ঢাকা ০৩:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প কেন্দ্রীয় চুক্তিতে যে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ভারত পিএসএলে নিরাপত্তা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বেগ, যা বলছে পিসিবি যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী পাটুরিয়ায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়, পারাপারে চলছে ১৮টি লঞ্চ চট্টগ্রামে ডিসির নির্দেশে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ মন্ত্রী-এমপিরা কে কোথায় ঈদ করবেন? ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শরীয়তপুর জেলা বি এন পি সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর থানা বি এন পির আহ্বায়ক এস এম এ হামিদ ঈশ্বরদী থেকে এলো উদ্ধারকারী ট্রেন, সৈয়দপুর থেকে আসছে আরেকটি রূহানীনগর এর পক্ষ থেকে সম্মানিত ইমাম-মুয়াজ্জিনগণকে  হাদিয়া প্রদান

ঢাকা কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হরিলুট

কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হাফেজ উদ্দিন মন্ডলের বিরুদ্ধে উঠেছে সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের বিস্ফোরক অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সরকারি চাকরির আড়ালে গড়ে তুলেছেন এক গোপন দুর্নীতির সাম্রাজ্য, যার শাখা-প্রশাখা ছড়িয়ে পড়েছে রাজশাহী, জয়পুরহাট, খুলনা ও যশোরে।

জানা গেছে, তিনি নিজের স্ত্রী ও সন্তানদের নামে এবং একাধিক বেনামি পরিচয়ে জমি, বাড়ি ও ব্যবসায়িক সম্পত্তি অর্জন করেছেন। এসব সম্পদের প্রকৃত উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন তুললেই একরকম ‘দুর্নীতির দেয়ালে’ ধাক্কা খেতে হয়। শুধু তাই নয়, ঘন ঘন বিদেশ সফর, বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং অঢেল ব্যয়ের উৎস হিসেবে ব্যবহার করছেন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেওয়া ঘুষ ও কমিশনের অর্থ।

ঢাকা কাস্টমস হাউসের একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, হাফেজ উদ্দিন মন্ডল সরাসরি নগদ ঘুষ গ্রহণ করেন এবং অনৈতিক সুবিধা না দিলে পণ্যের ছাড়পত্র বিলম্ব করেন, এমনকি হয়রানিমূলক জটিলতা তৈরি করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে একপক্ষকে সুবিধা দিয়ে অন্য পক্ষকে ঠকান এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে পণ্যের শুল্ক মূল্যায়নে কারসাজি করে রাজস্ব ফাঁকিতে সহায়তা করেন। বিনিময়ে নেন মোটা অঙ্কের টাকা, যা কখনো বিকাশে, কখনো আবার চা দোকানে,

গাড়ির ড্যাশবোর্ডে অথবা নিজের নির্দিষ্ট লোক মারফত সংগ্রহ করেন। অনেক ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক চালান আটকে রেখে ভয় দেখান, মামলা কিংবা তদন্তের ভয় দেখিয়ে আদায় করেন অবৈধ অর্থ। হাফেজ উদ্দিন মন্ডলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তিনি সরকারি ট্যাক্স ফাঁকি দেয়ার গোপন প্রযুক্তি ও পথ বাতলে দেন নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসায়ীকে, আর তার বিনিময়ে বড় অঙ্কের মাসোহারা গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে তিনি তার পরিবারসহ বারবার বিদেশ সফর করেন,

যার আর্থিক উৎস ‘অজানা’ হলেও দৃষ্টিকটুভাবে প্রমাণ করে দুর্নীতির স্থায়িত্ব ও গভীরতা। তার নামে-বেনামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, জমি নিবন্ধন, ফ্ল্যাট বুকিংসহ একাধিক আর্থিক কার্যক্রমের তথ্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংস্থার হাতে এসেছে। বিশেষজ্ঞ মহলের ভাষ্য অনুযায়ী, হাফেজ উদ্দিন মন্ডলের কর্মকাণ্ড কেবল ব্যক্তিগত দুর্নীতিই নয়,

বরং এটি একটি সুগঠিত রাজস্ব লুণ্ঠন চক্রের সক্রিয় চেহারা। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি আহ্বান- এই ঘুষতন্ত্রের রূপকারদের অবিলম্বে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক, না হলে সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প

ঢাকা কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হরিলুট

আপডেট সময় ০৬:৫২:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হাফেজ উদ্দিন মন্ডলের বিরুদ্ধে উঠেছে সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের বিস্ফোরক অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সরকারি চাকরির আড়ালে গড়ে তুলেছেন এক গোপন দুর্নীতির সাম্রাজ্য, যার শাখা-প্রশাখা ছড়িয়ে পড়েছে রাজশাহী, জয়পুরহাট, খুলনা ও যশোরে।

জানা গেছে, তিনি নিজের স্ত্রী ও সন্তানদের নামে এবং একাধিক বেনামি পরিচয়ে জমি, বাড়ি ও ব্যবসায়িক সম্পত্তি অর্জন করেছেন। এসব সম্পদের প্রকৃত উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন তুললেই একরকম ‘দুর্নীতির দেয়ালে’ ধাক্কা খেতে হয়। শুধু তাই নয়, ঘন ঘন বিদেশ সফর, বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং অঢেল ব্যয়ের উৎস হিসেবে ব্যবহার করছেন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেওয়া ঘুষ ও কমিশনের অর্থ।

ঢাকা কাস্টমস হাউসের একাধিক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, হাফেজ উদ্দিন মন্ডল সরাসরি নগদ ঘুষ গ্রহণ করেন এবং অনৈতিক সুবিধা না দিলে পণ্যের ছাড়পত্র বিলম্ব করেন, এমনকি হয়রানিমূলক জটিলতা তৈরি করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে একপক্ষকে সুবিধা দিয়ে অন্য পক্ষকে ঠকান এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে পণ্যের শুল্ক মূল্যায়নে কারসাজি করে রাজস্ব ফাঁকিতে সহায়তা করেন। বিনিময়ে নেন মোটা অঙ্কের টাকা, যা কখনো বিকাশে, কখনো আবার চা দোকানে,

গাড়ির ড্যাশবোর্ডে অথবা নিজের নির্দিষ্ট লোক মারফত সংগ্রহ করেন। অনেক ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক চালান আটকে রেখে ভয় দেখান, মামলা কিংবা তদন্তের ভয় দেখিয়ে আদায় করেন অবৈধ অর্থ। হাফেজ উদ্দিন মন্ডলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তিনি সরকারি ট্যাক্স ফাঁকি দেয়ার গোপন প্রযুক্তি ও পথ বাতলে দেন নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসায়ীকে, আর তার বিনিময়ে বড় অঙ্কের মাসোহারা গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে তিনি তার পরিবারসহ বারবার বিদেশ সফর করেন,

যার আর্থিক উৎস ‘অজানা’ হলেও দৃষ্টিকটুভাবে প্রমাণ করে দুর্নীতির স্থায়িত্ব ও গভীরতা। তার নামে-বেনামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, জমি নিবন্ধন, ফ্ল্যাট বুকিংসহ একাধিক আর্থিক কার্যক্রমের তথ্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংস্থার হাতে এসেছে। বিশেষজ্ঞ মহলের ভাষ্য অনুযায়ী, হাফেজ উদ্দিন মন্ডলের কর্মকাণ্ড কেবল ব্যক্তিগত দুর্নীতিই নয়,

বরং এটি একটি সুগঠিত রাজস্ব লুণ্ঠন চক্রের সক্রিয় চেহারা। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি আহ্বান- এই ঘুষতন্ত্রের রূপকারদের অবিলম্বে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক, না হলে সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে।