ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১ মিরপুর বিআরটিএ অফিস যেনো ঘুষ দুর্নীতির অভয়ারণ্য। মোটরযান পরিদর্শক আফজাল হোসেনের সেবামূলক(?) মহানুভবতায় “”দুপুরে ফেল–সন্ধ্যায় পাশ”” সিস্টেম ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে!! আর তাই নির্বিঘ্নে অদক্ষ ও নামসহি করতে না পারা ব্যক্তিরাও হরহামেশাই লাইসেন্স নিয়ে হাসিমুখে বাসায় ফিরছে। ফলে সড়ক- মহাসড়ক পরিণত হচ্ছে জাহান্নামে!! আর মোটরযান পরিদর্শক আফজাল হোসেন ঘুষ দুর্নীতির টাকায় গড়ে তুলেছেন নামে বেনামে অবৈধ সম্পদের পাহাড়।। প্রতি কর্মদিবসে এখানে ২০০ জন লাইসেন্স এর আবেদন এবং ১০০/১১০ টা প্রায় নবায়ন আবেদন জমা হয় মোটরযান পরিদর্শক আফজাল হোসেনের টেবিলে।। এতে সরকারী খরচ বাদেও প্রতিমাসে তাঁর হাতে চলে আসে দেড় থেকে দু কোটি টাকা।
দুর্নীতির টাকায় আফজাল হোসেন ঢাকায় একাধিক বাড়ি/ ফ্ল্যাট, দুটি প্রাইভেট কারের মালিক হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, বিআরটিএর প্রভাবশালী এই কর্মকর্তা উচ্চপদস্থদের ‘ম্যানেজ’ করে বহাল তবিয়তে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে বিআরটিএ মেট্রো সার্কেল-৩ কার্যত ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বিআরটিএ। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক এমএলএসএস মাহবুবের সহায়তায় তিনি গ্রাহকদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা হাতিয়ে নিতেন।
ড্রাইভিং লাইসেন্স এর লিখিত পরীক্ষায় ২০ এর মধ্যে ১২ পেলেই পাশ। তবে ৪/৫ বা O পেলেও সমস্যা নেই, আপনাকে যেতে হবে করিৎকর্মা মোটরযান পরিদর্শক আফজাল হোসেনের টেবিলে অথবা ধরতে হবে তাঁর পোষ্য দালাল সিন্ডিকেটের যেকোনো একজনকে। তবে সরকারি খরচের বাইরে গুনতে হবে অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা।
সাম্প্রতিক সময়ে চেয়ারম্যান সাহেবের কঠোর নজরদারী ও ধারাবাহিক ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের কারণে এ অফিসের সংঘবদ্ধ দালাল সিন্ডিকেট এখন বেশ সতর্ক অবস্থানে। আগে এ অফিসে গোরুর হাটের মতো জটলা ধরে দালাল চক্র গিজগিজ করলেও এখন ৪/৫ জন করে আলদা আলাদা ভাবে দূরত্ব বজায় রেখে অবস্থান করছে।
আর অধিকাংশ দালাল থাকছে বিআরটিএর সামনে পিছনে ডানপাশে ফটোস্ট্যাট ও পানবিড়ির দোকান ও বড়ো রাস্তার ওপারে ওয়াসার দেয়ালে ঘেষে গজিয়ে ওঠা টোং দোকানগুলোতে। দামদরে পরতা হলে এসব দালালরা ওইসব দোকানে বসেই হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠিয়ে দিচ্ছে পরিদর্শক আফজাল হোসেনের মোবাইলে।গ্রেফতার এড়াতে দালালরা যা করছে:
ভ্রাম্যমাণ আদালতকে ধোকা দিতে এসব দালালরা এখন নিজ নিজ ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্বলিত একটি করে ওয়াটার প্রুফ ফাইল সংরক্ষণ করছেন। এসব ফাইল বগলে নিয়ে বিআরটিএর ভিতরে বাইরে দাপিয়ে বেড়ানোসহ পৌঁছে যাচ্ছেন মোটরযান পরিদর্শকের খাসকামরাতে। হঠাৎ করে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে পড়ে গেলে তাদের হাতে থাকা ফাইলের কাগজপত্র চেক করলে মনে হবে তারা লাইসেন্স করাতে নয়, নিজের জন্য লাইসেন্স তৈরি করতে এসেছেন। তাছাড়া এরা পরিদর্শক ও অন্যান্য অফিস স্টাফদের সামনেই নিজেদেরকে পরিচয় দেন অফিস স্টাফ, মাস্টার রোল অথবা আউটসোর্সিং কর্মী হিসেবে। কেউ কেউ অমুক স্যারের কথিত শ্যালক, ভাগ্নে, কাজিন বা অমুক স্যারের ব্যক্তিগত ড্রাইভার হিসেবে। এইরকম প্রায় “”তিনডজন চিহ্নিত দালালের গডফাদার”” মোটরযান পরিদর্শক আফজাল হোসেন নিজেই।ঘুষের টাকা কে কতো পান:
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে অবৈধ পন্থায় পাবলিকের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া অবৈধ টাকা ৭০% বখরা করে নেন সহকারী পরিচালক ও মোটরযান পরিদর্শক। বাকি ৩০% টাকা অফিস স্টাফ, কতিপয় তৃতীয় সারির রাজনৈতিক নেতা, কথিত সংবাদমাধ্যম ও হেড অফিস ম্যানেজের নামে খরচ দেখানো হয়।।
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে নাজমুল হাসানের সাথে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক বিভাগীয় শাস্তি দাবি করেছে ভুক্তভোগী জনতা |
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























