বাংলাদেশে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীরা ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এই আন্দোলন মূলত সরকারি চাকরিতে উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে ১০ম গ্রেডে শুধুমাত্র ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের নিয়োগের দাবিকে কেন্দ্র করে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, এটি তাদের ন্যায্য অধিকার, যা দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত হচ্ছে ।
ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি হলো সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে ১০ম গ্রেডে শুধুমাত্র ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়োগ নিশ্চিত করা। তারা এই পদে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের প্রবেশাধিকার দেওয়ার বিরোধিতা করছে। এছাড়াও, তাদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে:
– পদোন্নতি কোটা ৩৩% থেকে বাড়িয়ে ৫০% করা।
– ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি বৃদ্ধি এবং উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা।
– ডিপ্লোমা শিক্ষার মানোন্নয়নে আধুনিক কারিকুলাম প্রণয়ন এবং ল্যাব ও ওয়ার্কশপ আধুনিকায়ন করা।
– সার্ভেয়ার/সমমান পদে কর্মরতদের বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা ।
গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে, যেমন কুমিল্লা, গাজীপুর, রাজশাহী, মাদারীপুর সহ রাজধানী ঢাকার শাহবাগে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল এবং সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেছে। গাজীপুরে শিক্ষার্থীরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রাজশাহীতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। আন্দোলনকারীরা “কারিগরি শিক্ষার অবমূল্যায়ন মানি না মানবো না”, “স্বাধীন সোনার বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই” সহ বিভিন্ন স্লোগান দিয়েছেন।
অন্যদিকে, বিএসসি ইঞ্জিনিয়াররাও ১০ম গ্রেডে প্রবেশাধিকার চেয়ে আন্দোলন করছেন। তাদের দাবি, ১০ম গ্রেডে শুধুমাত্র ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের জন্য পদ সংরক্ষণ করা মেধাভিত্তিক নিয়োগের নীতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। তারা ১০ম গ্রেডে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিয়োগের দাবি জানাচ্ছেন।
শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার একটি কমিটি গঠন করেছে, যা বিএসসি ও ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের দাবির যৌক্তিকতা পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেবে। গাজীপুরের স্থানীয় প্রশাসন আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উভয় পক্ষের যৌক্তিক দাবি বিবেচনা করে একটি সুষ্ঠু নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। এছাড়াও, ডিপ্লোমা শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
এই আন্দোলন দেশের প্রকৌশল শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। উভয় পক্ষের দাবির মধ্যে সমন্বয় করে একটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধান বের করা প্রয়োজন, যাতে দেশের কারিগরি শিক্ষা আরও উন্নত হয় এবং শিক্ষার্থীরা তাদের ন্যায্য অধিকার পায়।
মো: মেহেদী হাসান, গংগাচড়া {রংপুর} প্রতিনিধি 





















