ঢাকা ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নীলফামারী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ‘ভুয়া ডিবি ও ডলার প্রতারক’ চক্রের ০১ জন সক্রীয় সদস্য গ্রেফতার। মনোহরগঞ্জে সন্ত্রাসী কায়দায় গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ পিএসএলের বাকি অংশে খেলা হচ্ছে না নাহিদ-মুস্তাফিজের কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অনিয়মকেই নিয়মে পরিনত করছেন মাদারীপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার বেরোবিতে আন্তঃবিভাগ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত আইইএলটিএস পরীক্ষা দিতে আসা তরুণীর লাশ মিলল হোটেলের বাথরুমে বড়লেখা উপজেলা পৌর ছাত্রদল ও বড়লেখা উপজেলা শাখার ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তনু হত্যায় গ্রেপ্তার হাফিজুরের ডিএনএর নমুনা সংগ্রহ বিসিকের টেন্ডার সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রাশেদ! ঘোড়াশালে চাঁদাবাজ মহিউদ্দিনের দাপট, স্বাস্থ্যকেন্দ্র দখলের অভিযোগ

সিদ্ধিরগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নজরুলের মৃত্যু : তিন প্রকৌশলীর দায়িত্বহীনতার প্রশ্ন

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ১১:২৩:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫৭৫ বার পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সঞ্চালন লাইনে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ডিপিডিসির বার্ষিক ঠিকাদারি শ্রমিক মো. নজরুল ইসলামের মৃত্যু শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়; বরং ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) অপারেশন বিভাগের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দায়িত্বহীনতা এবং প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার নির্মম পরিণতি। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিমুলপাড়া বিহারী ক্যাম্প এলাকার সোনা মিয়া মার্কেটের সামনে এই ঘটনা ঘটলেও, মৃত্যুর দায় কার—তা নিয়ে এখন চলছে ডিপিডিসির ভেতরে দোষ চাপানোর প্রতিযোগিতা। কিন্তু যে মানুষটি মারা গেছেন, তার পরিবারের সামনে শুধু গভীর শোক আর অনিশ্চয়তার অন্ধকার।

ঘটনার দিন মোট তিনজন শ্রমিক কাজ করছিলেন। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নজরুল ইসলাম সংযোগে লেগে গুরুতর দগ্ধ হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। সঙ্গে থাকা রাজ্জাক ও করিম আহত হন। রাজ্জাককে বার্ণ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়। করিম বাঁচতে বিদ্যুতের খুঁটি থেকে লাফ দিয়ে নিচে পড়েন এবং গুরুতর আহত হন। স্থানীয় মফিজ উদ্দিন ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, যারা আহত হয়েছেন তারা নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার করছিলেন, কিন্তু নজরুল ইসলামের বেলায় সেই সেফটি ব্যবস্থার ঘাটতি ছিল। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—লাইনটি যে চালু ছিল, সেটাই মূল বিপদ ডেকে আনে। তার দাবি, যেভাবেই হোক বিদ্যুৎ সংযোগ চালু রেখে কাজ করা হয়েছে। এটি ডিপিডিসির যে কোনো অপারেশন নীতিমালার ভয়াবহ লঙ্ঘন।

ডিপিডিসির অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত অধিকারী, সহকারী প্রকৌশলী রাহুল এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান সোহাগের অবহেলা ও দায়িত্বহীন সিদ্ধান্তের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। অভিযোগ হলো—শাটডাউন নিশ্চিত না করেই তাদের নির্দেশে শ্রমিকরা লাইনে কাজ করতে বাধ্য হন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিজ্ঞ লাইনম্যান বলেন, শাটডাউন দেওয়া থাকলে লাইন কোনোভাবেই সক্রিয় থাকার কথা নয়। তিনি আরও বলেন, “শাটডাউনের ওই পয়েন্টটি অটোমেটিক নয়। মানে কেউ ম্যানুয়ালি সংযোগ সচল করেছে। তা হলে প্রশ্ন উঠেই যায়—কে সেই সংযোগ চালু রাখল? আর যদি শাটডাউন ঠিকমতো নেওয়া না হয়ে থাকে, সেটার দায় সরাসরি সেই দুই কর্মকর্তার।” তিনি দাবি করেন, নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত অধিকারী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী সোহাগের অপারেশনাল ভুল ছাড়া এমন দুর্ঘটনা অসম্ভব।

