ঢাকা ০৭:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকসহ দুই স্বাস্থ্যকর্মীকে বরখাস্ত করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী তরুণ উদ্ভাবকরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ : প্রধানমন্ত্রী কালিয়াকৈরে ৫০ ভিক্ষুক পরিবারের পুনর্বাসনে ২৪ লাখ টাকার বকনা গরু বিতরণ জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এলো ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার ফেনী পাসপোর্ট অফিসের এডি জাহাঙ্গীরকে ঘিরে দালাল সিন্ডিকেটের অভিযোগ সিলেটে দল বদলেছে, দখল বদলায়নি; চাঁদাবাজি চলছে আগের মতোই ডিএনসিসি প্রশাসক ও ঢাকা-১৮ এর এমপির ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ রায়পুরায় মোমেন মিয়া কে গুলি করে হত্যা, আহত ৩ বরগুনায় ডিবির অভিযানে ৩ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার চট্টগ্রাম গণপূর্তে প্রকৌশলী মেহেদী ও এনডিইকে ঘিরে ৫০ লাখ টাকার ঘুষের অভিযোগ

রমজান আসার আগেই নিজেকে গুছিয়ে নিন

  • ধর্ম ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:১৪:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৭৪ বার পড়া হয়েছে

ছবি- সংগৃহীত

পবিত্র মাহে রমজান মুমিনের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আসে। ২০২৬ সালের রমজান মাস কড়া নাড়ছে দুয়ারে। ইসলামি ঐতিহ্য অনুসারে, হুট করে রমজানে প্রবেশ না করে আগে থেকেই এর জন্য মানসিক ও আত্মিক প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এবং সাহাবায়ে কেরাম রমজান আসার বহু আগে থেকেই নিজেদের প্রস্তুত করতেন। পরিকল্পিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই কেবল সিয়াম সাধনার মাসকে পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগানো সম্ভব।

রমজান ২০২৬-কে সামনে রেখে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য ৯টি বিশেষ পরামর্শ বা আমল তুলে ধরা হলো, যা এখন থেকেই শুরু করলে রমজান হবে আরও বরকতময়:

১. কোরআনের সঙ্গে সখ্যতা: রমজান হলো কোরআন নাজিলের মাস। তাই এখন থেকেই প্রতিদিন অন্তত এক পৃষ্ঠা করে তিলাওয়াত, অর্থ অনুধাবন এবং ছোট ছোট সুরা বা আয়াত মুখস্থ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

২. অভ্যাসের পরিবর্তন: রমজান কেবল উপবাসের নাম নয়, এটি আত্মশুদ্ধির মাস। অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম বা সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় নষ্ট না করে ধৈর্য চর্চা, রাগ নিয়ন্ত্রণ এবং গিবত পরিহারের অভ্যাস এখন থেকেই শুরু করুন।

৩. নামাজে একাগ্রতা: রমজানে তারাবিহ ও তাহাজ্জুদের মতো অতিরিক্ত ইবাদত করতে হয়। তাই এখন থেকেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে যত্নবান হওয়া এবং রাতে ওঠার অভ্যাস বা তাহাজ্জুদের প্র্যাকটিস করা শরীর ও মনের জন্য সহায়ক হবে।

৪. খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টি: রোজা রেখে সুস্থ থাকতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস জরুরি। সাহরি ও ইফতারের জন্য সুষম খাবারের পরিকল্পনা, ভাজাপোড়া পরিহার এবং পর্যাপ্ত পানি পানের অভ্যাস এখন থেকেই গড়ে তোলা উচিত।

৫. সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ: লক্ষ্যহীন কাজ অনেক সময় বিফলে যায়। তাই রমজানে আপনি কতটুকু কোরআন খতম করবেন, কতটুকু দান করবেন বা কোন কোন নফল ইবাদত করবেন—তা এখনই ডায়েরিতে লিখে ফেলুন।

৬. ফজিলত সম্পর্কে জ্ঞানার্জন: রমজানের ইতিহাস, রোজার প্রতিদান এবং শবে কদরের গুরুত্ব সম্পর্কে হাদিস ও ইসলামি বই অধ্যয়ন করুন। জ্ঞান ইবাদতের আগ্রহ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

৭. পরিবেশ গুছিয়ে নেওয়া: ইবাদতের জন্য ঘরে একটি নিরিবিলি ও পরিচ্ছন্ন স্থান নির্বাচন করুন। অগোছালো পরিবেশ ও ডিজিটাল ব্যস্ততা কমিয়ে আনলে ইবাদতে মন বসানো সহজ হয়।

৮. সম্পর্ক উন্নয়ন: রমজান সহমর্মিতার মাস। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক ঝালাই করে নিন। তাদের নিয়ে ইফতার বা দানের পরিকল্পনা করুন, এতে রমজানের আনন্দ বাড়বে।

