ঢাকা ০২:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মামলাজট নিরসনে মধ্যস্থতা কার্যক্রম আশাব্যঞ্জক ফল দিচ্ছে: আইনমন্ত্রী মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে মুখ খুললেন মোদি হারের পরেও বীরের সম্মান, আর্জেন্টিনাকে বরণে সমর্থকের ঢল এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে ভুয়া বিজ্ঞপ্তি, বোর্ডের জরুরি বার্তা এবার সেই ভাইরাল রুনাকে গ্রেপ্তার করল ডিবি বিশ্বকাপ ফাইনালের মারামারি নিয়ে তদন্ত শুরু করল ফিফা উত্তাল দিল্লি দফায় দফায় সংঘর্ষে ১১৮ পুলিশ আহত, গ্রেপ্তার ৭০ আত্রাইয়ে সরকারি কৃষি কোয়ার্টারগুলো রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ না থাকায় ধ্বংসের মুখে দেশের ছয় অঞ্চলের নদীবন্দরে সতর্কতা গোপালগঞ্জে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে ১১ মামলা দায়ের 

‘আমি নিঃশ্বাস নিতে চাই’— দূষণে মৃত্যুফাঁদে পরিণত দিল্লির বাতাস

বিষাক্ত ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। শ্বাসরুদ্ধকর এই দূষণের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে এসেছেন সাধারণ মানুষ। বায়ুদূষণ রোধে তারা সরকারের কাছে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

রাস্তায় নামা বিক্ষুব্ধদের অনেকেই হাতে প্ল্যাকার্ডে লিখেছিলেন— “আমি নিঃশ্বাস নিতে চাই”। রোববার (৯ নভেম্বর) রাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।

বার্তাসংস্থাটি বলছে, বিষাক্ত ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। শ্বাসরুদ্ধকর এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে রোববার রাস্তায় নেমে আসেন সাধারণ মানুষ। ‘আমরা নিঃশ্বাস নিতে চাই’, ‘আমরা বাঁচতে চাই’, ‘আমি শুধু নিঃশ্বাস নিতে চাই’— এমন সব প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে বিক্ষোভকারীরা সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

নয়াদিল্লিতে প্রায় তিন কোটি মানুষ বসবাস করেন। এই মহানগরী বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত রাজধানীগুলোর তালিকায় নিয়মিতভাবেই শীর্ষে থাকে। প্রতিবছরই শীতের সময় ঘন ধোঁয়াশায় ঢেকে যায় পুরো শহর। ঠান্ডা বাতাসের কারণে কারখানার ধোঁয়া, যানবাহনের ধুলা ও কৃষিজমির ফসল পোড়ানোর ধোঁয়া মিশে এক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয় দিল্লির বাতাস।

প্রতিবাদে অংশ নেওয়া নামরতা যাদব নামে এক নারী বলেন, “আমি আজ এখানে এসেছি একজন মা হিসেবে। আমি চাই না আমার সন্তান একদিন জলবায়ু উদ্বাস্তু হয়ে যাক”। তিনি ছেলেকে সঙ্গে নিয়েই বিক্ষোভে যোগ দেন।

সংবাদমাধ্যম বলছে, রোববার রাজধানীর ঐতিহাসিক ইন্ডিয়া গেটের কাছে বিক্ষোভ হয়। সেখানে বাতাসে পিএম ২.৫ মাত্রা ছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত সীমার চেয়ে ১৩ গুণ বেশি। এ ধরনের ক্ষুদ্র কণা রক্তে প্রবেশ করে ক্যানসারসহ মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করতে পারে।

তনভি কুসুম নামে অন্য এক বিক্ষোভকারী বলেন, “প্রতি বছর একই গল্প— দূষণ বাড়ে, মানুষ কষ্ট পায়, কিন্তু কোনো সমাধান হয় না। এখন সরকারকে চাপ দিতে হবে।”

অবশ্য দূষণ কমাতে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন উদ্যোগ দিয়েছে। এরমধ্যে ডিজেল ও পেট্রলচালিত গাড়ির আংশিক নিয়ন্ত্রণ বা পানি ছিটিয়ে ধুলো কমানোর প্রচেষ্টাও রয়েছে। তবে সরকারি এসব উদ্যোগের কোনোটিতেই উল্লেখযোগ্য ফল আসেনি।