এই শ্রমিকের মতে, বছরের পর বছর ধরে সিদ্ধিরগঞ্জ ডিভিশনে এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতা, স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ম ভাঙা, শাটডাউন ছাড়া লাইন মেরামত করা, গ্রাহকের বিশেষ সুবিধা নিয়ে কাজ করা, কমিশন বাণিজ্য এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে সুবিধা নেওয়া এখানে নিত্যদিনের ঘটনা। ফলে নিম্নস্তরের কর্মীদের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করা যেন স্বাভাবিক জীবনের অংশ হয়ে গেছে।

এই ঘটনা ঘটার পরপরই ডিপিডিসির ভেতরে সক্রিয় একটি গ্রুপ মাঠে নেমেছে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে। অভিযোগ উঠেছে, তারা তথ্য বিকৃত করার চেষ্টা করছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের দায় এড়ানোর জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছে। অথচ নিহত নজরুল ইসলামের পরিবার এখনো মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি শেষ করতে পারেনি। কিন্তু দায়িত্ববান প্রকৌশলীরা নাকি ব্যস্ত নিজেদের রক্ষা করার পরিকল্পনায়।

দুর্ঘটনার পর আনুষ্ঠানিকভাবে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে এই তদন্ত কমিটিকে নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। কারণ কমিটির প্রধান তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হানিফ উদ্দিন ডিপিডিসির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের তালিকায় সুপরিচিত নাম। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ, কমিশন বাণিজ্য ও নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। অভ্যন্তরীণ কর্মীরা বলেন, তিনি টাকা ছাড়া কোনো তদন্ত করেন না, আর টাকা পেলে সব অভিযোগ ‘মাফ করে’ দেন। তাই তিনি তদন্ত কমিটির প্রধান হলে স্বচ্ছ তদন্তের আশা করা অবাস্তব।

কমিটির অপর সদস্য তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শের আলী। তিনিও সিদ্ধিরগঞ্জ ডিভিশনের একজন কর্মকর্তা এবং অভিযোগ রয়েছে তিনি সেই অপারেশনাল কাঠামোর অংশ, যেখানে নিয়ম লঙ্ঘনের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে গেছে। অভিযোগ উঠেছে, যিনি ঘটনাটির সঙ্গে সরাসরি জড়িত বা যার ডিভিশনের অধীনে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তিনি কীভাবে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে পারবেন? অনেক বিদ্যুৎকর্মীর মতে এই তদন্ত কমিটি প্রকৃত সত্য উদঘাটনের চেয়ে বরং দায় এড়ানো ও সিন্ডিকেটকে রক্ষা করারই বড় হাতিয়ার।

এই ঘটনার পর সবচেয়ে হতবাক করা বিষয় হলো—ডিপিডিসির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নূর আহমদ সাংবাদিকদের ফোন ধরছেন না। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ডিপিডিসির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরেই তিনি সাংবাদিকদের ফোন রিসিভ করছেন না। তার দায়িত্বকালে এমন ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—এমডি কি ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাচ্ছেন নাকি উপরের চাপের কারণে কথা বলতে পারছেন না?

এমন অভিযোগ নতুন নয়। গত ৯ এপ্রিল রামপুরায় নতুন সার্ভিস লাইন সংযোগ দিতে গিয়ে এলটি লাইনে দুর্ঘটনায় মারা যান লাইনম্যান কামরান। সেই ঘটনাতেও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নাসির উদ্দিনকে দায়মুক্ত করা হয় খুব সহজেই। কর্মীদের ধারণা ছিল, টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছিল এমডি নিজেই তাকে রক্ষা করেছিলেন। বর্তমান ঘটনাতেও সেটির পুনরাবৃত্তি ঘটবে কি না তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নিহত নজরুল ইসলামের পরিবার শোক এবং ক্ষোভে ভেঙে পড়ে। তারা বলেন, “আমাদের পরিবারের ভরসা মানুষটি আজ মৃত। যারা ভুল করেছেন তারা অফিসে বসে আরাম করছেন, আর আমরা শোক সামলাতে পারছি না। এই মৃত্যুর দায় নেবে কে? আমাদের পরিবারের আয় করার কেউ নেই এখন। কীভাবে চলবে এই পরিবার?” পরিবারের সদস্যরা জানান, নজরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ডিপিডিসির ঠিকাদারি ভিত্তিতে কাজ করতেন। কিন্তু তার নিরাপত্তার বিষয়টি কখনোই গুরুত্ব পায়নি।

