ঢাকা ০৫:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নীলফামারী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ‘ভুয়া ডিবি ও ডলার প্রতারক’ চক্রের ০১ জন সক্রীয় সদস্য গ্রেফতার। মনোহরগঞ্জে সন্ত্রাসী কায়দায় গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ পিএসএলের বাকি অংশে খেলা হচ্ছে না নাহিদ-মুস্তাফিজের কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অনিয়মকেই নিয়মে পরিনত করছেন মাদারীপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার বেরোবিতে আন্তঃবিভাগ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত আইইএলটিএস পরীক্ষা দিতে আসা তরুণীর লাশ মিলল হোটেলের বাথরুমে বড়লেখা উপজেলা পৌর ছাত্রদল ও বড়লেখা উপজেলা শাখার ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তনু হত্যায় গ্রেপ্তার হাফিজুরের ডিএনএর নমুনা সংগ্রহ বিসিকের টেন্ডার সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রাশেদ! ঘোড়াশালে চাঁদাবাজ মহিউদ্দিনের দাপট, স্বাস্থ্যকেন্দ্র দখলের অভিযোগ
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

আলিমুল ইসলাম-আসাদ উদ দৌলা-আশরাফুজ্জামান সিণ্ডিকেটে নিয়োগ জালিয়াতি

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সিকৃবি) সাম্প্রতিক সময়ে যে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালিয়েছে, সেটিকে ঘিরে এখন তীব্র বিতর্ক, ক্ষোভ ও প্রশ্নের ঝড় বইছে ক্যাম্পাসজুড়ে। সাধারণ প্রার্থীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সাবেক শিক্ষার্থীদের অনেকেই মনে করছেন—এটি কোনো সাধারণ প্রশাসনিক ভুল নয়; এটি একটি সুচিন্তিত, সুপরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যমূলক নিয়োগ জালিয়াতি। এর মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস–চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আলিমুল ইসলাম। অভিযোগের আঙুল উঠছে রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. আসাদ-উদ-দৌলা এবং ইন্টারভিউ কার্ড পাঠানো উপরেজিস্ট্রার মো. আশরাফুজ্জামানের দিকেও। পুরো প্রক্রিয়াটি এমন কৌশলে সাজানো হয়েছে, যাতে নির্দিষ্ট ‘পছন্দের প্রার্থী’ চাকরি পান এবং যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দেওয়া যায়—এই অভিযোগ এখন ক্যাম্পাসজুড়ে বহুল আলোচিত।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে, বিদেশে কর্মরত এক উচ্চ যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থী ড. আজিজুল হককে কীভাবে ইচ্ছাকৃতভাবে এমন একটি অবস্থায় ফেলা হলো যাতে তিনি স্বাভাবিকভাবে ইন্টারভিউ বোর্ডে হাজির হতে অক্ষম হন। ঘটনাটি শুধু অদ্ভুত নয়, বরং এমনভাবে পরিকল্পিত যে ব্যাখ্যা দেওয়ার কোনো সুযোগই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রাখেনি। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. আজিজুল হক সিকৃবির এনিমেল অ্যান্ড ফিশ বায়োটেকনোলজি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। তিনি আবেদনপত্রে স্পষ্টভাবে লিখেছিলেন যে তিনি বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মরত। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার এই তথ্য জানতেও। তা সত্ত্বেও তাকে মাত্র ১০ ঘণ্টার নোটিশে ইন্টারভিউ বোর্ডে হাজির হওয়ার নির্দেশনা পাঠানো হয়। এমন নির্দেশনা কেবল অযৌক্তিক নয়, বরং এমনভাবে সাজানো যাতে তিনি চাইলেও অংশগ্রহণ করতে না পারেন—এটাই এখন সবার প্রশ্নের কেন্দ্রবিন্দু।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিস থেকে পাঠানো ইমেইলটি আসে ১ ডিসেম্বর গভীর রাতে, বাংলাদেশ সময় ১২টা ৫২ মিনিটে। সেখানে কোনো লেখা ছিল না—শুধু একটি পিডিএফ ফাইল। সেই ফাইলে লেখা ছিল, প্রার্থীকে পরদিন সকাল ১১টার মধ্যে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত পরীক্ষা, ডেমো ক্লাস এবং ভাইভায় অংশ নিতে হবে। কোরিয়াতে অবস্থানরত এক প্রার্থীকে ১০ ঘণ্টার মধ্যে সিলেটে হাজির হওয়া যে অসম্ভব, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা না জানেন—এটা কেউই বিশ্বাস করতে রাজি নন। ঢাকা থেকে সিলেটে আসতেই এখন প্রায় ১৭ থেকে ২০ ঘণ্টা লেগে যায়। সেখানে অন্য দেশে থাকা কারো জন্য এমন নোটিশ পাঠানো যে অযৌক্তিক, তা বোঝার জন্য প্রশাসনিক জ্ঞান দরকার পড়ে না—শুধু সাধারণ বোধই যথেষ্ট।

