ঢাকা ১১:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ভাগ্নি-জামাই-ভাগিনা’দের দাপটে সক্রিয় আওয়ামী দুর্নীতিবাজরা দক্ষিণ আফ্রিকায় পরিত্যক্ত খনিতে ঢুকে ১৪ জনের মৃত্যু আউটসোর্সিং ঠিকাদার প্রথা বাতিল না হলে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত হবে না: শিমুল বিশ্বাস মির্জাপুরে নবাগত ইউএনও হিসেবে জহিরুল আলমের যোগদান ৩ জন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদকে পবিপ্রবি’র রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য মনোনয়ন দিলেন চ্যান্সেলর আদিতমারীতে সার আইন লঙ্ঘনে ২ ব্যবসায়ীকে জরিমানা ৫ মাদরাসায় শতভাগ ফেল করায় সিসিটিভিকে দায়ী করলেন অধ্যক্ষ কম্ব্যাট পাইলট হয়ে দেশ ও জাতির সেবা করতে চায় জুয়ারিয়া ১৮ আগস্ট থেকে কুমিল্লায় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান, ‘কাউকে ছাড় নয়’ ধামরাইয়ে রাইস মিল ও ৩ মিষ্টির দোকানকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা
১ম পর্ব

শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ প্রকৌশলী তবিবুরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ঝড়

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশীর্বাদপুষ্ট প্রকৌশলী তবিবুর রহমান তালুকদার এখনও গেড়ে বসে আছেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে (ডিপিএইচই)। সরকার পতনের এক বছর পরও জনগণের স্বাস্থ্যসেবা খাতের গুরুত্বপূর্ণ এই দপ্তরটি তার হাতে পরিণত হয়েছে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে। অভিযোগ রয়েছে—তিনি শুধু আর্থিক নয়, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থবিরোধী কার্যক্রমেও জড়িত।
আওয়ামী ফ্যাসিবাদের জমানায় হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের পিডি (প্রকল্প পরিচালক) হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে তিনি একে একে গড়ে তোলেন প্রভাবের সাম্রাজ্য। অর্থনৈতিকভাবে ফুলেুফেঁপে ওঠার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভাণ্ডার বিদেশে পাচারের অভিযোগও উঠেছে।

সম্প্রতি জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) সূত্রে জানা যায়, প্রকৌশলী তবিবুর রহমান ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র) এর সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে চিহ্নিত হয়েছেন। ফ্যাসিবাদের আমলে তার মতো বহু প্রকল্প পরিচালকের অনিয়মুদুর্নীতি ধরা পড়লেও শেখ হাসিনার সরাসরি আশীর্বাদে তারা পার পেয়ে গেছেন। বর্তমানে অন্তর্র্বতী সরকারের সময় তিনি প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতির জন্য তৎপর রয়েছেন।

বিশ্বব্যাংক অর্থায়িত প্রকল্পে দুর্নীতির ছড়াছড়ি :
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত “মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি” প্রকল্পে চলছে ভয়াবহ অনিয়ম, ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্য। এই প্রকল্পের মূল নায়ক হিসেবে চিহ্নিত তবিবুর রহমান তালুকদার। ২০২১ সালের অক্টোবরে অনুমোদিত ১,৮৮২ কোটি টাকার এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল দেশের ৩০টি জেলায় নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা সম্প্রসারণ। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

কমিশনের বিনিময়ে কাজ, টেন্ডারে জালিয়াতি :
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া ও প্রভাবশালী মহলের আশীর্বাদে তবিবুর রহমান গড়ে তুলেছেন এক দুর্নীতির সাম্রাজ্য। অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, তিনি প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে কমিশন নেওয়া অলিখিত নিয়মে পরিণত করেছেন। পছন্দের ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৫ থেকে ১৫ শতাংশ কমিশনের বিনিময়ে কাজ পাইয়ে দেওয়া হতো। ফলে তার নতুন নাম হয়েছে—‘ফাইভ পার্সেন্ট পিডি’। নিয়ম অনুযায়ী সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেওয়ার কথা থাকলেও, তিনি নিয়মিতভাবে তা এড়িয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় লোয়েস্ট দরদাতাকে কাজ দেন—শুধুমাত্র কমিশনের স্বার্থে।
রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে কোটি কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়, অথচ কাজের মান নিম্নমানের।