ঘটনার পর সাংবাদিকরা যখন নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত অধিকারীর সঙ্গে কথা বলেন, তিনি বলেন, “এই দায় আমার। কারণ আমার কর্মীরা কাজ করছিল। তবে তদন্তে আসল ঘটনা বের হবে।” তার বক্তব্য অনেককে অবাক করেছে। কারণ মাঠের শ্রমিকরা দাবি করছেন—এই স্বীকারোক্তি শুধু দায় এড়ানোর কৌশল। প্রকৃতপক্ষে দায়িত্ববান কর্মকর্তারা যদি সঠিকভাবে শাটডাউন নিশ্চিত করতেন, তবে তিন শ্রমিকই নিরাপদ থাকতেন।

ডিপিডিসির অভ্যন্তরীণ নীতিমালায় লাইন মেরামত বা রক্ষণাবেক্ষণের সময় শাটডাউন নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। যে এলাকায় কাজ চলছে সেই এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে তারপর শ্রমিকদের লাইনে ওঠার অনুমতি দেওয়া হয়। এমনকি তিন স্তরের যাচাইয়েরও বিধান রয়েছে। কিন্তু সিদ্ধিরগঞ্জে এর কিছুই মানা হয়নি। এখানে কর্মকর্তাদের কথাই ছিল চূড়ান্ত, আর শ্রমিকদের কাজ করতে হতো ঝুঁকি নিয়ে।

স্থানীয়রা বলেন, ঘটনাস্থলে লাইনটি যে সক্রিয় ছিল তা স্পষ্ট। কারণ নজরুল ইসলামের শরীরে তীব্র বৈদ্যুতিক প্রবাহের প্রভাব ছিল। যদি লাইন বন্ধ থাকত, এ ধরণের দুর্ঘটনার সুযোগই থাকত না। তাদের প্রশ্ন—শাটডাউন দেওয়া হয়েছিল নাকি শুধুই কাগজে-কলমে দেখানো হয়েছিল?

ডিপিডিসির মাঠ পর্যায়ের অনেক কর্মকর্তা ও শ্রমিকের মতে, তাদের প্রতিষ্ঠানের অপারেশন বিভাগ দিন দিন দুর্নীতির ঘূর্ণাবর্তে আটকে পড়েছে। অসৎ কর্মকর্তা, ঠিকাদার এবং সিন্ডিকেটের কারণে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করা হয় না। যার মূল্য দিতে হচ্ছে মাঠ পর্যায়ের শ্রমিকদের। গত কয়েক বছরে ডিপিডিসির বিভিন্ন ডিভিশনে এমন বহু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে—কিন্তু সেগুলোও তদন্ত, রিপোর্ট, দায়মুক্তি আর ধামাচাপার মধ্যেই শেষ হয়েছে।

এই ঘটনার পরে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী এবং ডিভিশন অফিসের মধ্যে অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। কর্মকর্তাদের একটি অংশ ঘটনাটিকে ‘সাধারণ দুর্ঘটনা’ হিসেবে দেখাতে চাইছেন। তারা চাইছেন এটি যেন বড় ধরনের প্রশাসনিক ব্যর্থতা বা অনিয়ম হিসেবে গণ্য না হয়। অন্যদিকে শ্রমিকরা বলছেন, যদি এখনো এই ঘটনার সঠিক বিচার না হয় তবে ভবিষ্যতেও এমন দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

নজরুল ইসলামের মৃত্যুর পর স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার বিদ্যুৎ বিভাগের জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। কিন্তু সেই টাকার সঠিক ব্যবহার হয় না। মাঠপর্যায়ে যারা কাজ করে তাদের জন্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম, শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ—কোনো কিছুই যথেষ্ট নয়। আর তা না থাকলে এই ধরনের মৃত্যু থামবে কীভাবে?”