এখন প্রশ্ন—এই ইন্টারভিউ কার্ড ইস্যু করা হয়েছিল কবে? সেটি ইস্যু করা হয়েছিল ২৫ নভেম্বর। কিন্তু পাঠানো হলো ১ ডিসেম্বর রাত ১২টা ৫২ মিনিটে। কেন? এই ৬ দিন এটি কোথায় ছিল? কেন গোপন করা হলো? কার নির্দেশে এটি ‘ঠিক সময়ে’ না পাঠিয়ে গভীর রাতের ভৌতিক সময়টিতে পাঠানো হলো? সিকৃবি ক্যাম্পাস এখন এই প্রশ্নেই মুখর।

সবাইয়ের মতে, এই বিলম্ব ছিল একদমই পরিকল্পিত। যাতে ড. আজিজুল হক আসতে না পারেন এবং আগে থেকেই যাদের ঠিক করা আছে, তারা নির্বিঘ্নে সুযোগ পান। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মন্তব্য করেছেন—এটি মোটেও কোনো প্রশাসনিক ভুল নয়; বরং একটি “স্ক্রিপ্টেড প্রক্রিয়া”, যার নেপথ্যে আছেন ভিসি প্রফেসর ড. আলিমুল ইসলাম। তার পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার জন্যই ইচ্ছাকৃতভাবে যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দিতে এমন অদ্ভুত কৌশল নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ আছে—ভিসির ঘনিষ্ঠ মহলের একাধিক ব্যক্তি ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং তারা আগেই জানতেন কারা সুযোগ পাবেন। এমনকি ইন্টারভিউর সময়সূচি ঘোষণার মাত্র ৬ কার্যদিবস পরেই ইন্টারভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্তও তাদের সুবিধার্থেই।

বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে যখন ড. আজিজুল হক নিজেই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেন। তার বক্তব্য—এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলক। তিনি আরও লিখেছেন যে যদি বিশ্ববিদ্যালয় সঠিক ব্যাখ্যা না দেয়, তিনি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন।

যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এই অভিযোগ সম্পর্কে জানল, তখন তারা তেমন কোনো স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। উপরেজিস্ট্রার আশরাফুজ্জামান প্রথমে ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে রেজিস্ট্রারের সঙ্গে কথা বলার নির্দেশ দেন। রেজিস্ট্রার ড. আসাদ-উদ-দৌলা টেলিফোন ধরেননি, বার্তা পাঠালে উত্তর দেননি। পরে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ইমেইলটি ৩০ তারিখে পাঠানো হয়েছিল—যা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, কারণ প্রার্থীর কাছে পৌঁছেছে ১ ডিসেম্বর গভীর রাতে। আবার তিনি দাবি করেন, প্রার্থী যোগ্য নন। কিন্তু যোগ্যতার এই ব্যাখ্যাও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ—কারণ তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করায় তার অভিজ্ঞতা অর্ধেক ধরা হয়েছে। অথচ অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা পূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। সেটিকেই এখানে বিকৃতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

ক্যাম্পাসের কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন—ভিসি আলিমুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজের মতো করে সাজাচ্ছেন। তার ঘনিষ্ঠ নয় এমন কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে নিয়োগ পাচ্ছেন না। যারা বিরোধিতা করেন, তাদের হয়রানি করা হয় অথবা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তারা আরও বলেছেন—এই নিয়োগ প্রক্রিয়া ভিসির ‘ব্যক্তিগত নিয়োগ প্রকল্প’-এর অংশ, যেখানে তার আস্থাভাজনরা সব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তারা তা বাস্তবায়ন করেছেন।

