ঢাকা ০৩:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রংপুরে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও কাগজপত্র ছাড়া জ্বালানি তেল সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা ফুলবাড়ীতে সর্দি, জ্বর ও ডায়েরিয়ার প্রাদুর্ভাবে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেড়েছে রোগীর চাপ বুকজুড়ে সবুজের সমারোহ কৃষকের মুখে হাসি  নোয়াখালী জেলা ক্রীড়া সংস্থার কারাতে কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে আশরাফুল আলম সুমনকে ফুলেল শুভেচ্ছা নির্বাচন কমিশন ও শ্রম অধিদপ্তরের বিধি-বিধান অমান্য করায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির ৮ সদস্যকে বহিষ্কার নওগাঁয় গ্যারেজে থাকা বাসের  ভেতর থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার রামপাল প্রেসক্লাবে আহ্বায়ক কমিটি গঠন দুর্নীতির অভিযোগ: পদত্যাগ করেছেন হাইকোর্টের বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান শার্শায় পিআইও’র বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ: তদন্তের দাবি বরখাস্ত প্রত্যাহার করতে যমুনা অয়েল কর্তৃপক্ষকে সিবিএ নেতা এয়াকুবের অব্যাহত চাপ

রাঙ্গামাটি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেলিম মাহমুদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