সিদ্ধিরগঞ্জের ঘটনাটি পুরো বিদ্যুৎ খাতে আবারও তীব্র প্রশ্ন তুলেছে—শ্রমিকরা কি শুধুই সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ? তাদের জীবন কি এতই মূল্যহীন যে একের পর এক মৃত্যুর পরেও কোনো পরিবর্তন আসে না?

ডিপিডিসির অনেক দায়িত্বশীল কর্মকর্তাই স্বীকার করেন, অপারেশন নিরাপত্তা নিয়মিতভাবে ভঙ্গ হয়। এমনকি তারা বলেন, “উপরের চাপ নিয়ে আমাদের অনেক সময় কাজ করতে হয়। গ্রাহক প্রভাবশালী হলে তাদের শাটডাউন ছাড়া সংযোগ ঠিক করে দিতে হয়। ফলে নিয়ম ভাঙতে বাধ্য করা হয়।” প্রশ্ন হলো—এই চাপ কে সৃষ্টি করে? কোন প্রভাবশালী মহল? এবং তারা কেন নিয়ম মানতে চায় না?

যে প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিয়ম ভাঙাকে কেউ গুরুত্ব দেয় না, সেখানে নজরুল ইসলামদের মৃত্যু কেন থামবে?

ঘটনার পর থেকে ডিপিডিসির সদর দপ্তর, সিদ্ধিরগঞ্জ ডিভিশন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে উত্তপ্ত আলোচনা চলছে। কিন্তু এখনো সেই ‘মূল প্রশ্নগুলোর’ উত্তর কেউ দিতে পারছেন না—
শাটডাউন নিশ্চিত করা হয়েছিল কি না?
লাইন সক্রিয় ছিল কেন?
কার আদেশে শ্রমিকরা লাইনে উঠেছিল?
কোন কর্মকর্তা সেই কাজের দায় নেবেন?
নজরুল ইসলামের পরিবার ক্ষতিপূরণ পাবে কি না?
এবং তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আদৌ নিরপেক্ষ হবে কি?

এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হয়তো আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন হবে। কিন্তু অভিজ্ঞরা বলছেন—যখন তদন্ত কমিটিই সমস্যার অংশ হয়ে যায়, তখন সঠিক সত্য কখনোই বের হয় না।

নজরুল ইসলামের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের ভরসা কেড়ে নেয়নি; বরং বিদ্যুৎ খাতের অপারেশন নিরাপত্তা ব্যবস্থার মর্মান্তিক দুর্বলতাকেও সামনে এনেছে। এখন দেখার বিষয়—ডিপিডিসি কি সত্যিকারের পরিবর্তন আনবে, নাকি অন্য অনেক ঘটনার মতো এটিও কালের গর্ভে হারিয়ে যাবে?

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নীলফামারী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ‘ভুয়া ডিবি ও ডলার প্রতারক’ চক্রের ০১ জন সক্রীয় সদস্য গ্রেফতার।

সিদ্ধিরগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নজরুলের মৃত্যু : তিন প্রকৌশলীর দায়িত্বহীনতার প্রশ্ন

আপডেট সময় ১১:২৩:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সঞ্চালন লাইনে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ডিপিডিসির বার্ষিক ঠিকাদারি শ্রমিক মো. নজরুল ইসলামের মৃত্যু শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়; বরং ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) অপারেশন বিভাগের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দায়িত্বহীনতা এবং প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার নির্মম পরিণতি। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিমুলপাড়া বিহারী ক্যাম্প এলাকার সোনা মিয়া মার্কেটের সামনে এই ঘটনা ঘটলেও, মৃত্যুর দায় কার—তা নিয়ে এখন চলছে ডিপিডিসির ভেতরে দোষ চাপানোর প্রতিযোগিতা। কিন্তু যে মানুষটি মারা গেছেন, তার পরিবারের সামনে শুধু গভীর শোক আর অনিশ্চয়তার অন্ধকার।

