপডেট সময় ০৩:০৫:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ও চুক্তি করতে সময়সীমা বেধে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যদি ইরান তার শর্তে রাজি না হয় তাহলে একদিনে ইরানকে তছনছ করে দেবেন। দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও ব্রিজ ধ্বংস করে দেবেন।

তবে এটি কি আদৌ সম্ভব?

সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছিল গ্রিফিত এশিয়া ইনস্টিটিউটের ফেলো এবং অস্ট্রেলিয়ার বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা পিটার লেটনকে।

সামরিক এই বিশেষজ্ঞকে সিএনএনের সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কীভাবে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ইরানের কয়েকশ বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সম্ভবত কয়েক হাজার ব্রিজ ধ্বংস করতে পারবে?

জবাবে পিটার লেটন কিছু হিসাব-নিকাশ প্রকাশ করেছেন—

পিটার বলেছেন, তিনি হিসাব করে দেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ স্টিলথ বোম্বারের বহর একটি মিশনে একসঙ্গে দুই হাজার পাউন্ডের ৯৬টি জয়েন্ট ডাইরেক্ট অ্যাটাক বোমা বহন করতে পারে। দিনে বি-২ বোম্বারগুলো দিয়ে যদি দুটি মিশন চালানো হয় তাহলে সেগুলো ইরানে গিয়ে ১৯২টি বোমা ফেলতে পারবে।

বি-২ বোম্বারের বহরের সঙ্গে যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আরও ৪০টি এফ-১৫ বিমান অংশ নেয়, যে বিমানগুলো একেকটি ছয়টি করে ২ হাজার পাউন্ডের বোমা বহন করতে পারে। তাহলে এই ৪০টি বিমান দিয়ে ২৪০টি বোমা ইরানে ফেলা যাবে।

যার অর্থ ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যদি বড় হামলার প্রস্তুতি নেয় তাহলে একদিনে তারা সবমিলিয়ে ৩৪০টি বোমা ফেলতে পারবে।

তিনি এও বলেছেন, ৩৪০টি বোমাও যদি নির্দিষ্ট টার্গেটে আঘাত করে তা সত্ত্বেও এগুলো যে বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও ব্রিজের ব্যাপক ক্ষতি করতে পারবে সেটির নিশ্চয়তা নেই।

তার মতে, একেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র অনেক বড় জায়গা নিয়ে তৈরি। ফলে বড় ধরনের কোনো ক্ষতি করতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে খুবই সতর্কতামূলক পরিকল্পনা নিতে হবে। কারণ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তৈরিতে অনেক সময় শক্ত বস্তু ব্যবহার করতে হয়।

কিন্তু ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিকেও আবার উড়িয়ে দিচ্ছেন না অস্ট্রেলিয়ার বিমানবাহিনীর এ সাবেক কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন, “যদি আপনি ভেতরে ঢুকতে পারেন এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেনারেটরগুলোর ক্ষতি করতে পারেন এবং আর কোনো বাড়তি জেনারেটর না থাকে তাহলে আপনি অনেক ক্ষয়ক্ষতি করতে পারবেন।”

বি-২ বোম্বারের পাশাপাশি মার্কিনিরা ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালাতে বি-১ এবং বি-৫২ বোম্বার ব্যবহার করতে পারে। যেগুলোর একেকটি যথাক্রমে ২৪ ও ২০টি করে বোমা বহন করতে পারে। এই সামরিক বিশেষজ্ঞ বলেছেন, এসব বিমান হামলায় যুক্ত করলেও একরাতে ইরানকে তছনছ করে দেওয়ার ব্যাপারে তিনি সন্দিহান।

সূত্র: সিএনএন