ড. আজিজুল হক এই পদের জন্য কেন যোগ্য—তার একটি স্পষ্ট বিবরণ তিনি দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের কৃষি শিক্ষার সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও এমএস সম্পন্ন করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ায় পিএইচডি, পোস্ট-ডক সম্পন্ন করে বর্তমানে গবেষণা ও শিক্ষায় সক্রিয় অবস্থানে আছেন। এমন একজন যোগ্য প্রার্থীকে জালিয়াতি কৌশলে বাদ দেওয়ার চেষ্টা শুধু সিকৃবির ভাবমূর্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেনি; বরং দেখিয়ে দিয়েছে—বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ এখন কাদের হাতে, কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

ভিসিকে যখন এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়, তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এড়িয়ে যাওয়া, নীরবতা এবং দায় অন্যের ওপর চাপানো—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও অস্পষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। অনেকেই বলছেন—ভিসি যদি নির্দোষ হন, তবে তিনি স্পষ্ট বক্তব্য দিতে পারতেন; ব্যাখ্যা দিতে পারতেন কেন একটি ইন্টারভিউ কার্ড ২৫ নভেম্বর ইস্যু হওয়ার পরও পাঠানো হলো ১ ডিসেম্বর গভীর রাতে। কিন্তু তিনি প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি হতে চাননি।

এই ঘটনা শুধু একটি নিয়োগের নয়; এটি সিকৃবির প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা, স্বজনপ্রীতি, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রতিচ্ছবি। শিক্ষাঙ্গনে ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগ—এসব মূল্যবোধ আর কোথাও দেখা যায় না। বরং যারা ক্ষমতার কাছে ঘনিষ্ঠ, তারাই সুযোগ পাচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ শিক্ষকরা বলছেন—এই ঘটনা যদি তদন্ত হয়, তবে বহু অনিয়ম বেরিয়ে আসবে। কমপক্ষে তিনজন ব্যক্তি সরাসরি দায়ী—ভিসি ড. আলিমুল ইসলাম, রেজিস্ট্রার ড. আসাদ-উদ-দৌলা এবং উপরেজিস্ট্রার মো. আশরাফুজ্জামান। তাদের সম্মিলিত পরিকল্পনা ছাড়া এমন একটি নাটক সাজানো সম্ভব নয়। ইন্টারভিউ কার্ড দেরিতে পাঠানো, সময়সীমা অস্বাভাবিকভাবে কম দেওয়া, নিয়ম ব্যাখ্যায় অসঙ্গতি সৃষ্টি, ফোনধরা এড়িয়ে যাওয়া—সবই একটি উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে করা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আরও বলছেন—এ ধরনের জালিয়াতি শুধুমাত্র প্রশাসনিক অনিয়ম নয়; এটি মেধার প্রতি চরম অবজ্ঞা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যতের জন্য হুমকি। যারা প্রকৃতভাবে যোগ্য, তারা যদি এমন কৌশলে বাদ পড়ে, তাহলে সিকৃবি কীভাবে একটি গবেষণাধর্মী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড়াবে? এমনকি প্রার্থীর আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে—যা আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতির পরিপন্থী।

এই পুরো প্রক্রিয়া যে পরিকল্পিত, তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে মাত্র ২০ ডিসেম্বর, এবং ৬ কার্যদিবসের মধ্যেই ইন্টারভিউ। এটি প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে অস্বাভাবিক দ্রুত। কারণ, একটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সাধারণত এক মাস বা তারও বেশি সময়ের প্রস্তুতি রাখা হয়। এখানে তা না রেখে হঠাৎ নিয়োগ প্রসেস শুরু করে দ্রুত শেষ করার যে চেষ্টা, তা দেখেই অনেকে বলছেন—আগে থেকেই সব ঠিক করা ছিল। ইন্টারভিউ বোর্ড কেবল আনুষ্ঠানিকতা।