ঘটনার দিন মোট তিনজন শ্রমিক কাজ করছিলেন। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নজরুল ইসলাম সংযোগে লেগে গুরুতর দগ্ধ হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। সঙ্গে থাকা রাজ্জাক ও করিম আহত হন। রাজ্জাককে বার্ণ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়। করিম বাঁচতে বিদ্যুতের খুঁটি থেকে লাফ দিয়ে নিচে পড়েন এবং গুরুতর আহত হন। স্থানীয় মফিজ উদ্দিন ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, যারা আহত হয়েছেন তারা নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার করছিলেন, কিন্তু নজরুল ইসলামের বেলায় সেই সেফটি ব্যবস্থার ঘাটতি ছিল। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—লাইনটি যে চালু ছিল, সেটাই মূল বিপদ ডেকে আনে। তার দাবি, যেভাবেই হোক বিদ্যুৎ সংযোগ চালু রেখে কাজ করা হয়েছে। এটি ডিপিডিসির যে কোনো অপারেশন নীতিমালার ভয়াবহ লঙ্ঘন।

ডিপিডিসির অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত অধিকারী, সহকারী প্রকৌশলী রাহুল এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান সোহাগের অবহেলা ও দায়িত্বহীন সিদ্ধান্তের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। অভিযোগ হলো—শাটডাউন নিশ্চিত না করেই তাদের নির্দেশে শ্রমিকরা লাইনে কাজ করতে বাধ্য হন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিজ্ঞ লাইনম্যান বলেন, শাটডাউন দেওয়া থাকলে লাইন কোনোভাবেই সক্রিয় থাকার কথা নয়। তিনি আরও বলেন, “শাটডাউনের ওই পয়েন্টটি অটোমেটিক নয়। মানে কেউ ম্যানুয়ালি সংযোগ সচল করেছে। তা হলে প্রশ্ন উঠেই যায়—কে সেই সংযোগ চালু রাখল? আর যদি শাটডাউন ঠিকমতো নেওয়া না হয়ে থাকে, সেটার দায় সরাসরি সেই দুই কর্মকর্তার।” তিনি দাবি করেন, নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত অধিকারী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী সোহাগের অপারেশনাল ভুল ছাড়া এমন দুর্ঘটনা অসম্ভব।

এই শ্রমিকের মতে, বছরের পর বছর ধরে সিদ্ধিরগঞ্জ ডিভিশনে এই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্বহীনতা, স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ম ভাঙা, শাটডাউন ছাড়া লাইন মেরামত করা, গ্রাহকের বিশেষ সুবিধা নিয়ে কাজ করা, কমিশন বাণিজ্য এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে সুবিধা নেওয়া এখানে নিত্যদিনের ঘটনা। ফলে নিম্নস্তরের কর্মীদের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করা যেন স্বাভাবিক জীবনের অংশ হয়ে গেছে।

এই ঘটনা ঘটার পরপরই ডিপিডিসির ভেতরে সক্রিয় একটি গ্রুপ মাঠে নেমেছে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে। অভিযোগ উঠেছে, তারা তথ্য বিকৃত করার চেষ্টা করছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের দায় এড়ানোর জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছে। অথচ নিহত নজরুল ইসলামের পরিবার এখনো মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি শেষ করতে পারেনি। কিন্তু দায়িত্ববান প্রকৌশলীরা নাকি ব্যস্ত নিজেদের রক্ষা করার পরিকল্পনায়।

দুর্ঘটনার পর আনুষ্ঠানিকভাবে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে এই তদন্ত কমিটিকে নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। কারণ কমিটির প্রধান তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হানিফ উদ্দিন ডিপিডিসির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের তালিকায় সুপরিচিত নাম। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ, কমিশন বাণিজ্য ও নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। অভ্যন্তরীণ কর্মীরা বলেন, তিনি টাকা ছাড়া কোনো তদন্ত করেন না, আর টাকা পেলে সব অভিযোগ ‘মাফ করে’ দেন। তাই তিনি তদন্ত কমিটির প্রধান হলে স্বচ্ছ তদন্তের আশা করা অবাস্তব।

কমিটির অপর সদস্য তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শের আলী। তিনিও সিদ্ধিরগঞ্জ ডিভিশনের একজন কর্মকর্তা এবং অভিযোগ রয়েছে তিনি সেই অপারেশনাল কাঠামোর অংশ, যেখানে নিয়ম লঙ্ঘনের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে গেছে। অভিযোগ উঠেছে, যিনি ঘটনাটির সঙ্গে সরাসরি জড়িত বা যার ডিভিশনের অধীনে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তিনি কীভাবে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে পারবেন? অনেক বিদ্যুৎকর্মীর মতে এই তদন্ত কমিটি প্রকৃত সত্য উদঘাটনের চেয়ে বরং দায় এড়ানো ও সিন্ডিকেটকে রক্ষা করারই বড় হাতিয়ার।

এই ঘটনার পর সবচেয়ে হতবাক করা বিষয় হলো—ডিপিডিসির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নূর আহমদ সাংবাদিকদের ফোন ধরছেন না। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ডিপিডিসির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরেই তিনি সাংবাদিকদের ফোন রিসিভ করছেন না। তার দায়িত্বকালে এমন ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—এমডি কি ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাচ্ছেন নাকি উপরের চাপের কারণে কথা বলতে পারছেন না?