রাঙ্গামাটি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তিনি রাঙ্গামাাটিতে ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই রাতারাতি ফ্লাটবাড়ি ও জমিসহ একতলা ভবনের মালিক বনে গেছেন। তিন ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কর্মসূচীর ডিলার ও মিলার এবং পরিবহণ ঠিকাদারের কাছ থেকে অবৈধভাবে আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন প্রতিমাসে। একইভাবে জেলার ১০ উপজেলার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এবং উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও প্রতি মেট্রিক টনে ঘুষ নিচ্ছেন তিনি। তাঁকে ঘুষ না দিলে তিনি কোন অফিসের কাজের ফাইলে স্বাক্ষর করেননা। এতে করে তিনি রাতারাতি ফ্লাটবাড়ি ও জমিসহ একতলা ভবণের মালিক বনে গেছেন। তাঁর কথার অবাধ্য হলে অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথেও দুর্বব্যবহারসহ নানা হয়রানি ও ষড়যন্ত্র করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে ও গোপন সূত্রে জানা যায়, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) সেলিম মাহমুদ সাগর প্রতি ওএমএস ডিলার থেকে চাল প্রতি কেজিতে ২ টাকা ও গমের আটা প্রতি কেজি থেকে ৪ টাকা করে অবৈধ আর্থিক সুবিধা নিয়ে থাকেন। ওএমএস ডিলার বাবুল মিয়ার ডিলার প্রতিনিধি মো: শরীফুল ইসলাম শাকিল চালের ঘুষের টাকা প্রতি মাসের শেষে ওএমএস ডিলারদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে দিয়ে থাকেন বলে কয়েকজন ডিলার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অভিযোগ করেন। তবে ওএমএস ডিলার সমিতির সভাপতি ও রাঙ্গামাটি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম সাকিল ঘুষ নেয়া- দেয়া বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করেন।
অপরদিকে, গমের আটার ঘুষের টাকা মাসের শেষে সরাসরি মিলারের কাছ থেকে জেলা খাদ্য নিয়স্ত্রক নিয়ে থাকেন বলে জানা গেছে।
খোজ নিয়ে জানাগেছে, তিনি জেলার ১০ উপজেলার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকদের কাছ থেকে খাদ্যশস্য ডিও থেকে প্রতি মেট্রিক টনে ১০০ টাকা এবং উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে ঘুষ নিচ্ছেন। পার্বত্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদে বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্যের প্রতি ডিও থেকেও তিনি ১৫০-৫০০ টাকা ঘুষ নিয়ে থাকেন বলেও গোপন সূত্রে জানা গেছে। জেলায় সড়ক ও নৌ-পরিবহণ ঠিকাদার রয়েছে মোট ৫০জন। সরকারী নিয়মানুযায়ী প্রতি দুই বছর পর পর নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিতে হয়। কিন্তু জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেই সরকারী নিয়মকে তোয়াক্কা না করে তিন মাস অন্তর অন্তর ঠিকাদারদের ধারাবাহিক চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করে চলছে। এর বিনিময়ে তিনি প্রত্যেক ঠিকাদারের কাছ থেকে ১০হাজার টাকা করে অবৈধ আর্থিক সুবিধা নিয়ে থাকেন। আর এই ঘুষের টাকা তিনি কারিগরী খাদ্য পরিদর্শক জাহিদ হোসেনের মাধ্যমে নিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই জাহিদ হোসেন কারিগরী খাদ্য পরিদর্শক হয়েও দীর্ঘদিন যাবৎ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসে হিসাব শাখায় কর্মরত রয়েছেন। নিয়মানুযায়ী ডিসি ফুড অফিসে হিসাব শাখায় তার কোন কাজ থাকার কথা নয় বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।
সেলিম মাহমুদ সাগরের দুর্নীতি এখানেই থেমে নেই। জেলার সব গুদামে ঠিকাদার না থাকায় সকল গুদামের শ্রমিক বিল জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিজের নামে করে থাকেন এবং এই শ্রমিকের বিল থেকে তিনি শতকরা ১০ভাগ করে ঘুষের টাকা কর্তন করে রাখেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তিনি গুদামের শ্রমিকদেরকেও সময়মত বিল দেননা। অনেক ঘুরাঘুরির পর বিল দেন বলে জানা গেছে। এতে প্রতি মাসে গড়ে ১২ লাখ টাকা শ্রমিকের বিল আসে বলে গুদামের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে।
এছাড়া, তিনি পরিবহণ ঠিকাদারদের বিল থেকেও শতকরা ১০ ভাগ টাকা ঘুষ হিসেবে কর্তন করে রেখে দিয়ে নিজের পকেটস্থ করে থাকেন।গোপন সূত্রের অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জেলা সদরে আলম ডকইয়ার্ড এলাকায় ৪৫ লক্ষ টাকা দিয়ে একটি ফ্লাটবাড়ি কিনেছেন এবং জমিসহ আরো একটি একতলা ভবণ ২৯লাখ টাকায় ক্রয় করেছেন একই স্থানে। যা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সহসায় সত্যতা বেড়িয় আসবে।
খোজ নিয়ে জানা যায়, সরকারী নিয়মানুযায়ী মিলাররা গমের আটা মিল থেকে এনে জেলা সদরের খাদ্য গুদামে মজুদ করে গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা। কিন্তু মিলাররা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সাথে যোগসাজশ করে সরকারী নির্দেশনা লঙ্ঘন করে তারা তাদের মিল থেকে সরাসরি ওএমএস এর দোকানে আটা সাপ্লাই দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।জানা যায়, সরকারী নিয়মানুযায়ী মিলাররা গমের আটা মিল থেকে এনে জেলা সদরের খাদ্য গুদামে মজুদ করে গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা। কিন্তু মিলাররা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সাথে যোগসাজশ করে সরকারী নির্দেশনা লঙ্ঘন করে তারা তাদের মিল থেকে সরাসরি ওএমএস এর দোকানে আটা সাপ্লাই দিচ্ছেন। ফলে গমের আটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া নিম্ন মানের আটা সাপ্লাই দিচ্ছেন মিলারগণ।এ ব্যাপারে মেসার্স প্যারামাউন্ট অটো ফ্লাওয়ার মিলের মালিক তপন কান্তি পালের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাড়তি খরচ বাঁচানোর জন্য তারা মিল থেকে সরাসরি ওএমএস এর দোকানে আটা সাপ্লাই দিচ্ছেন। মিল থেকে খাদ্য গুদামে আটা মজুদ করে আবার গুদাম থেকে ওএমএস এর দোকানে আটা সাপ্লাই করতে গেলে বাড়তি পরিবহণ খরচ লাগে। সরকারী নির্দেশনা কেন ভঙ্গ করছেন জিজ্ঞেস করলে তপন আরো জানান যে, তারা না কি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সাথে কথা বলে একাজ করতেছেন।
খোজ নিয়ে জানা গেছে যে, সর্ম্পূণ নিয়ম বহির্ভূতভাবে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেলিম মাহমুদ সাগর ওএমএস ডিলারদের প্রতিটি ওএমএস কেন্দ্রে ডিলারদের নিজ খরচে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে বাধ্য করেন এবং সেইসব সিসিটিভি ক্যামেরা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিজের ব্যাক্তিগত মোবাইল ফোনের এপস ও ল্যাপটপ কম্পিউটারের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করে থাকেন। মূলত: ডিলাররা যাতে খাদ্য নিয়ন্ত্রককে নিয়মিত ঘুষের টাকা প্রদান করেন সেজন্য এই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে বলে সকলেই ধারণা করছেন। এতে বাড়তি টাকা খরচ করতে হয়েছিল বলে ডিলারদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিশান চাকমা বলেছেন, ওএমএস কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করার জন্য সরকারী কোন নির্দেশনা আছে বলে তাঁর জানা নেই।

