ডেমরা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ভুমি মন্ত্রণালয়ে গুরুতর দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনগণ এবং জমি মালিকদের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে ডেমরা সার্কেলে যোগদানের পর থেকে তিনি সার্কেলটিকে এক দুর্নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছেন। তার যোগদানের পরই এলাকার জমি দখল ও প্রতারণার প্রক্রিয়ায় চরম অব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়েছে বলে জানা যায়।
ডেমরা সার্কেল তার অধীনে খিলগাঁও থানার নন্দিপাড়া, ত্রিমোহিনী, শেখের জায়গা, মানিকদিয়া ও অন্যান্য মৌজার জমি অন্তর্ভুক্ত। এই অঞ্চলগুলিতে ১৯৯০-এর দশকে অধিকাংশ জমি অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। পরে মহানগর জরিপ মোতাবেক ১/১ খতিয়ানে বাংলাদেশ সরকারের নামে এই জমিগুলি রেকর্ডভুক্ত করা হয়। ২০১৩ সালে সরকার অর্পিত সম্পত্তি আইন বাতিল করলে জমির আসল মালিকরা তাদের জমি সংশ্লিষ্ট এসিল্যান্ড অফিস থেকে মহানগর জরিপ মোতাবেক নামজারী করে নিতে পারার সুযোগ পান। কিন্তু এই সুযোগকে কেন্দ্র করে জমি দখলবাজ এবং প্রতারক চক্র গড়ে ওঠে।
ঢাকা বাইপাস সড়ক চালু হওয়ার পর এই প্রতারক চক্রের কার্যক্রম আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। তারা মোঃ জাকির হোসেনের সহযোগিতা নিয়ে জমি দখলের প্রক্রিয়া চালু করে। অভিযোগ অনুযায়ী, জাকির হোসেন এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে গোপনভাবে জমির মূল্যের প্রায় ৫০% অংশ নেন এবং জমি মালিকদের অগোচরে সেই জমি প্রতারকদের নামে নামজারী করে দেন। এভাবে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সহকারী কমিশনার জাকির হোসেন সারাদিন অফিসে উপস্থিত থাকেন না। তিনি সাধারণত সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অফিসে থাকেন এবং এই সময়েই প্রতারক সিন্ডিকেটের সঙ্গে বৈঠক ও আর্থিক লেনদেন করেন। এসব বৈঠক ও লেনদেনের মাধ্যমে তিনি জমি মালিকদের ওপর দখল এবং প্রতারণার ব্যবস্থা করেন। তার এই চরম দুর্নীতি এবং অরাজক আচরণের কারণে স্থানীয়রা তাদের জমি হারিয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
জমি মালিকরা জানিয়েছেন, মোঃ জাকির হোসেনের কর্মকাণ্ডের ফলে তাদের হাজার হাজার মামলা ঢাকার বিভিন্ন আদালতে জমা পড়েছে। এছাড়াও তার দুর্নীতির কারণে এলাকার আইনশৃঙ্খলা তলানিতে নেমেছে। তিনি শুধু প্রতারণা ও দুর্নীতিতেই সীমাবদ্ধ নন, বরং তার কর্মকাণ্ডের কারণে সার্কেলের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। অনেক কর্মচারী তার দুর্নীতির কারণে কাজ করতে অক্ষম বোধ করছেন।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে যে, মোঃ জাকির হোসেন প্রতারক সিন্ডিকেটের সঙ্গে মিলে জমি দখলের পরিকল্পনা করেন এবং জমি মালিকদের সহায়-সম্পত্তি হস্তান্তরের সময় তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। তার এই কর্মকাণ্ডের ফলে এলাকায় সাধারণ মানুষের আস্থা ও নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন যে, জমি হস্তান্তরের সময় তাদের জোর করে স্বাক্ষর করানো হয় এবং বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা নথি তৈরি করা হয়।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেছেন, জাকির হোসেনের দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে ঢাকার বিভিন্ন মৌজায় জমির আসল মালিকরা তাদের সম্পত্তি হারিয়েছেন। তারা সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন এবং পরিবার ও জীবন-যাপন নিয়ে আতঙ্কে ভুগছেন। তার এই কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় অসংখ্য প্রভাবশালী প্রতারক চক্র গড়ে উঠেছে। প্রতারকরা তার সাথে মিলে সাধারণ মানুষের জমি দখল এবং বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
দুদক বা দুর্নীতি দমন কমিশন যদি তদন্ত চালায়, তবে জানা যাবে যে মোঃ জাকির হোসেনের হাতে কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে এবং তিনি সরকারি নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য কাজ করেছেন। তার এই কর্মকাণ্ডের কারণে ডেমরা সার্কেলের ভুমি অফিসে শৃঙ্খলা নেই। অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও তার দুর্নীতির কারণে মানসিকভাবে অত্যন্ত চাপের মধ্যে রয়েছেন।
এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে যে, মোঃ জাকির হোসেন স্থানীয় জনগণ এবং জমি মালিকদের সাথে প্রতারণার জন্য বিভিন্ন নথি তৈরি ও সম্পাদনা করেন। তিনি নিজের অফিসে বৈঠকের সময় গোপনভাবে নথি যাচাই ও নামজারী কার্যক্রম চালান। এভাবে তিনি সার্কেলের জমির হস্তান্তর প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। এর ফলে সাধারণ মানুষ তাদের জমি সংরক্ষণ করতে অক্ষম হয়ে পড়েছেন।
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন যে, মোঃ জাকির হোসেনের কর্মকাণ্ড শুধুমাত্র জমি দখল বা অর্থ লেনদেনে সীমাবদ্ধ নয়। তার দুর্নীতির কারণে এলাকায় সামাজিক অসঙ্গতি সৃষ্টি হয়েছে। ন্যায়বিচার ও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয়েছে। প্রতারক সিন্ডিকেটের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সহকারী কমিশনারের সম্পৃক্ততা এলাকায় অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করেছে।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেছেন যে, মোঃ জাকির হোসেনের দখলে থাকা সময়ে জমি মালিকরা বিভিন্ন ধরনের হুমকি, চাপ ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তার এই কর্মকাণ্ডের ফলে মানুষ নিজেদের জমি রক্ষা করতে অক্ষম হয়ে পড়েছেন। এমনকি কিছু স্থানীয়রা জানিয়েছেন যে, তারা তাদের জমি হারিয়ে মানসিক ও আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, মোঃ জাকির হোসেনকে অবিলম্বে ডেমরা সার্কেল থেকে প্রত্যাহার করা উচিত এবং তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। তারা মনে করেন, যদি তার কার্যক্রম বন্ধ করা হয় এবং তদন্ত শুরু করা হয়, তবে সার্কেলের দুর্নীতি ও অনিয়মের চক্র ভেঙে পড়বে। এতে সাধারণ মানুষ তাদের জমি ও সম্পত্তি রক্ষা করতে সক্ষম হবেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, মোঃ জাকির হোসেনকে বহুবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে তিনি তা গ্রহণ করেননি। তার এই ধরণের অপ্রবৃত্তি ও গোপনীয়তা তার দুর্নীতি ও অনিয়মকে আরও প্রমাণিত করে।
ডেমরা সার্কেলের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানিয়েছেন যে, মোঃ জাকির হোসেনের কর্মকাণ্ডের কারণে অফিসের ভিতরেও সহকর্মীরা মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। তার দখলে থাকা সময়ে কর্মক্ষেত্রে কোনো শৃঙ্খলা নেই। এছাড়াও তার এই দুর্নীতিপূর্ণ কর্মকাণ্ডের ফলে সার্কেলটির নাম দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তার কর্মকাণ্ডের ফলে শুধু ব্যক্তিগত আর্থিক লোভ পূর্ণ হয়নি, বরং এলাকার সামাজিক ও প্রশাসনিক কাঠামোও বিপর্যস্ত হয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডের ফলে জমি মালিকরা তাদের মৌলিক অধিকার ও সম্পত্তি রক্ষা করতে অক্ষম হয়েছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, মোঃ জাকির হোসেন শুধুমাত্র নগদ টাকা গ্রহণ করেই সীমাবদ্ধ নন। তিনি প্রতারণার নথি, নকল কাগজপত্র এবং অফিসিয়াল নথি যাচাইয়ে মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে জমি হস্তান্তর নিশ্চিত করেন। এর ফলে প্রতারক চক্রের সঙ্গে মিলে সাধারণ মানুষের জমি দখলের প্রক্রিয়াকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করেন।
স্থানীয়রা আরও জানিয়েছেন, তার এই কর্মকাণ্ডে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে এবং এটি সাধারণ মানুষের ওপর বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি ডেকে এনেছে। তার অনিয়ম ও দুর্নীতি এলাকার মানুষকে মানসিক ও সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে।
ভুক্তভোগীরা পুনরায় দাবি করেছেন, মোঃ জাকির হোসেনকে অবিলম্বে ডেমরা সার্কেল থেকে প্রত্যাহার করে তার বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যদি তার কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকে, তবে এলাকার জনগণ আর্থিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এভাবে ডেমরা সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ জাকির হোসেনের দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষ তাদের জমি হারিয়েছে, সামাজিক ও প্রশাসনিক অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। তার কর্মকাণ্ডের প্রভাব গভীর এবং দীর্ঘস্থায়ী।
মো. মামুন হোসেন 
