ড. আজিজুল হকের বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়—তিনি বিশ্বাস করেন যে তাকে নিষ্কাশন করার জন্যই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন—“যদি ইন্টারভিউ কার্ড সত্যিই ২৫ নভেম্বর ইস্যু হয়ে থাকে, তবে এতদিন আমাকে এটি পাঠানো হয়নি কেন? এটি কি কোনো পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার অংশ নয়?”
এই বক্তব্যের পর থেকেই প্রশাসনের স্বচ্ছতা আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

যারা ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরে আছেন, তারা বলছেন—এই প্রথম নয়। ভিসির আমলে এর আগেও অনিয়ম হয়েছে। কিন্তু এবার বিষয়টি এতটাই প্রকাশ্য যে কেউ আর অস্বীকার করতে পারছেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকেই বলছেন—এই ভিসির সময় সিকৃবির নিয়োগ প্রক্রিয়া ন্যায্যতা হারিয়েছে। তিনি তাঁর পছন্দের লোক ছাড়া কাউকে জায়গা দিচ্ছেন না। আর তাঁর ঘনিষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এই কারসাজি বাস্তবায়ন করছেন।

সব মিলিয়ে সিকৃবি ক্যাম্পাসে এখন প্রধান প্রশ্ন একটি—এই জালিয়াতির দায় কে নেবে? ক্যাম্পাসের অভিজ্ঞরা বলছেন—প্রথম দায় ভিসি প্রফেসর ড. আলিমুল ইসলামের। কারণ, নিয়োগ প্রক্রিয়ার সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব তার হাতে। দ্বিতীয়ত রেজিস্ট্রার ড. আসাদ-উদ-দৌলা, যিনি এই কার্ডে স্বাক্ষর করেছেন এবং তথ্য গোপন করেছেন। তৃতীয়ত উপরেজিস্ট্রার আশরাফুজ্জামান, যিনি রাতে ইমেইল পাঠিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছেন।

এই ঘটনাকে ‘অদ্ভুত জালিয়াতি’ বলা হচ্ছে কারণ এতে আইনের, নিয়মের, শালীনতার এবং ন্যায্যতার সব সীমা লঙ্ঘন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে যখন এমন কৌশলে যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়, তখন সেটি শুধু একটি নিয়োগ নয়—এটি পুরো প্রশাসনের নৈতিক পতনের চিত্র।

এখন দেখার বিষয়—এই ঘটনা তদন্তের মুখ দেখে কিনা, কিংবা দায়িত্বশীলরা আবারও নীরবতার আড়ালে দায় এড়াতে সক্ষম হন কি না। কিন্তু যাই হোক, সিকৃবির নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওপর যে আস্থা ছিল, তা ইতিমধ্যে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নীলফামারী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ‘ভুয়া ডিবি ও ডলার প্রতারক’ চক্রের ০১ জন সক্রীয় সদস্য গ্রেফতার।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

