ঢাকা ০৩:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান আবারও প্রমাণ করেছে, রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণ’ জামায়াত এমপির ওপর হামলা, গ্রেপ্তার ৯ যুদ্ধের ডামাডোল পেরিয়ে হজে যাচ্ছেন ৩০ হাজার ইরানি ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়ে প্রাণ গেল যুবকের ​বন বিভাগের ‘মাফিয়া’ সুমন মিয়ার ক্ষমতার দাপট: নির্বাচন কমিশনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি ও কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হরিলুট মিঠাপুকুরে দুই সাংবাদিক ও কয়েকটি পত্রিকার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা স্বরলিপি পাবলিকেশনের কৃতী নারী সম্মাননা ফ্যাসিস্ট মন্ত্রীর প্রভাবে মহাজন, এরপর কোটি টাকার হরিলুট বালিজুড়ী রেঞ্জারের পৈশাচিকতায় ধ্বংস হচ্ছে বন বড়লেখায় পৃথক ২ রাস্তার উন্নয়ন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন নাসির উদ্দিন এমপি দিনে ১০-১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না শেরপুরে, বিপর্যস্ত জনজীবন

চিৎলা পাটবীজ খামারের ধানের নাড়া বিক্রির ২৪ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এর অধীন মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার চিৎলা পাটবীজ খামারের আমন ধানের নাড়া বিক্রির বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে খামারের যুগ্ম পরিচালক (জেডি) মোর্শেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চিৎলা পাটবীজ খামারের তিনটি ব্লকে প্রায় ২০০ একর জমিতে আমন ধানের বীজ উৎপাদন করা হয়। উৎপাদিত ওই জমির ধানের নাড়া প্রতি একর ১২ হাজার টাকা দরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। স্থানীয় কৃষক ও খামারের আশপাশের গ্রামের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ২০০ একর জমির ধানের নাড়া বিক্রি করে আনুমানিক ২০ থেকে ২৪ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানায়, বর্তমান জেডি মোর্শেদুল ইসলাম চিৎলা পাটবীজ খামারে যোগদানের পর থেকে নিয়মিতভাবে খামারের ধানের নাড়া নিজের ব্যক্তিগত গরুর খামারের জন্য ব্যবহার করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতি মৌসুমে ২০ থেকে ৩০ একর জমির ধানের নাড়া চুয়াডাঙ্গায় অবস্থিত তার ব্যক্তিগত গরুর খামারে নিয়ে যাওয়া হয়। বাকি জমির ধানের নাড়া বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হলেও সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে ভোগ করা হচ্ছে।
চলতি মৌসুমে বিক্রি হওয়া আমন ধানের নাড়ার অর্থ সরকারি হিসাবভুক্ত হয়েছে কি না- এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চিৎলা পাটবীজ খামারের জেডি মোর্শেদুল ইসলাম ও বিএডিসির পাটবীজ বিভাগের জিএম দেবদাস সাহার মুঠোফোনে টানা তিন দিন একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
পরবর্তীতে পাটবীজ বিভাগের ম্যানেজার মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, চিৎলা পাটবীজ খামারের জেডি ঢাকা থেকে নাড়া বিক্রির প্রশাসনিক অনুমতি নিয়েছে। অনুমতি নিয়ে কমিটির মাধ্যমে নাড়া বিক্রি করে থাকে। তবে বিক্রির অর্থ কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমি অবগত নই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।
এ বিষয়ে আরও জানতে বিএডিসির বীজ বিভাগের পরিচালক মুজিবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই বিষয়টি আমাদের কাছে আসেনি। এটি মূলত লোকাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বিষয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যেটা ভালো মনে করবে, সেটাই তারা করবে।
এছাড়াও বিএডিসির চেয়ারম্যান মোঃ রুহুল আমিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, চিৎলা পাটবীজ খামারে আউশ ও আমনসহ বিভিন্ন মৌসুমে উৎপাদিত ধানের নাড়া কোনো ধরনের উন্মুক্ত টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই বিক্রি করা হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে বছরে আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা আয় হলেও সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান আবারও প্রমাণ করেছে, রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক জনগণ’

চিৎলা পাটবীজ খামারের ধানের নাড়া বিক্রির ২৪ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৬:৪৭:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এর অধীন মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার চিৎলা পাটবীজ খামারের আমন ধানের নাড়া বিক্রির বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে খামারের যুগ্ম পরিচালক (জেডি) মোর্শেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চিৎলা পাটবীজ খামারের তিনটি ব্লকে প্রায় ২০০ একর জমিতে আমন ধানের বীজ উৎপাদন করা হয়। উৎপাদিত ওই জমির ধানের নাড়া প্রতি একর ১২ হাজার টাকা দরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। স্থানীয় কৃষক ও খামারের আশপাশের গ্রামের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ২০০ একর জমির ধানের নাড়া বিক্রি করে আনুমানিক ২০ থেকে ২৪ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানায়, বর্তমান জেডি মোর্শেদুল ইসলাম চিৎলা পাটবীজ খামারে যোগদানের পর থেকে নিয়মিতভাবে খামারের ধানের নাড়া নিজের ব্যক্তিগত গরুর খামারের জন্য ব্যবহার করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতি মৌসুমে ২০ থেকে ৩০ একর জমির ধানের নাড়া চুয়াডাঙ্গায় অবস্থিত তার ব্যক্তিগত গরুর খামারে নিয়ে যাওয়া হয়। বাকি জমির ধানের নাড়া বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হলেও সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে ভোগ করা হচ্ছে।
চলতি মৌসুমে বিক্রি হওয়া আমন ধানের নাড়ার অর্থ সরকারি হিসাবভুক্ত হয়েছে কি না- এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চিৎলা পাটবীজ খামারের জেডি মোর্শেদুল ইসলাম ও বিএডিসির পাটবীজ বিভাগের জিএম দেবদাস সাহার মুঠোফোনে টানা তিন দিন একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
পরবর্তীতে পাটবীজ বিভাগের ম্যানেজার মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, চিৎলা পাটবীজ খামারের জেডি ঢাকা থেকে নাড়া বিক্রির প্রশাসনিক অনুমতি নিয়েছে। অনুমতি নিয়ে কমিটির মাধ্যমে নাড়া বিক্রি করে থাকে। তবে বিক্রির অর্থ কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে, সে বিষয়ে আমি অবগত নই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।
এ বিষয়ে আরও জানতে বিএডিসির বীজ বিভাগের পরিচালক মুজিবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই বিষয়টি আমাদের কাছে আসেনি। এটি মূলত লোকাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বিষয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ যেটা ভালো মনে করবে, সেটাই তারা করবে।
এছাড়াও বিএডিসির চেয়ারম্যান মোঃ রুহুল আমিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, চিৎলা পাটবীজ খামারে আউশ ও আমনসহ বিভিন্ন মৌসুমে উৎপাদিত ধানের নাড়া কোনো ধরনের উন্মুক্ত টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই বিক্রি করা হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে বছরে আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা আয় হলেও সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।