ভূমি প্রশাসনের মতিঝিল সার্কেল অন্তর্গত অফিসে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও সরকারি ফি’র বাইরে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠে এসেছে সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসের অধীনে থাকা ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা সঞ্জীব সেন এর বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীরা জানান, তার অফিসে ফাইল প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় নিয়মিত অনিয়ম, দালালদের মাধ্যমে অর্থ আদায়, জমির রেকর্ডে কাটাকাটি এবং সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়।
নামজারি বা মিউটেশন প্রক্রিয়ায় অভিযোগ করা হয়েছে, সরকার নির্ধারিত ফি ১,১৭০ টাকার বাইরে আবেদনকারীদের থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়া হয়। টাকা না দিলে ফাইলের ত্রুটি দেখানো হয় এবং মাসের পর মাস ফাইল আটকে রাখা হয়। এতে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয় দালালদের মাধ্যমে কাজ করাতে। দালালরা অভিযোগ অনুসারে সঞ্জীব সেনের সঙ্গে যোগসাজশে কাজ করে, এবং টাকার বিনিময়ে ফাইল দ্রুত সম্পন্ন করার প্রলোভন দেখায়।
অফিসের অনেক ফাইলেই দেখা যায়, প্রকৃত মালিকের পরিবর্তে অন্যের নামে খতিয়ান তৈরি করা হয়েছে। দলিল জালিয়াতি এবং রেকর্ড পরিবর্তনের অভিযোগ নিয়মিত উঠে আসছে। ভুয়া মালিক সাজিয়ে জমি রেজিস্ট্রার করা, জমির রেকর্ডে কৃত্রিমভাবে পরিবর্তন আনা—এসব অনিয়মের ফলে প্রকৃত মালিকদের জমি হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ভূমি জরিপের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সার্ভেয়াররা অর্থের বিনিময়ে জমির আয়তন কমানো বা বাড়ানো, মালিকানা পরিবর্তন এবং একজনের জমি অন্যজনের নামে দেখানোর প্রস্তাব দেন। সাধারণ মানুষ ভয় পায় এবং টাকার বিনিময়ে বাধ্য হয় এই অনিয়ম মেনে নিতে।
নকশা ও পর্চা উত্তোলনের ক্ষেত্রেও সাধারণ মানুষ প্রায়শই হয়রানির শিকার হয়। অভিযোগকারীরা জানায়, অফিসে দীর্ঘ সময় ধরে ফাইল আটকে রাখা, টেকনিক্যাল সমস্যার অজুহাত দেখানো এবং প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন রাখা নিয়মিত ঘটনা। ফলে আবেদনকারীরা প্রায়ই দালালদের সাহায্য নিতে বাধ্য হয়, এবং তারা অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য হয়।
খাস জমি বন্দোবস্তের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ভূমিহীনদের পরিবর্তে স্থানীয় প্রভাবশালী বা বিত্তশালীদের নামে জমি লিজ বা বন্দোবস্ত দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগকারীদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় সঞ্জীব সেন সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত। এতে সাধারণ মানুষ পেছনে পড়ে এবং প্রভাবশালীরা সুবিধা ভোগ করে।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, সঞ্জীব সেনের অফিসে কাজ করতে গেলে আবেদনকারীদের মাসের পর মাস ধরে লাইন ধরে বসতে হয়। যারা টাকা দিতে পারে না, তাদের ফাইল আটকে রাখা হয়। যারা দিতে পারে, তাদের ফাইল দ্রুত সম্পন্ন হয়। ফলে সাধারণ মানুষকে প্রায়শই অনুচিতভাবে টাকা দিতে বাধ্য করা হয়।
দালালদের সক্রিয়তা এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের যোগসাজশ সঞ্জীব সেনের অফিসকে দুর্নীতির জন্য কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে। অভিযোগকারীরা জানান, “ফাইল করতে গেলে সব সময় অনিশ্চয়তা থাকে। টাকা দিতে না পারলে কাজ হয় না, এবং দালালরা বলে টাকা দিলে সব কাজ হয়ে যাবে।” এই পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের মানসিক চাপ এবং আর্থিক ক্ষতি উভয়ই বাড়ায়।
নিয়মিত অভিযোগ এবং সতর্ক নাগরিকদের তথ্য অনুযায়ী, সঞ্জীব সেনের অফিসে নামজারি, খতিয়ান, জরিপ, নকশা উত্তোলন এবং খাস জমি বন্দোবস্ত—প্রতিটি ক্ষেত্রে হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটছে। সরকারি ফি’র বাইরে অর্থ আদায়, দালালদের মাধ্যমে দ্রুত সেবা, দলিল জালিয়াতি, রেকর্ড পরিবর্তন, জরিপে অনিয়ম, নকশা উত্তোলনে বিলম্ব এবং খাস জমি অনিয়ম—এই সব অভিযোগ একত্রে তার অফিসকে দুর্নীতির কেন্দ্রে পরিণত করেছে।
ভূমি প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও সাধারণ মানুষের অধিকার সুরক্ষার জন্য প্রশাসনিক নজরদারি জরুরি। অভিযোগগুলো অনুসারে, সঞ্জীব সেনের অফিসে অনিয়ম চলতে থাকলে সাধারণ মানুষ আর্থিক ও আইনি ঝুঁকির মধ্যে থাকবে। সরকারি ফি’র বাইরে কোনো অর্থ দিতে হবে না, ফাইল প্রক্রিয়াজাতকরণ সময়মতো হবে এবং দালালদের প্রভাবে কাজের মান ক্ষুণ্ন হবে না—এই লক্ষ্য পূরণের জন্য তার অফিসে নিয়মিত তদারকি ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
সর্বশেষে বলা যায়, সঞ্জীব সেনের কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে ফেলে, এবং ভূমি প্রশাসনের প্রতি আস্থা ক্ষুণ্ণ করছে। সরকারের উচিত এই অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যাতে ভূমি অফিসের সেবা নিরপেক্ষ ও সুবিচারমূলক হয়।
সংবাদ শিরোনাম ::
সঞ্জীব সেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও হয়রানি অভিযোগ
-
নিজস্ব প্রতিবেদক - আপডেট সময় ০১:১৩:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- ৫৫৮ বার পড়া হয়েছে
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

