এছাড়া ডিলারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, ওএমএস এর সকল ডিলারগণ গুদাম থেকে মাল উত্তোলনের সময় গুদামে আসেননা। তারা সরকারী নিয়ম না মেনে তাদের প্রতিনিধি অর্থাৎ ডিলার প্রতিনিধিদের দিয়ে মাল উত্তোলন করে থাকেন বলে বলেছেন রাঙ্গামটি সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেকুল আলম।

এ ব্যাপারে ওএমএস ডিলার মো: বাবুল মিয়াকে বারংবার মুঠো ফোনে কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে তাঁর ছেলে মো: মাহবুব ফোন রিসিভ করলে তার বাবা বাড়িতে নেই বলেন এবং তিনি চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গেছেন বলেছেন তার ছেলে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্র মতে, রাঙ্গামাটি জেলা সদরে পৌরসভা এলাকায় মোট ওএমএস ডিলার ১২ জন এবং ওএমএস কেন্দ্র ১২টি। অফিস খোলার দিনে ওএমএস কেন্দ্র গুলিতে প্রতি সপ্তাহে ৫দিন চাল ও গমের আটা বিক্রি করা হয়। এতে চাল প্রতি কেজি ৩০ টাকা ও গমের আটা প্রতি কেজি ২৪ টাকা করে সরকারীভাবে দর ধার্য করা হয়েছে। ওএমএস কেন্দ্রে বিক্রির জন্য প্রতিদিন প্রত্যেক ডিলারকে প্রতি দিন ১ মেট্রিক টন চাল ও ১মেট্রিক টন গমের আটা প্রদান করা হয়ে থাকে। এতে গমের আটা সাপ্লাই দিচ্ছেন জেলার দুইজন মিলার–মেসার্স প্যারামাউন্ট অটো ফ্লাওয়ার মিল এর মালিক তপন কান্তি পাল ও মেসার্স রাঙ্গামাটি অটো ফ্লাওয়ার মিল এর মালিক মিঠুন সাহা।

অভিযোগের বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) সেলিম মাহমুদ সাগর এর কাছে জানতে বার বার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভি করেনি।সেলিম মাহমুদ সাগরের বিরুদ্ধে সীমাহীন অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে ক্ষুদে বার্তায় পাঠানো হলেও তিনি জবাব দেয়নি।পাল্টা ল্টি অভিযোগের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। রাঙামাটি সদর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) তারেকুলের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযোগ প্রতিবেদকের হাতে আসছে।তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) তারেকুল আলম বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয় বলে জানান। এসব অভিযোগ ষড়যন্ত্র মুলক বলে ব্যাখা দিয়েছেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুরে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও কাগজপত্র ছাড়া জ্বালানি তেল সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা

রাঙ্গামাটি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেলিম মাহমুদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