এমন অভিযোগ নতুন নয়। গত ৯ এপ্রিল রামপুরায় নতুন সার্ভিস লাইন সংযোগ দিতে গিয়ে এলটি লাইনে দুর্ঘটনায় মারা যান লাইনম্যান কামরান। সেই ঘটনাতেও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নাসির উদ্দিনকে দায়মুক্ত করা হয় খুব সহজেই। কর্মীদের ধারণা ছিল, টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছিল এমডি নিজেই তাকে রক্ষা করেছিলেন। বর্তমান ঘটনাতেও সেটির পুনরাবৃত্তি ঘটবে কি না তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নিহত নজরুল ইসলামের পরিবার শোক এবং ক্ষোভে ভেঙে পড়ে। তারা বলেন, “আমাদের পরিবারের ভরসা মানুষটি আজ মৃত। যারা ভুল করেছেন তারা অফিসে বসে আরাম করছেন, আর আমরা শোক সামলাতে পারছি না। এই মৃত্যুর দায় নেবে কে? আমাদের পরিবারের আয় করার কেউ নেই এখন। কীভাবে চলবে এই পরিবার?” পরিবারের সদস্যরা জানান, নজরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ডিপিডিসির ঠিকাদারি ভিত্তিতে কাজ করতেন। কিন্তু তার নিরাপত্তার বিষয়টি কখনোই গুরুত্ব পায়নি।

ঘটনার পর সাংবাদিকরা যখন নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত অধিকারীর সঙ্গে কথা বলেন, তিনি বলেন, “এই দায় আমার। কারণ আমার কর্মীরা কাজ করছিল। তবে তদন্তে আসল ঘটনা বের হবে।” তার বক্তব্য অনেককে অবাক করেছে। কারণ মাঠের শ্রমিকরা দাবি করছেন—এই স্বীকারোক্তি শুধু দায় এড়ানোর কৌশল। প্রকৃতপক্ষে দায়িত্ববান কর্মকর্তারা যদি সঠিকভাবে শাটডাউন নিশ্চিত করতেন, তবে তিন শ্রমিকই নিরাপদ থাকতেন।

ডিপিডিসির অভ্যন্তরীণ নীতিমালায় লাইন মেরামত বা রক্ষণাবেক্ষণের সময় শাটডাউন নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। যে এলাকায় কাজ চলছে সেই এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে তারপর শ্রমিকদের লাইনে ওঠার অনুমতি দেওয়া হয়। এমনকি তিন স্তরের যাচাইয়েরও বিধান রয়েছে। কিন্তু সিদ্ধিরগঞ্জে এর কিছুই মানা হয়নি। এখানে কর্মকর্তাদের কথাই ছিল চূড়ান্ত, আর শ্রমিকদের কাজ করতে হতো ঝুঁকি নিয়ে।

স্থানীয়রা বলেন, ঘটনাস্থলে লাইনটি যে সক্রিয় ছিল তা স্পষ্ট। কারণ নজরুল ইসলামের শরীরে তীব্র বৈদ্যুতিক প্রবাহের প্রভাব ছিল। যদি লাইন বন্ধ থাকত, এ ধরণের দুর্ঘটনার সুযোগই থাকত না। তাদের প্রশ্ন—শাটডাউন দেওয়া হয়েছিল নাকি শুধুই কাগজে-কলমে দেখানো হয়েছিল?

