ঢাকা ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প কেন্দ্রীয় চুক্তিতে যে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ভারত পিএসএলে নিরাপত্তা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বেগ, যা বলছে পিসিবি যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী পাটুরিয়ায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়, পারাপারে চলছে ১৮টি লঞ্চ চট্টগ্রামে ডিসির নির্দেশে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ মন্ত্রী-এমপিরা কে কোথায় ঈদ করবেন? ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শরীয়তপুর জেলা বি এন পি সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর থানা বি এন পির আহ্বায়ক এস এম এ হামিদ ঈশ্বরদী থেকে এলো উদ্ধারকারী ট্রেন, সৈয়দপুর থেকে আসছে আরেকটি রূহানীনগর এর পক্ষ থেকে সম্মানিত ইমাম-মুয়াজ্জিনগণকে  হাদিয়া প্রদান

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে একুশের প্রথম প্রহর থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নামে সর্বস্তরের মানুষের ঢল।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শহীদ মিনার চত্বর সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

শনিবার সকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষ পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহীদ মিনারের দিকে দীর্ঘ লাইন। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দায়িত্ব পালন করছেন বিএনসিসি ও স্কাউটস সদস্যরা। একে একে সবাই ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি।

অনেককে খালি পায়ে প্রভাতফেরিতে অংশ নিতে দেখা যায়। কারো হাতে ছিল জাতীয় পতাকা, কারো হাতে ব্যানার-ফেস্টুন। শ্রদ্ধা জানাতে আসে ইডেন মহিলা কলেজ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ছায়ানট, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, টিআইবি, বাংলাদেশ স্কাউটস, উদীচী, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান।

সংগঠনের বাইরে ব্যক্তিগতভাবেও অনেকেই এসেছেন। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ আবার শিশুদের হাত ধরে শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়েছেন। শিশুদের কাছে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরতেও দেখা গেছে অনেক অভিভাবককে।

ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী তানজিলা আক্তার বলেন, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস শুধু বইয়ে পড়ার বিষয় নয়, এটা আমাদের আত্মপরিচয়ের অংশ। প্রতি বছর এখানে এসে শ্রদ্ধা জানালে সেই ইতিহাসকে নতুন করে অনুভব করি। ধানমন্ডি থেকে বাবা-মামার সঙ্গে আসা সিনথিয়া তামান্না (৯) বলে, আজ একুশে ফেব্রুয়ারি। যারা মায়ের ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে তাদের ফুল দিতে এসেছি।

রাজবাড়ী থেকে শ্রদ্ধা জানাতে আসা মতিউর বলেন, গত ১৭ বছরের শাসনামলে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। তিনি বলেন, জনগণ আর সেই পরিস্থিতিতে ফিরতে চায় না।

শ্রদ্ধা নিবেদনকারী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের মধ্যে ছিল– জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, এনডিএম, এবি পার্টি, জাতীয় পার্টি, বিজেপি, জেপি, সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, জেএসডি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। এছাড়া ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট ও ছাত্রমৈত্রীর নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন কলেজের পক্ষ থেকে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। পাশাপাশি জুলাই ঐক্য ও জুলাই মঞ্চসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।

এর আগে প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন প্রথমে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাত ১২টা ৮ মিনিটে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় মন্ত্রিসভার সদস্যরা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর পর বিএনপি ও জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

এরপরই সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোটের নেতারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ জোটের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা

আপডেট সময় ০১:২২:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে একুশের প্রথম প্রহর থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নামে সর্বস্তরের মানুষের ঢল।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শহীদ মিনার চত্বর সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

শনিবার সকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষ পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহীদ মিনারের দিকে দীর্ঘ লাইন। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দায়িত্ব পালন করছেন বিএনসিসি ও স্কাউটস সদস্যরা। একে একে সবাই ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি।

অনেককে খালি পায়ে প্রভাতফেরিতে অংশ নিতে দেখা যায়। কারো হাতে ছিল জাতীয় পতাকা, কারো হাতে ব্যানার-ফেস্টুন। শ্রদ্ধা জানাতে আসে ইডেন মহিলা কলেজ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ছায়ানট, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, টিআইবি, বাংলাদেশ স্কাউটস, উদীচী, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান।

সংগঠনের বাইরে ব্যক্তিগতভাবেও অনেকেই এসেছেন। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ আবার শিশুদের হাত ধরে শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়েছেন। শিশুদের কাছে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরতেও দেখা গেছে অনেক অভিভাবককে।

ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী তানজিলা আক্তার বলেন, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস শুধু বইয়ে পড়ার বিষয় নয়, এটা আমাদের আত্মপরিচয়ের অংশ। প্রতি বছর এখানে এসে শ্রদ্ধা জানালে সেই ইতিহাসকে নতুন করে অনুভব করি। ধানমন্ডি থেকে বাবা-মামার সঙ্গে আসা সিনথিয়া তামান্না (৯) বলে, আজ একুশে ফেব্রুয়ারি। যারা মায়ের ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে তাদের ফুল দিতে এসেছি।

রাজবাড়ী থেকে শ্রদ্ধা জানাতে আসা মতিউর বলেন, গত ১৭ বছরের শাসনামলে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। তিনি বলেন, জনগণ আর সেই পরিস্থিতিতে ফিরতে চায় না।

শ্রদ্ধা নিবেদনকারী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের মধ্যে ছিল– জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, এনডিএম, এবি পার্টি, জাতীয় পার্টি, বিজেপি, জেপি, সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, জেএসডি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। এছাড়া ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট ও ছাত্রমৈত্রীর নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন কলেজের পক্ষ থেকে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। পাশাপাশি জুলাই ঐক্য ও জুলাই মঞ্চসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।

এর আগে প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন প্রথমে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাত ১২টা ৮ মিনিটে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় মন্ত্রিসভার সদস্যরা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর পর বিএনপি ও জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

এরপরই সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোটের নেতারা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ জোটের সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।