আপডেট সময় ০১:৫৩:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬

রাঙ্গামাটি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তিনি রাঙ্গামাাটিতে ভারপ্রাপ্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই রাতারাতি ফ্লাটবাড়ি ও জমিসহ একতলা ভবনের মালিক বনে গেছেন। তিন ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কর্মসূচীর ডিলার ও মিলার এবং পরিবহণ ঠিকাদারের কাছ থেকে অবৈধভাবে আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন প্রতিমাসে। একইভাবে জেলার ১০ উপজেলার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এবং উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও প্রতি মেট্রিক টনে ঘুষ নিচ্ছেন তিনি। তাঁকে ঘুষ না দিলে তিনি কোন অফিসের কাজের ফাইলে স্বাক্ষর করেননা। এতে করে তিনি রাতারাতি ফ্লাটবাড়ি ও জমিসহ একতলা ভবণের মালিক বনে গেছেন। তাঁর কথার অবাধ্য হলে অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথেও দুর্বব্যবহারসহ নানা হয়রানি ও ষড়যন্ত্র করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে ও গোপন সূত্রে জানা যায়, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) সেলিম মাহমুদ সাগর প্রতি ওএমএস ডিলার থেকে চাল প্রতি কেজিতে ২ টাকা ও গমের আটা প্রতি কেজি থেকে ৪ টাকা করে অবৈধ আর্থিক সুবিধা নিয়ে থাকেন। ওএমএস ডিলার বাবুল মিয়ার ডিলার প্রতিনিধি মো: শরীফুল ইসলাম শাকিল চালের ঘুষের টাকা প্রতি মাসের শেষে ওএমএস ডিলারদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে দিয়ে থাকেন বলে কয়েকজন ডিলার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অভিযোগ করেন। তবে ওএমএস ডিলার সমিতির সভাপতি ও রাঙ্গামাটি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম সাকিল ঘুষ নেয়া- দেয়া বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করেন।
অপরদিকে, গমের আটার ঘুষের টাকা মাসের শেষে সরাসরি মিলারের কাছ থেকে জেলা খাদ্য নিয়স্ত্রক নিয়ে থাকেন বলে জানা গেছে।
খোজ নিয়ে জানাগেছে, তিনি জেলার ১০ উপজেলার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকদের কাছ থেকে খাদ্যশস্য ডিও থেকে প্রতি মেট্রিক টনে ১০০ টাকা এবং উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ২০০ টাকা করে ঘুষ নিচ্ছেন। পার্বত্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদে বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্যের প্রতি ডিও থেকেও তিনি ১৫০-৫০০ টাকা ঘুষ নিয়ে থাকেন বলেও গোপন সূত্রে জানা গেছে। জেলায় সড়ক ও নৌ-পরিবহণ ঠিকাদার রয়েছে মোট ৫০জন। সরকারী নিয়মানুযায়ী প্রতি দুই বছর পর পর নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিতে হয়। কিন্তু জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেই সরকারী নিয়মকে তোয়াক্কা না করে তিন মাস অন্তর অন্তর ঠিকাদারদের ধারাবাহিক চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করে চলছে। এর বিনিময়ে তিনি প্রত্যেক ঠিকাদারের কাছ থেকে ১০হাজার টাকা করে অবৈধ আর্থিক সুবিধা নিয়ে থাকেন। আর এই ঘুষের টাকা তিনি কারিগরী খাদ্য পরিদর্শক জাহিদ হোসেনের মাধ্যমে নিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই জাহিদ হোসেন কারিগরী খাদ্য পরিদর্শক হয়েও দীর্ঘদিন যাবৎ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসে হিসাব শাখায় কর্মরত রয়েছেন। নিয়মানুযায়ী ডিসি ফুড অফিসে হিসাব শাখায় তার কোন কাজ থাকার কথা নয় বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।
সেলিম মাহমুদ সাগরের দুর্নীতি এখানেই থেমে নেই। জেলার সব গুদামে ঠিকাদার না থাকায় সকল গুদামের শ্রমিক বিল জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিজের নামে করে থাকেন এবং এই শ্রমিকের বিল থেকে তিনি শতকরা ১০ভাগ করে ঘুষের টাকা কর্তন করে রাখেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তিনি গুদামের শ্রমিকদেরকেও সময়মত বিল দেননা। অনেক ঘুরাঘুরির পর বিল দেন বলে জানা গেছে। এতে প্রতি মাসে গড়ে ১২ লাখ টাকা শ্রমিকের বিল আসে বলে গুদামের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে।
এছাড়া, তিনি পরিবহণ ঠিকাদারদের বিল থেকেও শতকরা ১০ ভাগ টাকা ঘুষ হিসেবে কর্তন করে রেখে দিয়ে নিজের পকেটস্থ করে থাকেন।গোপন সূত্রের অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জেলা সদরে আলম ডকইয়ার্ড এলাকায় ৪৫ লক্ষ টাকা দিয়ে একটি ফ্লাটবাড়ি কিনেছেন এবং জমিসহ আরো একটি একতলা ভবণ ২৯লাখ টাকায় ক্রয় করেছেন একই স্থানে। যা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সহসায় সত্যতা বেড়িয় আসবে।
খোজ নিয়ে জানা যায়, সরকারী নিয়মানুযায়ী মিলাররা গমের আটা মিল থেকে এনে জেলা সদরের খাদ্য গুদামে মজুদ করে গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা। কিন্তু মিলাররা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সাথে যোগসাজশ করে সরকারী নির্দেশনা লঙ্ঘন করে তারা তাদের মিল থেকে সরাসরি ওএমএস এর দোকানে আটা সাপ্লাই দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।জানা যায়, সরকারী নিয়মানুযায়ী মিলাররা গমের আটা মিল থেকে এনে জেলা সদরের খাদ্য গুদামে মজুদ করে গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা। কিন্তু মিলাররা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সাথে যোগসাজশ করে সরকারী নির্দেশনা লঙ্ঘন করে তারা তাদের মিল থেকে সরাসরি ওএমএস এর দোকানে আটা সাপ্লাই দিচ্ছেন। ফলে গমের আটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া নিম্ন মানের আটা সাপ্লাই দিচ্ছেন মিলারগণ।এ ব্যাপারে মেসার্স প্যারামাউন্ট অটো ফ্লাওয়ার মিলের মালিক তপন কান্তি পালের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাড়তি খরচ বাঁচানোর জন্য তারা মিল থেকে সরাসরি ওএমএস এর দোকানে আটা সাপ্লাই দিচ্ছেন। মিল থেকে খাদ্য গুদামে আটা মজুদ করে আবার গুদাম থেকে ওএমএস এর দোকানে আটা সাপ্লাই করতে গেলে বাড়তি পরিবহণ খরচ লাগে। সরকারী নির্দেশনা কেন ভঙ্গ করছেন জিজ্ঞেস করলে তপন আরো জানান যে, তারা না কি জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সাথে কথা বলে একাজ করতেছেন।
খোজ নিয়ে জানা গেছে যে, সর্ম্পূণ নিয়ম বহির্ভূতভাবে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেলিম মাহমুদ সাগর ওএমএস ডিলারদের প্রতিটি ওএমএস কেন্দ্রে ডিলারদের নিজ খরচে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে বাধ্য করেন এবং সেইসব সিসিটিভি ক্যামেরা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিজের ব্যাক্তিগত মোবাইল ফোনের এপস ও ল্যাপটপ কম্পিউটারের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করে থাকেন। মূলত: ডিলাররা যাতে খাদ্য নিয়ন্ত্রককে নিয়মিত ঘুষের টাকা প্রদান করেন সেজন্য এই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে বলে সকলেই ধারণা করছেন। এতে বাড়তি টাকা খরচ করতে হয়েছিল বলে ডিলারদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিশান চাকমা বলেছেন, ওএমএস কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করার জন্য সরকারী কোন নির্দেশনা আছে বলে তাঁর জানা নেই।

