ঢাকা ১০:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

মুকসুদপুরে প্রকল্প কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উৎকোচ দাবী ও ইউপি সদস্যদের লাঞ্চনার অভিযোগ

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে উৎকোচ দাবী, গালিগালাজ ও শারীরিক লাঞ্চনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১৪নং উজানী ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক ইউপি সদস্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে “বাসুদেবপুর দাসবাড়ি থেকে উত্তর দিকে ৭০নং বাসুদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তা উন্নয়ন” প্রকল্প পরিদর্শনের সময় ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য পরিতোষ বৈদ্যের কাছে উৎকোচ দাবী করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্থানীয়দের সামনে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়াও, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের কাবিখা প্রকল্পের আওতায় “বাসুদেবপুর ওবায়দুরের বাড়ি থেকে পশ্চিমে কয়াপদা খাল পর্যন্ত মাটির রাস্তা নির্মাণ” কাজের শেষ বিলের সময় মামলার ভয় দেখিয়ে পরিতোষ বৈদ্যের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
একইভাবে, টিআর প্রকল্পের আওতায় “হেমায়েত মোল্লার বাড়ি থেকে পূর্ব দিকে সরকারি হালট হয়ে ওহাব শেখের বাড়ি পর্যন্ত মাটির রাস্তা নির্মাণ” প্রকল্পে সিপিসি মোঃ জিহাদুর রহমানের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং বন্যাহাটি ৯নং ওয়ার্ডে “জগদীশ মৃধার বাড়ি থেকে পূর্ব দিকে ওয়াপদা খাল পর্যন্ত রাস্তা পুনর্নির্মাণ” প্রকল্পে সিপিসি জয়দেব মন্ডলের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যদের গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করা হয়। এমনকি স্থানীয়রা বাধা দিতে গেলে ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কানাই মুখাকেও লাঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের “১৭৬নং পার্টিকেলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট” প্রকল্প পরিদর্শনের সময় সংরক্ষিত মহিলা সদস্য শিফুল বিশ্বাসের কাছেও উৎকোচ দাবী করা হয়। তিনি রাজি না হলে তাকেও অপমান ও লাঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে ইউনিয়নের একাধিক ইউপি সদস্য—পল্লব চৌধুরী, দীপংকর বিশ্বাস, মৃদুল বিশ্বাস, পলি বিশ্বাস, ত্রিনাথ পাণ্ডে ও পংকজ হালদারের কাছ থেকেও মামলার ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারী ইউপি সদস্যরা জানান, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে এ ধরনের আচরণ তাদের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক ও দুঃখজনক। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগটি জমা দেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিশ্ব শ্রমিক দিবসে কুমিল্লায় তরুণদের ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ

মুকসুদপুরে প্রকল্প কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উৎকোচ দাবী ও ইউপি সদস্যদের লাঞ্চনার অভিযোগ

আপডেট সময় ০৩:১৫:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে উৎকোচ দাবী, গালিগালাজ ও শারীরিক লাঞ্চনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ১৪নং উজানী ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক ইউপি সদস্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে “বাসুদেবপুর দাসবাড়ি থেকে উত্তর দিকে ৭০নং বাসুদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তা উন্নয়ন” প্রকল্প পরিদর্শনের সময় ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য পরিতোষ বৈদ্যের কাছে উৎকোচ দাবী করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্থানীয়দের সামনে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়াও, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের কাবিখা প্রকল্পের আওতায় “বাসুদেবপুর ওবায়দুরের বাড়ি থেকে পশ্চিমে কয়াপদা খাল পর্যন্ত মাটির রাস্তা নির্মাণ” কাজের শেষ বিলের সময় মামলার ভয় দেখিয়ে পরিতোষ বৈদ্যের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
একইভাবে, টিআর প্রকল্পের আওতায় “হেমায়েত মোল্লার বাড়ি থেকে পূর্ব দিকে সরকারি হালট হয়ে ওহাব শেখের বাড়ি পর্যন্ত মাটির রাস্তা নির্মাণ” প্রকল্পে সিপিসি মোঃ জিহাদুর রহমানের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা এবং বন্যাহাটি ৯নং ওয়ার্ডে “জগদীশ মৃধার বাড়ি থেকে পূর্ব দিকে ওয়াপদা খাল পর্যন্ত রাস্তা পুনর্নির্মাণ” প্রকল্পে সিপিসি জয়দেব মন্ডলের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যদের গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করা হয়। এমনকি স্থানীয়রা বাধা দিতে গেলে ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কানাই মুখাকেও লাঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের “১৭৬নং পার্টিকেলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট” প্রকল্প পরিদর্শনের সময় সংরক্ষিত মহিলা সদস্য শিফুল বিশ্বাসের কাছেও উৎকোচ দাবী করা হয়। তিনি রাজি না হলে তাকেও অপমান ও লাঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে ইউনিয়নের একাধিক ইউপি সদস্য—পল্লব চৌধুরী, দীপংকর বিশ্বাস, মৃদুল বিশ্বাস, পলি বিশ্বাস, ত্রিনাথ পাণ্ডে ও পংকজ হালদারের কাছ থেকেও মামলার ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারী ইউপি সদস্যরা জানান, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে এ ধরনের আচরণ তাদের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক ও দুঃখজনক। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগটি জমা দেন।