প্রতারক চক্রের সদস্যরা বগুড়া-৩ (দুপচাঁচিয়া-আদমদীঘি) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মহিত তালুকদার ও জেলা জজ আদালতের পিপি আবদুল বাছেদের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ক্লোন করেছে। তারা বিকাশে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে টাকা দাবি করে। শনিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরপরই পুলিশকে অবহিত করা হয়। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্কতামূলক পোস্ট দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবদুল মহিত তালুকদার বগুড়া-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি আদমদীঘি উপজেলা বিএনপির সভাপতি। আর পিপি অ্যাডভোকেট আবদুল বাছেদ জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি।
বগুড়া-৩ (দুপচাঁচিয়া-আদমদীঘি) আসনের সংসদ সদস্য বিএনপি নেতা আবদুল মহিত তালুকদার বলেন, প্রতারকরা তার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ক্লোন করে। তারা শনিবার বিকাল ৫টা থেকে তার পরিচিত অন্তত ১০০ জনের কাছে মেসেজ পাঠিয়ে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে দাবি করে। বিভিন্নজনের কাছে বিকাশে টাকা পাঠাতে মোবাইল নাম্বারে টেক্সটও করা হয়।
সংসদ সদস্য আবদুল মহিত তালুকদার আরও বলেন, প্রতারণার বিষয়টি টের পেয়ে অনেকে তাকে ফোন করেন। পরে তিনি বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। এ ব্যাপারে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হবে।
বগুড়ার আদমদীঘি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম জানান, এ ব্যাপারে রোববার দুপুর পর্যন্ত কোনো জিডি করা হয়নি। তিনি জানান, এমপি সাহেব না বুঝে প্রতারকদের ‘ওটিপি’ নম্বর দেন। এরপর তারা বিভিন্নজনের কাছে ফোন দিয়ে বিকাশে টাকা দাবি করে।
তিনি আরও জানান, জিডি করা না হলেও এ ব্যাপারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রতারকরা নওগাঁ থেকে সিমটি ব্যবহার করেছে এবং এটা ময়মনসিংহের এক নারীর নামে উত্তোলন করা। তিনি আরও জানান, এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে।
বগুড়া জজ কোর্টের পিপি আবদুল বাছেদ শনিবার সন্ধ্যায় তার ফেসবুক পেজে সতর্কতামূলক পোস্ট দিয়ে উল্লেখ করেছেন, তার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে। কেউ টাকা পয়সা চাইলে দেবেন না।
অ্যাডভোকেট আবদুল বাছেদ সাংবাদিকদের বলেন, তার হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ক্লোন করে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন ছাড়াও বগুড়া আদালতের বিভিন্ন বিচারক, আইনজীবী, দলীয় নেতা, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবীর কাছে মেসেজ পাঠিয়ে বিকাশে ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা দাবি করে।
তিনি বলেন, এটি প্রতারক চক্রের কাজ। বিভিন্নজন ফোন করে জানানোর পর বিষয়টি পুলিশ সুপারকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। বগুড়া সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, পিপির হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ক্লোন বা হ্যাক করে টাকা দাবির ব্যাপারে রোববার দুপুর পর্যন্ত কোনো অভিযোগ করা হয়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