আলিমুল ইসলাম-আসাদ উদ দৌলা-আশরাফুজ্জামান সিণ্ডিকেটে নিয়োগ জালিয়াতি

আপডেট সময় ১২:০২:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সিকৃবি) সাম্প্রতিক সময়ে যে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালিয়েছে, সেটিকে ঘিরে এখন তীব্র বিতর্ক, ক্ষোভ ও প্রশ্নের ঝড় বইছে ক্যাম্পাসজুড়ে। সাধারণ প্রার্থীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সাবেক শিক্ষার্থীদের অনেকেই মনে করছেন—এটি কোনো সাধারণ প্রশাসনিক ভুল নয়; এটি একটি সুচিন্তিত, সুপরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যমূলক নিয়োগ জালিয়াতি। এর মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস–চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আলিমুল ইসলাম। অভিযোগের আঙুল উঠছে রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. আসাদ-উদ-দৌলা এবং ইন্টারভিউ কার্ড পাঠানো উপরেজিস্ট্রার মো. আশরাফুজ্জামানের দিকেও। পুরো প্রক্রিয়াটি এমন কৌশলে সাজানো হয়েছে, যাতে নির্দিষ্ট ‘পছন্দের প্রার্থী’ চাকরি পান এবং যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দেওয়া যায়—এই অভিযোগ এখন ক্যাম্পাসজুড়ে বহুল আলোচিত।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে, বিদেশে কর্মরত এক উচ্চ যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থী ড. আজিজুল হককে কীভাবে ইচ্ছাকৃতভাবে এমন একটি অবস্থায় ফেলা হলো যাতে তিনি স্বাভাবিকভাবে ইন্টারভিউ বোর্ডে হাজির হতে অক্ষম হন। ঘটনাটি শুধু অদ্ভুত নয়, বরং এমনভাবে পরিকল্পিত যে ব্যাখ্যা দেওয়ার কোনো সুযোগই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রাখেনি। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. আজিজুল হক সিকৃবির এনিমেল অ্যান্ড ফিশ বায়োটেকনোলজি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। তিনি আবেদনপত্রে স্পষ্টভাবে লিখেছিলেন যে তিনি বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মরত। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার এই তথ্য জানতেও। তা সত্ত্বেও তাকে মাত্র ১০ ঘণ্টার নোটিশে ইন্টারভিউ বোর্ডে হাজির হওয়ার নির্দেশনা পাঠানো হয়। এমন নির্দেশনা কেবল অযৌক্তিক নয়, বরং এমনভাবে সাজানো যাতে তিনি চাইলেও অংশগ্রহণ করতে না পারেন—এটাই এখন সবার প্রশ্নের কেন্দ্রবিন্দু।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অফিস থেকে পাঠানো ইমেইলটি আসে ১ ডিসেম্বর গভীর রাতে, বাংলাদেশ সময় ১২টা ৫২ মিনিটে। সেখানে কোনো লেখা ছিল না—শুধু একটি পিডিএফ ফাইল। সেই ফাইলে লেখা ছিল, প্রার্থীকে পরদিন সকাল ১১টার মধ্যে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত পরীক্ষা, ডেমো ক্লাস এবং ভাইভায় অংশ নিতে হবে। কোরিয়াতে অবস্থানরত এক প্রার্থীকে ১০ ঘণ্টার মধ্যে সিলেটে হাজির হওয়া যে অসম্ভব, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা না জানেন—এটা কেউই বিশ্বাস করতে রাজি নন। ঢাকা থেকে সিলেটে আসতেই এখন প্রায় ১৭ থেকে ২০ ঘণ্টা লেগে যায়। সেখানে অন্য দেশে থাকা কারো জন্য এমন নোটিশ পাঠানো যে অযৌক্তিক, তা বোঝার জন্য প্রশাসনিক জ্ঞান দরকার পড়ে না—শুধু সাধারণ বোধই যথেষ্ট।

এখন প্রশ্ন—এই ইন্টারভিউ কার্ড ইস্যু করা হয়েছিল কবে? সেটি ইস্যু করা হয়েছিল ২৫ নভেম্বর। কিন্তু পাঠানো হলো ১ ডিসেম্বর রাত ১২টা ৫২ মিনিটে। কেন? এই ৬ দিন এটি কোথায় ছিল? কেন গোপন করা হলো? কার নির্দেশে এটি ‘ঠিক সময়ে’ না পাঠিয়ে গভীর রাতের ভৌতিক সময়টিতে পাঠানো হলো? সিকৃবি ক্যাম্পাস এখন এই প্রশ্নেই মুখর।

সবাইয়ের মতে, এই বিলম্ব ছিল একদমই পরিকল্পিত। যাতে ড. আজিজুল হক আসতে না পারেন এবং আগে থেকেই যাদের ঠিক করা আছে, তারা নির্বিঘ্নে সুযোগ পান। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মন্তব্য করেছেন—এটি মোটেও কোনো প্রশাসনিক ভুল নয়; বরং একটি “স্ক্রিপ্টেড প্রক্রিয়া”, যার নেপথ্যে আছেন ভিসি প্রফেসর ড. আলিমুল ইসলাম। তার পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার জন্যই ইচ্ছাকৃতভাবে যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দিতে এমন অদ্ভুত কৌশল নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ আছে—ভিসির ঘনিষ্ঠ মহলের একাধিক ব্যক্তি ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং তারা আগেই জানতেন কারা সুযোগ পাবেন। এমনকি ইন্টারভিউর সময়সূচি ঘোষণার মাত্র ৬ কার্যদিবস পরেই ইন্টারভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্তও তাদের সুবিধার্থেই।

বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে যখন ড. আজিজুল হক নিজেই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেন। তার বক্তব্য—এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলক। তিনি আরও লিখেছেন যে যদি বিশ্ববিদ্যালয় সঠিক ব্যাখ্যা না দেয়, তিনি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন।

যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এই অভিযোগ সম্পর্কে জানল, তখন তারা তেমন কোনো স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। উপরেজিস্ট্রার আশরাফুজ্জামান প্রথমে ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে রেজিস্ট্রারের সঙ্গে কথা বলার নির্দেশ দেন। রেজিস্ট্রার ড. আসাদ-উদ-দৌলা টেলিফোন ধরেননি, বার্তা পাঠালে উত্তর দেননি। পরে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ইমেইলটি ৩০ তারিখে পাঠানো হয়েছিল—যা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, কারণ প্রার্থীর কাছে পৌঁছেছে ১ ডিসেম্বর গভীর রাতে। আবার তিনি দাবি করেন, প্রার্থী যোগ্য নন। কিন্তু যোগ্যতার এই ব্যাখ্যাও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ—কারণ তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করায় তার অভিজ্ঞতা অর্ধেক ধরা হয়েছে। অথচ অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা পূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। সেটিকেই এখানে বিকৃতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

ক্যাম্পাসের কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন—ভিসি আলিমুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজের মতো করে সাজাচ্ছেন। তার ঘনিষ্ঠ নয় এমন কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে নিয়োগ পাচ্ছেন না। যারা বিরোধিতা করেন, তাদের হয়রানি করা হয় অথবা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তারা আরও বলেছেন—এই নিয়োগ প্রক্রিয়া ভিসির ‘ব্যক্তিগত নিয়োগ প্রকল্প’-এর অংশ, যেখানে তার আস্থাভাজনরা সব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তারা তা বাস্তবায়ন করেছেন।

ড. আজিজুল হক এই পদের জন্য কেন যোগ্য—তার একটি স্পষ্ট বিবরণ তিনি দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের কৃষি শিক্ষার সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স ও এমএস সম্পন্ন করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ায় পিএইচডি, পোস্ট-ডক সম্পন্ন করে বর্তমানে গবেষণা ও শিক্ষায় সক্রিয় অবস্থানে আছেন। এমন একজন যোগ্য প্রার্থীকে জালিয়াতি কৌশলে বাদ দেওয়ার চেষ্টা শুধু সিকৃবির ভাবমূর্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেনি; বরং দেখিয়ে দিয়েছে—বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ এখন কাদের হাতে, কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

ভিসিকে যখন এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়, তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এড়িয়ে যাওয়া, নীরবতা এবং দায় অন্যের ওপর চাপানো—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও অস্পষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। অনেকেই বলছেন—ভিসি যদি নির্দোষ হন, তবে তিনি স্পষ্ট বক্তব্য দিতে পারতেন; ব্যাখ্যা দিতে পারতেন কেন একটি ইন্টারভিউ কার্ড ২৫ নভেম্বর ইস্যু হওয়ার পরও পাঠানো হলো ১ ডিসেম্বর গভীর রাতে। কিন্তু তিনি প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি হতে চাননি।

এই ঘটনা শুধু একটি নিয়োগের নয়; এটি সিকৃবির প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা, স্বজনপ্রীতি, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রতিচ্ছবি। শিক্ষাঙ্গনে ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগ—এসব মূল্যবোধ আর কোথাও দেখা যায় না। বরং যারা ক্ষমতার কাছে ঘনিষ্ঠ, তারাই সুযোগ পাচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ শিক্ষকরা বলছেন—এই ঘটনা যদি তদন্ত হয়, তবে বহু অনিয়ম বেরিয়ে আসবে। কমপক্ষে তিনজন ব্যক্তি সরাসরি দায়ী—ভিসি ড. আলিমুল ইসলাম, রেজিস্ট্রার ড. আসাদ-উদ-দৌলা এবং উপরেজিস্ট্রার মো. আশরাফুজ্জামান। তাদের সম্মিলিত পরিকল্পনা ছাড়া এমন একটি নাটক সাজানো সম্ভব নয়। ইন্টারভিউ কার্ড দেরিতে পাঠানো, সময়সীমা অস্বাভাবিকভাবে কম দেওয়া, নিয়ম ব্যাখ্যায় অসঙ্গতি সৃষ্টি, ফোনধরা এড়িয়ে যাওয়া—সবই একটি উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে করা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আরও বলছেন—এ ধরনের জালিয়াতি শুধুমাত্র প্রশাসনিক অনিয়ম নয়; এটি মেধার প্রতি চরম অবজ্ঞা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যতের জন্য হুমকি। যারা প্রকৃতভাবে যোগ্য, তারা যদি এমন কৌশলে বাদ পড়ে, তাহলে সিকৃবি কীভাবে একটি গবেষণাধর্মী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাঁড়াবে? এমনকি প্রার্থীর আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে—যা আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতির পরিপন্থী।