২০১৯ সালে প্রকাশিত দ্য ল্যানসেট প্ল্যানেটারি হেলথ-এর এক গবেষণা অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ভারতে বায়ুদূষণের কারণে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৩৮ লাখ মানুষের।

জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ সতর্ক করে জানিয়েছে, দূষিত বাতাস শিশুদের শ্বাসতন্ত্রের তীব্র সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মামলাজট নিরসনে মধ্যস্থতা কার্যক্রম আশাব্যঞ্জক ফল দিচ্ছে: আইনমন্ত্রী

‘আমি নিঃশ্বাস নিতে চাই’— দূষণে মৃত্যুফাঁদে পরিণত দিল্লির বাতাস

আপডেট সময় ১১:৫৩:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

বিষাক্ত ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। শ্বাসরুদ্ধকর এই দূষণের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে এসেছেন সাধারণ মানুষ। বায়ুদূষণ রোধে তারা সরকারের কাছে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

রাস্তায় নামা বিক্ষুব্ধদের অনেকেই হাতে প্ল্যাকার্ডে লিখেছিলেন— “আমি নিঃশ্বাস নিতে চাই”। রোববার (৯ নভেম্বর) রাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।

বার্তাসংস্থাটি বলছে, বিষাক্ত ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। শ্বাসরুদ্ধকর এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে রোববার রাস্তায় নেমে আসেন সাধারণ মানুষ। ‘আমরা নিঃশ্বাস নিতে চাই’, ‘আমরা বাঁচতে চাই’, ‘আমি শুধু নিঃশ্বাস নিতে চাই’— এমন সব প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে বিক্ষোভকারীরা সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

নয়াদিল্লিতে প্রায় তিন কোটি মানুষ বসবাস করেন। এই মহানগরী বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত রাজধানীগুলোর তালিকায় নিয়মিতভাবেই শীর্ষে থাকে। প্রতিবছরই শীতের সময় ঘন ধোঁয়াশায় ঢেকে যায় পুরো শহর। ঠান্ডা বাতাসের কারণে কারখানার ধোঁয়া, যানবাহনের ধুলা ও কৃষিজমির ফসল পোড়ানোর ধোঁয়া মিশে এক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয় দিল্লির বাতাস।

প্রতিবাদে অংশ নেওয়া নামরতা যাদব নামে এক নারী বলেন, “আমি আজ এখানে এসেছি একজন মা হিসেবে। আমি চাই না আমার সন্তান একদিন জলবায়ু উদ্বাস্তু হয়ে যাক”। তিনি ছেলেকে সঙ্গে নিয়েই বিক্ষোভে যোগ দেন।

সংবাদমাধ্যম বলছে, রোববার রাজধানীর ঐতিহাসিক ইন্ডিয়া গেটের কাছে বিক্ষোভ হয়। সেখানে বাতাসে পিএম ২.৫ মাত্রা ছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত সীমার চেয়ে ১৩ গুণ বেশি। এ ধরনের ক্ষুদ্র কণা রক্তে প্রবেশ করে ক্যানসারসহ মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করতে পারে।

তনভি কুসুম নামে অন্য এক বিক্ষোভকারী বলেন, “প্রতি বছর একই গল্প— দূষণ বাড়ে, মানুষ কষ্ট পায়, কিন্তু কোনো সমাধান হয় না। এখন সরকারকে চাপ দিতে হবে।”

অবশ্য দূষণ কমাতে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন উদ্যোগ দিয়েছে। এরমধ্যে ডিজেল ও পেট্রলচালিত গাড়ির আংশিক নিয়ন্ত্রণ বা পানি ছিটিয়ে ধুলো কমানোর প্রচেষ্টাও রয়েছে। তবে সরকারি এসব উদ্যোগের কোনোটিতেই উল্লেখযোগ্য ফল আসেনি।

২০১৯ সালে প্রকাশিত দ্য ল্যানসেট প্ল্যানেটারি হেলথ-এর এক গবেষণা অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ভারতে বায়ুদূষণের কারণে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৩৮ লাখ মানুষের।

জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ সতর্ক করে জানিয়েছে, দূষিত বাতাস শিশুদের শ্বাসতন্ত্রের তীব্র সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।