এছাড়া ডিলারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, ওএমএস এর সকল ডিলারগণ গুদাম থেকে মাল উত্তোলনের সময় গুদামে আসেননা। তারা সরকারী নিয়ম না মেনে তাদের প্রতিনিধি অর্থাৎ ডিলার প্রতিনিধিদের দিয়ে মাল উত্তোলন করে থাকেন বলে বলেছেন রাঙ্গামটি সদর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেকুল আলম।

এ ব্যাপারে ওএমএস ডিলার মো: বাবুল মিয়াকে বারংবার মুঠো ফোনে কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে তাঁর ছেলে মো: মাহবুব ফোন রিসিভ করলে তার বাবা বাড়িতে নেই বলেন এবং তিনি চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গেছেন বলেছেন তার ছেলে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্র মতে, রাঙ্গামাটি জেলা সদরে পৌরসভা এলাকায় মোট ওএমএস ডিলার ১২ জন এবং ওএমএস কেন্দ্র ১২টি। অফিস খোলার দিনে ওএমএস কেন্দ্র গুলিতে প্রতি সপ্তাহে ৫দিন চাল ও গমের আটা বিক্রি করা হয়। এতে চাল প্রতি কেজি ৩০ টাকা ও গমের আটা প্রতি কেজি ২৪ টাকা করে সরকারীভাবে দর ধার্য করা হয়েছে। ওএমএস কেন্দ্রে বিক্রির জন্য প্রতিদিন প্রত্যেক ডিলারকে প্রতি দিন ১ মেট্রিক টন চাল ও ১মেট্রিক টন গমের আটা প্রদান করা হয়ে থাকে। এতে গমের আটা সাপ্লাই দিচ্ছেন জেলার দুইজন মিলার–মেসার্স প্যারামাউন্ট অটো ফ্লাওয়ার মিল এর মালিক তপন কান্তি পাল ও মেসার্স রাঙ্গামাটি অটো ফ্লাওয়ার মিল এর মালিক মিঠুন সাহা।

অভিযোগের বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) সেলিম মাহমুদ সাগর এর কাছে জানতে বার বার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভি করেনি।সেলিম মাহমুদ সাগরের বিরুদ্ধে সীমাহীন অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে ক্ষুদে বার্তায় পাঠানো হলেও তিনি জবাব দেয়নি।পাল্টা ল্টি অভিযোগের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। রাঙামাটি সদর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) তারেকুলের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযোগ প্রতিবেদকের হাতে আসছে।তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) তারেকুল আলম বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয় বলে জানান। এসব অভিযোগ ষড়যন্ত্র মুলক বলে ব্যাখা দিয়েছেন।