ডিপিডিসির মাঠ পর্যায়ের অনেক কর্মকর্তা ও শ্রমিকের মতে, তাদের প্রতিষ্ঠানের অপারেশন বিভাগ দিন দিন দুর্নীতির ঘূর্ণাবর্তে আটকে পড়েছে। অসৎ কর্মকর্তা, ঠিকাদার এবং সিন্ডিকেটের কারণে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করা হয় না। যার মূল্য দিতে হচ্ছে মাঠ পর্যায়ের শ্রমিকদের। গত কয়েক বছরে ডিপিডিসির বিভিন্ন ডিভিশনে এমন বহু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে—কিন্তু সেগুলোও তদন্ত, রিপোর্ট, দায়মুক্তি আর ধামাচাপার মধ্যেই শেষ হয়েছে।

এই ঘটনার পরে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী এবং ডিভিশন অফিসের মধ্যে অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। কর্মকর্তাদের একটি অংশ ঘটনাটিকে ‘সাধারণ দুর্ঘটনা’ হিসেবে দেখাতে চাইছেন। তারা চাইছেন এটি যেন বড় ধরনের প্রশাসনিক ব্যর্থতা বা অনিয়ম হিসেবে গণ্য না হয়। অন্যদিকে শ্রমিকরা বলছেন, যদি এখনো এই ঘটনার সঠিক বিচার না হয় তবে ভবিষ্যতেও এমন দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

নজরুল ইসলামের মৃত্যুর পর স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার বিদ্যুৎ বিভাগের জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। কিন্তু সেই টাকার সঠিক ব্যবহার হয় না। মাঠপর্যায়ে যারা কাজ করে তাদের জন্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম, শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ—কোনো কিছুই যথেষ্ট নয়। আর তা না থাকলে এই ধরনের মৃত্যু থামবে কীভাবে?”

সিদ্ধিরগঞ্জের ঘটনাটি পুরো বিদ্যুৎ খাতে আবারও তীব্র প্রশ্ন তুলেছে—শ্রমিকরা কি শুধুই সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ? তাদের জীবন কি এতই মূল্যহীন যে একের পর এক মৃত্যুর পরেও কোনো পরিবর্তন আসে না?

ডিপিডিসির অনেক দায়িত্বশীল কর্মকর্তাই স্বীকার করেন, অপারেশন নিরাপত্তা নিয়মিতভাবে ভঙ্গ হয়। এমনকি তারা বলেন, “উপরের চাপ নিয়ে আমাদের অনেক সময় কাজ করতে হয়। গ্রাহক প্রভাবশালী হলে তাদের শাটডাউন ছাড়া সংযোগ ঠিক করে দিতে হয়। ফলে নিয়ম ভাঙতে বাধ্য করা হয়।” প্রশ্ন হলো—এই চাপ কে সৃষ্টি করে? কোন প্রভাবশালী মহল? এবং তারা কেন নিয়ম মানতে চায় না?

যে প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিয়ম ভাঙাকে কেউ গুরুত্ব দেয় না, সেখানে নজরুল ইসলামদের মৃত্যু কেন থামবে?

ঘটনার পর থেকে ডিপিডিসির সদর দপ্তর, সিদ্ধিরগঞ্জ ডিভিশন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে উত্তপ্ত আলোচনা চলছে। কিন্তু এখনো সেই ‘মূল প্রশ্নগুলোর’ উত্তর কেউ দিতে পারছেন না—
শাটডাউন নিশ্চিত করা হয়েছিল কি না?
লাইন সক্রিয় ছিল কেন?
কার আদেশে শ্রমিকরা লাইনে উঠেছিল?
কোন কর্মকর্তা সেই কাজের দায় নেবেন?
নজরুল ইসলামের পরিবার ক্ষতিপূরণ পাবে কি না?
এবং তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আদৌ নিরপেক্ষ হবে কি?

এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হয়তো আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন হবে। কিন্তু অভিজ্ঞরা বলছেন—যখন তদন্ত কমিটিই সমস্যার অংশ হয়ে যায়, তখন সঠিক সত্য কখনোই বের হয় না।

নজরুল ইসলামের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের ভরসা কেড়ে নেয়নি; বরং বিদ্যুৎ খাতের অপারেশন নিরাপত্তা ব্যবস্থার মর্মান্তিক দুর্বলতাকেও সামনে এনেছে। এখন দেখার বিষয়—ডিপিডিসি কি সত্যিকারের পরিবর্তন আনবে, নাকি অন্য অনেক ঘটনার মতো এটিও কালের গর্ভে হারিয়ে যাবে?