সংবাদ শিরোনাম ::
অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী ঝালকাঠি পৌর প্রশাসক ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী খেলায় ৯নং ওয়ার্ডের জয় কালিহাতীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

আজওয়া খেজুর কালো হওয়ার আসল কারণ

  • ধর্ম ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৫৯:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৫৩ বার পড়া হয়েছে

আজওয়া খেজুরের প্রতি মুসলিমদের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। সহিহ হাদিসে যাদু ও বিষের ক্ষতি থেকে রক্ষার কথা উল্লেখ থাকায় অনেকেই একে অলৌকিক গুণসম্পন্ন খাদ্য মনে করেন। আজওয়া খেজুরের সঙ্গে বিস্ময়কর এক ইতিহাস জড়িয়ে আছে।

হজরত সালমান ফারসী (রা.) পারস্য থেকে মদিনায় এসে ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণ করার প্রাথমিক দিনগুলোতে তিনি দাস ছিলেন। দাসত্বের কারণে তিনি বদর ও উহুদের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। তিনি একজন ইহুদির দাস ছিলেন। দাস জীবন থেকে মুক্তির জন্য সালমান ফারসী (রা.)-কে ইহুদি দুটি কঠিন শর্ত দিয়েছিলেন। শর্ত দুটি পূরণ করতে পারলে সালমান ফারসি (রা.)-কে মুক্তি দেওয়া হবে। শর্ত দুটি হলো—

১.অল্প কয়েক দিনের মধ্যে নগদ ৬০০ দিনার ইহুদিকে দিতে হবে এবং ২. অল্প কয়েক দিনের মধ্যে ৩০টি খেজুর গাছ রোপন করে তাতে খেজুর ধরে পাকতে হবে। তবেই সালমান ফারসি (রা.)-কে মুক্তি দেওয়া হবে।

এই শর্তটি পূর্ণ করা প্রায় সম্পূর্ণ অসম্ভব ব্যাপার। বিষয়টি নবীজি (সা.) অবগত হলে তিনি প্রথমে ৬০০ দিনারের ব্যবস্থা করলেন। তারপর হজরত আলী (রা.)-কে সঙ্গে নিয়ে ইহুদির কাছে গেলেন। ইহুদি এক কাঁদি খেজুর দিয়ে বলল, এই খেজুর থেকে চারা উৎপন্ন করে তাতে ফল ফলাতে হবে। রাসুল (স.) দেখলেন যে, ইতোমধ্যে খেজুরগুলো আগুনে পুড়িয়ে কয়লা করে ফেলেছে সে, যাতে চারা না গজায়।

রাসুল (সা.) খেজুরের কাঁদি হাতে নিয়ে আলী (রা.)-কে গর্ত করতে বললেন আর সালমান ফারসিকে বললেন পানি আনতে। আলী (রা.) গর্ত করলে রাসুল (সা.) নিজ হাতে প্রতিটি গর্তে সেই পোড়া খেজুর রোপন করলেন। বাগানের একদিক থেকে পোড়া কালো দানা রোপণ করতে করতে বাগানের শেষ পর্যন্ত গেলেন। রাসুল (স.) সালমান ফারসিকে এ নির্দেশ দিলেন যে, বাগানের শেষ প্রান্তে না যাওয়া পর্যন্ত তুমি পেছন ফিরে তাকাবে না। সালমান ফারসি পেছনে না তাকিয়ে পানি দিতে লাগলেন। বাগানের শেষ প্রান্তে যাওয়ার পর তিনি তাকিয়ে দেখলেন যে প্রতিটি গাছ খেজুরে পরিপূর্ণ।

আল্লাহর অশেষ মহিমায় সেই পোড়া খেজুর থেকে চারা গজালো। আর খেজুরগুলো পেকে কালো বর্ণ হয়ে গেল। কারণ, এই খেজুরের দানাগুলো ছিলো আগুনে পোড়া কয়লার মতো কালো। তাই এর স্বাদও অনেকটা পোড়া পোড়া। গন্ধও তাই। এই খেজুর পৃথিবীর সবচেয়ে দামি খেজুর। আর স্বাদের দিক দিয়েও সবচেয়ে বেশি সুস্বাদু।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের

আজওয়া খেজুর কালো হওয়ার আসল কারণ

আপডেট সময় ০২:৫৯:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

আজওয়া খেজুরের প্রতি মুসলিমদের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। সহিহ হাদিসে যাদু ও বিষের ক্ষতি থেকে রক্ষার কথা উল্লেখ থাকায় অনেকেই একে অলৌকিক গুণসম্পন্ন খাদ্য মনে করেন। আজওয়া খেজুরের সঙ্গে বিস্ময়কর এক ইতিহাস জড়িয়ে আছে।

হজরত সালমান ফারসী (রা.) পারস্য থেকে মদিনায় এসে ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম গ্রহণ করার প্রাথমিক দিনগুলোতে তিনি দাস ছিলেন। দাসত্বের কারণে তিনি বদর ও উহুদের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। তিনি একজন ইহুদির দাস ছিলেন। দাস জীবন থেকে মুক্তির জন্য সালমান ফারসী (রা.)-কে ইহুদি দুটি কঠিন শর্ত দিয়েছিলেন। শর্ত দুটি পূরণ করতে পারলে সালমান ফারসি (রা.)-কে মুক্তি দেওয়া হবে। শর্ত দুটি হলো—

১.অল্প কয়েক দিনের মধ্যে নগদ ৬০০ দিনার ইহুদিকে দিতে হবে এবং ২. অল্প কয়েক দিনের মধ্যে ৩০টি খেজুর গাছ রোপন করে তাতে খেজুর ধরে পাকতে হবে। তবেই সালমান ফারসি (রা.)-কে মুক্তি দেওয়া হবে।

এই শর্তটি পূর্ণ করা প্রায় সম্পূর্ণ অসম্ভব ব্যাপার। বিষয়টি নবীজি (সা.) অবগত হলে তিনি প্রথমে ৬০০ দিনারের ব্যবস্থা করলেন। তারপর হজরত আলী (রা.)-কে সঙ্গে নিয়ে ইহুদির কাছে গেলেন। ইহুদি এক কাঁদি খেজুর দিয়ে বলল, এই খেজুর থেকে চারা উৎপন্ন করে তাতে ফল ফলাতে হবে। রাসুল (স.) দেখলেন যে, ইতোমধ্যে খেজুরগুলো আগুনে পুড়িয়ে কয়লা করে ফেলেছে সে, যাতে চারা না গজায়।

রাসুল (সা.) খেজুরের কাঁদি হাতে নিয়ে আলী (রা.)-কে গর্ত করতে বললেন আর সালমান ফারসিকে বললেন পানি আনতে। আলী (রা.) গর্ত করলে রাসুল (সা.) নিজ হাতে প্রতিটি গর্তে সেই পোড়া খেজুর রোপন করলেন। বাগানের একদিক থেকে পোড়া কালো দানা রোপণ করতে করতে বাগানের শেষ পর্যন্ত গেলেন। রাসুল (স.) সালমান ফারসিকে এ নির্দেশ দিলেন যে, বাগানের শেষ প্রান্তে না যাওয়া পর্যন্ত তুমি পেছন ফিরে তাকাবে না। সালমান ফারসি পেছনে না তাকিয়ে পানি দিতে লাগলেন। বাগানের শেষ প্রান্তে যাওয়ার পর তিনি তাকিয়ে দেখলেন যে প্রতিটি গাছ খেজুরে পরিপূর্ণ।

আল্লাহর অশেষ মহিমায় সেই পোড়া খেজুর থেকে চারা গজালো। আর খেজুরগুলো পেকে কালো বর্ণ হয়ে গেল। কারণ, এই খেজুরের দানাগুলো ছিলো আগুনে পোড়া কয়লার মতো কালো। তাই এর স্বাদও অনেকটা পোড়া পোড়া। গন্ধও তাই। এই খেজুর পৃথিবীর সবচেয়ে দামি খেজুর। আর স্বাদের দিক দিয়েও সবচেয়ে বেশি সুস্বাদু।