দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক স্থান সচিবালয়ের নাম ও পদবী ব্যবহার করে শত শত বেকার যুবকের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এক নারী প্রতারক চক্র। চাঞ্চল্যকর এই প্রতারণার মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন রংপুরের পীরগাছার মোছাঃ মৌসুমি আক্তার নামে এক নারী, যিনি নিজেকে কখনো শিক্ষা মন্ত্রণালয়, কখনো সমাজসেবা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রতারক চক্রের পরিচয় ও কৌশল
অনুসন্ধানে জানা যায়, মোছাঃ মৌসুমি আক্তার (৩৫), পিতা— মোঃ আব্দুল বারী সাং— ত্রিপুর, থানা— পীরগাছা, জেলা— রংপুর।
শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও দেখতে শুনতে স্মার্ট এবং কথাবার্তায় সাবলীল এই নারী সচিবালয়ের কর্মকর্তা সেজে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে।
তিনি ভুয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আইডি কার্ড ও সচিবালয় পাস ব্যবহার করেন। সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের জাল স্বাক্ষর, সরকারি সীল ও স্মারক নম্বর ব্যবহার করে ভুয়া নিয়োগপত্র ডাকযোগে পাঠান।
এমনকি স্থানীয় পুলিশকে ব্যবহার করে পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করেন, যা তার প্রতারণাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তোলে।
সম্প্রতি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থানায় মৌসুমি আক্তার ও তার চক্রের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শুধুমাত্র একটি পরিবারের নিকট থেকেই তারা ২০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
অভিযোগকারী শফিকুল ইসলাম বলেন—“সচিবালয়ে অডিট অফিসারের পিএস পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে, আমার ভগ্নিপতি মোঃ আব্দুল লতিফ ও চাচী মোছাঃ শাপলা বেগমকে সমাজসেবা অধিদপ্তরে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় মৌসুমি আক্তার। ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে নগদ ও ব্যাংকের মাধ্যমে মোট ২০ লক্ষ টাকা নেয় এবং পরে ভুয়া নিয়োগপত্র দেয়।”
অনুসন্ধানী তে আরও জানা গেছে, মৌসুমি আক্তারের রয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিস্তৃত নেটওয়ার্ক।
বিশেষ করে কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, ঠাকুরগাঁও ও গাইবান্ধা জেলায় একাধিক ভুক্তভোগী ইতিমধ্যে যোগাযোগ করছেন।
বিষয়টি নিয়ে সুন্দরগঞ্জ জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি-কে জানান—
অভিযোগটি পেয়েছি। বিষয়টি এসআই সাইফুল তদন্ত করছেন। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় জনগণ ও সুশীল সমাজ মনে করেন এই ঘটনার পর চাকরিপ্রত্যাশী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সচিবালয়ের নাম ব্যবহার করে এমন দুঃসাহসিক প্রতারণা রোধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কঠোর নজরদারি ও সাইবার মনিটরিং বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
অভিযুক্ত মৌসুমি আক্তারের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলেও সম্ভব হয়নি তবে তার বড় ভাই মিজানুর রহমান দৈনিক আমাদের মাতৃভূমিকে নিশ্চিত করেছেন, আমার বোন কোথায় কি করেছে আমরা জানিনা আর তিনি কোথায় চাকরি করেন তাও আমরা জানিনা তিনি যদি কারো কাছ থেকে টাকা নিয়ে থাকেন সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন।
প্রথম পর্ব।
শহীদুল ইসলাম বিশেষ প্রতিনিধি, 





















