সংবাদ শিরোনাম ::
বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের এলাকায়ও সমানভাবে কাজ করা হবে : প্রধানমন্ত্রী পার্বতীপুরে যুবদলের ১৩ জুন ঈদ পূর্ণমিলনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সফল করতে সংবাদ সম্মেলন রাজবাড়ীর কালুখালীতে গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা অনুষ্ঠিত তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে কালিহাতীতে যুবদলের আনন্দ মিছিল ‎ সুন্দরবনে অস্ত্র-গুলিসহ জোনাব বাহিনীর ৩ সদস্য আটক তালাক ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে, কাজীর ভূমিকা ও ফৌজদারি অভিযোগ যে শর্তে কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন মমতা? কুমিল্লা মহাসড়কে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর: ডিবির অভিযানে গ্রেপ্তার ১৯ পলাশে গাঁজার গাছসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার  পুলিশ সুপারের কালিয়াকৈর থানা বার্ষিক পরিদর্শন

উপ-উপাচার্যের বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে চবির প্রশাসনিক ভবনে তালা

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানের বিতর্কিত মন্তব্যকে ঘিরে তার পদত্যাগ দাবি করেছে ছাত্রদল ও বাম সংগঠনের নেতাকর্মীরা। দাবি আদায়ে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়েছেন তারা।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় তালা দেন তারা। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (বিকেল পৌনে ৫টা) প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়া রয়েছে।
চবি উপ-উপাচার্যের এ পদত্যাগ দাবিতে সংহতি জানিয়েছে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সংগঠক ধ্রুব বড়ুয়া, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি জশদ জাকির, প্রচার সম্পাদক মুশরেফুল হক রাকিব, সদস্য ও অতীশ দীপংকর হল সংসদের ভিপি রিপুল চাকমা, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদ শাহরিয়ার, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সংগঠক চন্দনা রানী, ছাত্র ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক শেখ জুনায়েদ কবির ও নারী অঙ্গনের সংগঠক সুমাইয়া শিকদার।

এ বিষয়ে চবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ জনগণের করের টাকায় পরিচালিত হয়। জামায়াতিদের টাকায় নয়, বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খান পাকিস্তানি বাহিনীকে যোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অথচ ওই বাহিনী এ দেশের জনগণের ওপর দমন পীড়ন ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। এ ধরনের বক্তব্যের জন্য উপ-উপাচার্যকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতারের কাছে ফোন করলে তিনি ঢাকায় একটি মিটিংয়ে রয়েছেন বলে এ বিষয়ে মন্তব্য করেননি।

এর আগে গতকাল শনিবার শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে চবি প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খান বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণের দিন নির্ধারিত ছিল। তারা (পাকিস্তান সেনাবাহিনী) ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তারা জীবিত না মৃত অবস্থায় ফিরবে- সে বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করবে- এই ধারণা রীতিমতো অবান্তর।

তিনি আরও বলেন, ‘এটি একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। এই দেশকে অন্য একটি দেশের করদরাজ্যে পরিণত করার লক্ষ্যেই বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছে।’

চবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খানের এ মন্তব্যের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশজুড়ে তীব্র বির্তক সৃষ্টি হয়। এই মন্তব্যের প্রতিবাদে গতরাতে চবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ছাত্রদলসহ বিভিন্ন বামপন্থি সংগঠন।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের এলাকায়ও সমানভাবে কাজ করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

উপ-উপাচার্যের বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে চবির প্রশাসনিক ভবনে তালা

আপডেট সময় ০৫:৪৩:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানের বিতর্কিত মন্তব্যকে ঘিরে তার পদত্যাগ দাবি করেছে ছাত্রদল ও বাম সংগঠনের নেতাকর্মীরা। দাবি আদায়ে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়েছেন তারা।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় তালা দেন তারা। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (বিকেল পৌনে ৫টা) প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়া রয়েছে।
চবি উপ-উপাচার্যের এ পদত্যাগ দাবিতে সংহতি জানিয়েছে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের সংগঠক ধ্রুব বড়ুয়া, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি জশদ জাকির, প্রচার সম্পাদক মুশরেফুল হক রাকিব, সদস্য ও অতীশ দীপংকর হল সংসদের ভিপি রিপুল চাকমা, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদ শাহরিয়ার, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সংগঠক চন্দনা রানী, ছাত্র ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক শেখ জুনায়েদ কবির ও নারী অঙ্গনের সংগঠক সুমাইয়া শিকদার।

এ বিষয়ে চবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ জনগণের করের টাকায় পরিচালিত হয়। জামায়াতিদের টাকায় নয়, বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খান পাকিস্তানি বাহিনীকে যোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অথচ ওই বাহিনী এ দেশের জনগণের ওপর দমন পীড়ন ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। এ ধরনের বক্তব্যের জন্য উপ-উপাচার্যকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতারের কাছে ফোন করলে তিনি ঢাকায় একটি মিটিংয়ে রয়েছেন বলে এ বিষয়ে মন্তব্য করেননি।

এর আগে গতকাল শনিবার শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে চবি প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খান বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণের দিন নির্ধারিত ছিল। তারা (পাকিস্তান সেনাবাহিনী) ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তারা জীবিত না মৃত অবস্থায় ফিরবে- সে বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করবে- এই ধারণা রীতিমতো অবান্তর।

তিনি আরও বলেন, ‘এটি একটি আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। এই দেশকে অন্য একটি দেশের করদরাজ্যে পরিণত করার লক্ষ্যেই বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছে।’

চবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খানের এ মন্তব্যের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশজুড়ে তীব্র বির্তক সৃষ্টি হয়। এই মন্তব্যের প্রতিবাদে গতরাতে চবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ছাত্রদলসহ বিভিন্ন বামপন্থি সংগঠন।