নিম্নমানের পণ্য ও কোটি টাকার ক্ষতি :
বিশ্বব্যাংকের নির্দেশনা ছিল-ইউরোপীয় মানের পাইপ ও সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু সেখানে ব্যবহার করা হয়েছে ভারতীয় নিম্নমানের পণ্য, যার ফলে অনেক স্থানে স্থাপিত পানি সরবরাহ লাইন কয়েক মাসের মধ্যেই অকেজো হয়ে পড়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, প্রকল্প চলাকালীন সময়ে তবিবুর রহমানের নামে ও বেনামে অর্জিত হয়েছে ধানমন্ডি ও উত্তরা এলাকায় ফ্ল্যাট, বিলাসবহুল গাড়ি এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোটি টাকার লেনদেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের অর্থেই এসব সম্পদ গড়ে উঠেছে। তদন্তে ধীরগতি ও রাজনৈতিক প্রভাব : দুদকের সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে অনুসন্ধান শুরু হলেও, সংস্থার ভেতর থেকেই অভিযোগ উঠেছে—উচ্চপর্যায়ের প্রভাব ও রাজনৈতিক চাপের কারণে তদন্ত এগোচ্ছে ধীর গতিতে। এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রমাণ এতটাই স্পষ্ট যে এটি লুকানো সম্ভব নয়। কিন্তু উপরের প্রভাবশালী মহল তদন্তকে বারবার থামিয়ে দিচ্ছে।” এ বিষয়ে তবিবুর রহমানের মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি, এমনকি ক্ষুদে বার্তারও কোনো জবাব দেননি।

শাসকদলের ঘনিষ্ঠতা ও প্রশাসনিক উদাসীনতা :
তার ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, তবিবুর শাসকদলের প্রকৌশলী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন এবং সেই রাজনৈতিক সংযোগকেই কাজে লাগিয়ে বিশ্বব্যাংকের এই প্রকল্পে অপ্রতিরোধ্য প্রভাব বিস্তার করেছেন। স্থানীয় সরকার বিভাগ একাধিকবার তদন্তের নির্দেশ দিলেও, এখনো কোনো প্রতিবেদন জমা পড়েনি। প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তার ভাষায়, “তবিবুরের পেছনে শক্ত রাজনৈতিক আশ্রয় না থাকলে এত বড় দুর্নীতি সম্ভব হতো না। শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।” বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রভাবমুক্ত থেকে পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে এই দুর্নীতির সংস্কৃতি শুধু জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর নয়, গোটা রাষ্ট্রের সেবাব্যবস্থাকেই পঙ্গু করে দেবে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় জনগণের জন্য নেওয়া এই পানি সরবরাহ প্রকল্প এখন পরিণত হয়েছে লুটপাটের মঞ্চে। টেন্ডার সিন্ডিকেট, কমিশন বাণিজ্য ও রাজনৈতিক প্রভাবের জালে জড়িয়ে পড়েছে একটি মহৎ জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ। সচেতন মহলের অভিমত—দুদক ও স্থানীয় সরকার বিভাগ দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিচারের মুখোমুখি না করলে, এই দুর্নীতির সংস্কৃতি কখনোই থামবে না।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভাগ্নি-জামাই-ভাগিনা’দের দাপটে সক্রিয় আওয়ামী দুর্নীতিবাজরা

১ম পর্ব

শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ প্রকৌশলী তবিবুরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ঝড়

আপডেট সময় ১২:৪১:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশীর্বাদপুষ্ট প্রকৌশলী তবিবুর রহমান তালুকদার এখনও গেড়ে বসে আছেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে (ডিপিএইচই)। সরকার পতনের এক বছর পরও জনগণের স্বাস্থ্যসেবা খাতের গুরুত্বপূর্ণ এই দপ্তরটি তার হাতে পরিণত হয়েছে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে। অভিযোগ রয়েছে—তিনি শুধু আর্থিক নয়, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থবিরোধী কার্যক্রমেও জড়িত।
আওয়ামী ফ্যাসিবাদের জমানায় হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের পিডি (প্রকল্প পরিচালক) হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে তিনি একে একে গড়ে তোলেন প্রভাবের সাম্রাজ্য। অর্থনৈতিকভাবে ফুলেুফেঁপে ওঠার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ভাণ্ডার বিদেশে পাচারের অভিযোগও উঠেছে।

সম্প্রতি জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) সূত্রে জানা যায়, প্রকৌশলী তবিবুর রহমান ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র) এর সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে চিহ্নিত হয়েছেন। ফ্যাসিবাদের আমলে তার মতো বহু প্রকল্প পরিচালকের অনিয়মুদুর্নীতি ধরা পড়লেও শেখ হাসিনার সরাসরি আশীর্বাদে তারা পার পেয়ে গেছেন। বর্তমানে অন্তর্র্বতী সরকারের সময় তিনি প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতির জন্য তৎপর রয়েছেন।