৯. ক্ষমা ও আত্মশুদ্ধি: পবিত্র মাসে প্রবেশের আগে অন্তরকে বিদ্বেষমুক্ত করা জরুরি। যাদের কষ্ট দিয়েছেন তাদের কাছে ক্ষমা চান এবং অন্যদের ক্ষমা করে দিন। পরিচ্ছন্ন হৃদয় নিয়ে রমজানে প্রবেশ করলে আল্লাহর রহমত লাভ সহজ হয়।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকসহ দুই স্বাস্থ্যকর্মীকে বরখাস্ত করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রমজান আসার আগেই নিজেকে গুছিয়ে নিন

আপডেট সময় ০৩:১৪:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

পবিত্র মাহে রমজান মুমিনের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আসে। ২০২৬ সালের রমজান মাস কড়া নাড়ছে দুয়ারে। ইসলামি ঐতিহ্য অনুসারে, হুট করে রমজানে প্রবেশ না করে আগে থেকেই এর জন্য মানসিক ও আত্মিক প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এবং সাহাবায়ে কেরাম রমজান আসার বহু আগে থেকেই নিজেদের প্রস্তুত করতেন। পরিকল্পিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই কেবল সিয়াম সাধনার মাসকে পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগানো সম্ভব।

রমজান ২০২৬-কে সামনে রেখে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য ৯টি বিশেষ পরামর্শ বা আমল তুলে ধরা হলো, যা এখন থেকেই শুরু করলে রমজান হবে আরও বরকতময়:

১. কোরআনের সঙ্গে সখ্যতা: রমজান হলো কোরআন নাজিলের মাস। তাই এখন থেকেই প্রতিদিন অন্তত এক পৃষ্ঠা করে তিলাওয়াত, অর্থ অনুধাবন এবং ছোট ছোট সুরা বা আয়াত মুখস্থ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

২. অভ্যাসের পরিবর্তন: রমজান কেবল উপবাসের নাম নয়, এটি আত্মশুদ্ধির মাস। অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম বা সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় নষ্ট না করে ধৈর্য চর্চা, রাগ নিয়ন্ত্রণ এবং গিবত পরিহারের অভ্যাস এখন থেকেই শুরু করুন।

৩. নামাজে একাগ্রতা: রমজানে তারাবিহ ও তাহাজ্জুদের মতো অতিরিক্ত ইবাদত করতে হয়। তাই এখন থেকেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে যত্নবান হওয়া এবং রাতে ওঠার অভ্যাস বা তাহাজ্জুদের প্র্যাকটিস করা শরীর ও মনের জন্য সহায়ক হবে।

৪. খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টি: রোজা রেখে সুস্থ থাকতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস জরুরি। সাহরি ও ইফতারের জন্য সুষম খাবারের পরিকল্পনা, ভাজাপোড়া পরিহার এবং পর্যাপ্ত পানি পানের অভ্যাস এখন থেকেই গড়ে তোলা উচিত।

৫. সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ: লক্ষ্যহীন কাজ অনেক সময় বিফলে যায়। তাই রমজানে আপনি কতটুকু কোরআন খতম করবেন, কতটুকু দান করবেন বা কোন কোন নফল ইবাদত করবেন—তা এখনই ডায়েরিতে লিখে ফেলুন।

৬. ফজিলত সম্পর্কে জ্ঞানার্জন: রমজানের ইতিহাস, রোজার প্রতিদান এবং শবে কদরের গুরুত্ব সম্পর্কে হাদিস ও ইসলামি বই অধ্যয়ন করুন। জ্ঞান ইবাদতের আগ্রহ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

৭. পরিবেশ গুছিয়ে নেওয়া: ইবাদতের জন্য ঘরে একটি নিরিবিলি ও পরিচ্ছন্ন স্থান নির্বাচন করুন। অগোছালো পরিবেশ ও ডিজিটাল ব্যস্ততা কমিয়ে আনলে ইবাদতে মন বসানো সহজ হয়।

৮. সম্পর্ক উন্নয়ন: রমজান সহমর্মিতার মাস। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক ঝালাই করে নিন। তাদের নিয়ে ইফতার বা দানের পরিকল্পনা করুন, এতে রমজানের আনন্দ বাড়বে।

৯. ক্ষমা ও আত্মশুদ্ধি: পবিত্র মাসে প্রবেশের আগে অন্তরকে বিদ্বেষমুক্ত করা জরুরি। যাদের কষ্ট দিয়েছেন তাদের কাছে ক্ষমা চান এবং অন্যদের ক্ষমা করে দিন। পরিচ্ছন্ন হৃদয় নিয়ে রমজানে প্রবেশ করলে আল্লাহর রহমত লাভ সহজ হয়।