সংবাদ শিরোনাম ::
আগস্টে ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চালু হচ্ছে: রেলমন্ত্রী কুলির চরিত্রে পর্দায় ফিরছেন ওমর সানী প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে উসকানির আভাস পাচ্ছি : রিজভী গ্যালারিতে বসে দেশসেরা খুদে ফুটবলারদের খেলা দেখছেন প্রধানমন্ত্রী নওগাঁ টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন কমিশন গঠন সভা অনুষ্ঠিত মুকসুদপুরে জাল নোট প্রচলন প্রতিরোধে জন সচেতনতা বৃদ্ধিমুলক ওয়ার্কসপ কিশোর নিবিরের প্রেমের বিয়ে, ৮ মাস পর রহস্যজনক মৃত্যু  কোটালীপাড়ায় নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণ দৈনিক আমাদের মাতৃভূমির চট্টগ্রাম ব্যুরো চিফ মুরাদকে অব্যাহতি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে গঙ্গাচড়ায় হাজারো মানুষের মানববন্ধন

জালিয়াতি ও লুটপাটে আঙুল ফুলে কলাগাছ ওয়াসার প্রকৌশলী জুনায়েদ

ঢাকা ওয়াসার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিতর্কিত ‘কর্পোরেট মাফিয়া’ হিসেবে পরিচিত তাকসিম এ খানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী জুনায়েদ আবু ইয়াসিরের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের পাহাড়সম অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্পের সাবেক এই নির্বাহী প্রকৌশলী এবং বর্তমানে মডস্ জোন-৯ এ কর্মরত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ—তিনি বিগত আওয়ামী স্বৈরাচারী সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে ওয়াসায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জুনায়েদ আবু ইয়াসির মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নিলেও তার সেই সনদ নিয়েও রয়েছে গুরুতর জালিয়াতির অভিযোগ।

তাকসিম এ খানের দুর্নীতির প্রধান সারথী হিসেবে পরিচিত এই প্রকৌশলী গত দেড় দশকে অঢেল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, রাজধানীর খিলগাঁওয়ের সি-ব্লকে সেবা হোল্ডিংয়ের পঞ্চম তলায় দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, মোহাম্মদপুরে একটি ফ্ল্যাটসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তার নামে-বেনামে একাধিক স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। শুধু তাই নয়, ঢাকায় দামী প্লট ও ব্যক্তিগত প্রাইভেট কারের মালিকানার পাশাপাশি তার গ্রামের বাড়িতেও বিপুল পরিমাণ ভূ-সম্পত্তি ক্রয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের নামে ব্যাংকে কোটি কোটি টাকার এফডিআর থাকলেও তিনি নিয়মিত আয়কর ফাঁকি দিয়ে আসছেন এবং আয়কর ফাইলে সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জুনায়েদ আবু ইয়াসির ঢাকা ওয়াসায় আউটসোর্সিং নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্যের এক বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন। সাবেক এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলাম ও আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের আত্মীয় পরিচয়ে তিনি ওয়াসার ভেতরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন, যার ফলে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সব সময় তার ভয়ে তটস্থ থাকতেন। বিশেষ করে ঢাকা ওয়াসার সবচেয়ে বড় প্রকল্পগুলোতে দীর্ঘদিন পদ আঁকড়ে থেকে তিনি কোটি কোটি টাকা লোপাট করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে জুনায়েদ আবু ইয়াসির কেবল ইন্ধনদাতাই ছিলেন না, বরং মাঠপর্যায়ে আন্দোলন দমনে অর্থায়নকারীর ভূমিকাও পালন করেছেন। গত ৪ আগস্ট সাবেক এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলাম ও তাকসিম এ খানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত একটি বিশেষ জুম মিটিংয়ের (আইডি-৮২৪৮৯২৭১৫৫) অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন তিনি। সেই সভায় ছাত্র আন্দোলন দমনে সরকারের যেকোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তিনি সার্বিক সহায়তা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও জুনায়েদ আবু ইয়াসির এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। বর্তমানে তিনি ভোল পাল্টে বিএনপির সাথে মিশে যাওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন এবং সবকিছু ‘ম্যানেজ’ করে ফেলেছেন বলে দম্ভোক্তি করছেন, যা ওয়াসার সাধারণ কর্মকর্তা ও ভুক্তভোগীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আগস্টে ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চালু হচ্ছে: রেলমন্ত্রী

জালিয়াতি ও লুটপাটে আঙুল ফুলে কলাগাছ ওয়াসার প্রকৌশলী জুনায়েদ

আপডেট সময় ০২:৩২:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

ঢাকা ওয়াসার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিতর্কিত ‘কর্পোরেট মাফিয়া’ হিসেবে পরিচিত তাকসিম এ খানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী জুনায়েদ আবু ইয়াসিরের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের পাহাড়সম অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্পের সাবেক এই নির্বাহী প্রকৌশলী এবং বর্তমানে মডস্ জোন-৯ এ কর্মরত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ—তিনি বিগত আওয়ামী স্বৈরাচারী সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে ওয়াসায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জুনায়েদ আবু ইয়াসির মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নিলেও তার সেই সনদ নিয়েও রয়েছে গুরুতর জালিয়াতির অভিযোগ।

তাকসিম এ খানের দুর্নীতির প্রধান সারথী হিসেবে পরিচিত এই প্রকৌশলী গত দেড় দশকে অঢেল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, রাজধানীর খিলগাঁওয়ের সি-ব্লকে সেবা হোল্ডিংয়ের পঞ্চম তলায় দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, মোহাম্মদপুরে একটি ফ্ল্যাটসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তার নামে-বেনামে একাধিক স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। শুধু তাই নয়, ঢাকায় দামী প্লট ও ব্যক্তিগত প্রাইভেট কারের মালিকানার পাশাপাশি তার গ্রামের বাড়িতেও বিপুল পরিমাণ ভূ-সম্পত্তি ক্রয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের নামে ব্যাংকে কোটি কোটি টাকার এফডিআর থাকলেও তিনি নিয়মিত আয়কর ফাঁকি দিয়ে আসছেন এবং আয়কর ফাইলে সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জুনায়েদ আবু ইয়াসির ঢাকা ওয়াসায় আউটসোর্সিং নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্যের এক বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন। সাবেক এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলাম ও আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের আত্মীয় পরিচয়ে তিনি ওয়াসার ভেতরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন, যার ফলে সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সব সময় তার ভয়ে তটস্থ থাকতেন। বিশেষ করে ঢাকা ওয়াসার সবচেয়ে বড় প্রকল্পগুলোতে দীর্ঘদিন পদ আঁকড়ে থেকে তিনি কোটি কোটি টাকা লোপাট করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে জুনায়েদ আবু ইয়াসির কেবল ইন্ধনদাতাই ছিলেন না, বরং মাঠপর্যায়ে আন্দোলন দমনে অর্থায়নকারীর ভূমিকাও পালন করেছেন। গত ৪ আগস্ট সাবেক এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলাম ও তাকসিম এ খানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত একটি বিশেষ জুম মিটিংয়ের (আইডি-৮২৪৮৯২৭১৫৫) অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন তিনি। সেই সভায় ছাত্র আন্দোলন দমনে সরকারের যেকোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে তিনি সার্বিক সহায়তা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও জুনায়েদ আবু ইয়াসির এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। বর্তমানে তিনি ভোল পাল্টে বিএনপির সাথে মিশে যাওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন এবং সবকিছু ‘ম্যানেজ’ করে ফেলেছেন বলে দম্ভোক্তি করছেন, যা ওয়াসার সাধারণ কর্মকর্তা ও ভুক্তভোগীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।