এই পুরো প্রক্রিয়া যে পরিকল্পিত, তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে মাত্র ২০ ডিসেম্বর, এবং ৬ কার্যদিবসের মধ্যেই ইন্টারভিউ। এটি প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে অস্বাভাবিক দ্রুত। কারণ, একটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সাধারণত এক মাস বা তারও বেশি সময়ের প্রস্তুতি রাখা হয়। এখানে তা না রেখে হঠাৎ নিয়োগ প্রসেস শুরু করে দ্রুত শেষ করার যে চেষ্টা, তা দেখেই অনেকে বলছেন—আগে থেকেই সব ঠিক করা ছিল। ইন্টারভিউ বোর্ড কেবল আনুষ্ঠানিকতা।

ড. আজিজুল হকের বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়—তিনি বিশ্বাস করেন যে তাকে নিষ্কাশন করার জন্যই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন—“যদি ইন্টারভিউ কার্ড সত্যিই ২৫ নভেম্বর ইস্যু হয়ে থাকে, তবে এতদিন আমাকে এটি পাঠানো হয়নি কেন? এটি কি কোনো পরিকল্পিত প্রক্রিয়ার অংশ নয়?”
এই বক্তব্যের পর থেকেই প্রশাসনের স্বচ্ছতা আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

যারা ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরে আছেন, তারা বলছেন—এই প্রথম নয়। ভিসির আমলে এর আগেও অনিয়ম হয়েছে। কিন্তু এবার বিষয়টি এতটাই প্রকাশ্য যে কেউ আর অস্বীকার করতে পারছেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকেই বলছেন—এই ভিসির সময় সিকৃবির নিয়োগ প্রক্রিয়া ন্যায্যতা হারিয়েছে। তিনি তাঁর পছন্দের লোক ছাড়া কাউকে জায়গা দিচ্ছেন না। আর তাঁর ঘনিষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এই কারসাজি বাস্তবায়ন করছেন।

সব মিলিয়ে সিকৃবি ক্যাম্পাসে এখন প্রধান প্রশ্ন একটি—এই জালিয়াতির দায় কে নেবে? ক্যাম্পাসের অভিজ্ঞরা বলছেন—প্রথম দায় ভিসি প্রফেসর ড. আলিমুল ইসলামের। কারণ, নিয়োগ প্রক্রিয়ার সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব তার হাতে। দ্বিতীয়ত রেজিস্ট্রার ড. আসাদ-উদ-দৌলা, যিনি এই কার্ডে স্বাক্ষর করেছেন এবং তথ্য গোপন করেছেন। তৃতীয়ত উপরেজিস্ট্রার আশরাফুজ্জামান, যিনি রাতে ইমেইল পাঠিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছেন।

এই ঘটনাকে ‘অদ্ভুত জালিয়াতি’ বলা হচ্ছে কারণ এতে আইনের, নিয়মের, শালীনতার এবং ন্যায্যতার সব সীমা লঙ্ঘন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে যখন এমন কৌশলে যোগ্য প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়, তখন সেটি শুধু একটি নিয়োগ নয়—এটি পুরো প্রশাসনের নৈতিক পতনের চিত্র।

এখন দেখার বিষয়—এই ঘটনা তদন্তের মুখ দেখে কিনা, কিংবা দায়িত্বশীলরা আবারও নীরবতার আড়ালে দায় এড়াতে সক্ষম হন কি না। কিন্তু যাই হোক, সিকৃবির নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওপর যে আস্থা ছিল, তা ইতিমধ্যে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।