বিশ্বব্যাংক অর্থায়িত প্রকল্পে দুর্নীতির ছড়াছড়ি :
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত “মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি” প্রকল্পে চলছে ভয়াবহ অনিয়ম, ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্য। এই প্রকল্পের মূল নায়ক হিসেবে চিহ্নিত তবিবুর রহমান তালুকদার। ২০২১ সালের অক্টোবরে অনুমোদিত ১,৮৮২ কোটি টাকার এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল দেশের ৩০টি জেলায় নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা সম্প্রসারণ। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

কমিশনের বিনিময়ে কাজ, টেন্ডারে জালিয়াতি :
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া ও প্রভাবশালী মহলের আশীর্বাদে তবিবুর রহমান গড়ে তুলেছেন এক দুর্নীতির সাম্রাজ্য। অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, তিনি প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে কমিশন নেওয়া অলিখিত নিয়মে পরিণত করেছেন। পছন্দের ঠিকাদারদের কাছ থেকে ৫ থেকে ১৫ শতাংশ কমিশনের বিনিময়ে কাজ পাইয়ে দেওয়া হতো। ফলে তার নতুন নাম হয়েছে—‘ফাইভ পার্সেন্ট পিডি’। নিয়ম অনুযায়ী সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেওয়ার কথা থাকলেও, তিনি নিয়মিতভাবে তা এড়িয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় লোয়েস্ট দরদাতাকে কাজ দেন—শুধুমাত্র কমিশনের স্বার্থে।
রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে কোটি কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়, অথচ কাজের মান নিম্নমানের।

নিম্নমানের পণ্য ও কোটি টাকার ক্ষতি :
বিশ্বব্যাংকের নির্দেশনা ছিল-ইউরোপীয় মানের পাইপ ও সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু সেখানে ব্যবহার করা হয়েছে ভারতীয় নিম্নমানের পণ্য, যার ফলে অনেক স্থানে স্থাপিত পানি সরবরাহ লাইন কয়েক মাসের মধ্যেই অকেজো হয়ে পড়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, প্রকল্প চলাকালীন সময়ে তবিবুর রহমানের নামে ও বেনামে অর্জিত হয়েছে ধানমন্ডি ও উত্তরা এলাকায় ফ্ল্যাট, বিলাসবহুল গাড়ি এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোটি টাকার লেনদেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের অর্থেই এসব সম্পদ গড়ে উঠেছে। তদন্তে ধীরগতি ও রাজনৈতিক প্রভাব : দুদকের সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে অনুসন্ধান শুরু হলেও, সংস্থার ভেতর থেকেই অভিযোগ উঠেছে—উচ্চপর্যায়ের প্রভাব ও রাজনৈতিক চাপের কারণে তদন্ত এগোচ্ছে ধীর গতিতে। এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রমাণ এতটাই স্পষ্ট যে এটি লুকানো সম্ভব নয়। কিন্তু উপরের প্রভাবশালী মহল তদন্তকে বারবার থামিয়ে দিচ্ছে।” এ বিষয়ে তবিবুর রহমানের মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি, এমনকি ক্ষুদে বার্তারও কোনো জবাব দেননি।

শাসকদলের ঘনিষ্ঠতা ও প্রশাসনিক উদাসীনতা :
তার ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, তবিবুর শাসকদলের প্রকৌশলী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন এবং সেই রাজনৈতিক সংযোগকেই কাজে লাগিয়ে বিশ্বব্যাংকের এই প্রকল্পে অপ্রতিরোধ্য প্রভাব বিস্তার করেছেন। স্থানীয় সরকার বিভাগ একাধিকবার তদন্তের নির্দেশ দিলেও, এখনো কোনো প্রতিবেদন জমা পড়েনি। প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তার ভাষায়, “তবিবুরের পেছনে শক্ত রাজনৈতিক আশ্রয় না থাকলে এত বড় দুর্নীতি সম্ভব হতো না। শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।” বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রভাবমুক্ত থেকে পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে এই দুর্নীতির সংস্কৃতি শুধু জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর নয়, গোটা রাষ্ট্রের সেবাব্যবস্থাকেই পঙ্গু করে দেবে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় জনগণের জন্য নেওয়া এই পানি সরবরাহ প্রকল্প এখন পরিণত হয়েছে লুটপাটের মঞ্চে। টেন্ডার সিন্ডিকেট, কমিশন বাণিজ্য ও রাজনৈতিক প্রভাবের জালে জড়িয়ে পড়েছে একটি মহৎ জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ। সচেতন মহলের অভিমত—দুদক ও স্থানীয় সরকার বিভাগ দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিচারের মুখোমুখি না করলে, এই দুর্নীতির সংস্কৃতি কখনোই থামবে না।