ঢাকা ০৪:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিলেট পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরে নিয়াজুর-সুবর্ণা দম্পতিকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ ডিজিটাল নম্বর প্লেটের নামে ১৫০০ কোটি টাকা আদায়, ৫৪ লাখ গ্রাহক বিপাকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগে যুগ্ম সচিব মোর্শেদা ফেরদৌসকে ঘিরে নানা অভিযোগ সোনামসজিদ স্থলবন্দরে রাজস্ব আদায়ে বড় ধস, চার বছরে ঘাটতি হাজার কোটি সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে যন্ত্র বিকলের নামে ৪৭ লাখ টাকা লোপাট! আওয়ামী আমলের প্রভাবশালী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান এখনো গুরুত্বপূর্ণ পদে, উঠছে নানা প্রশ্ন সড়ক নিরাপত্তায় বিশেষ অবদান রাখায় নিসচা বিশেষ সম্মাননা পেলেন লায়ন গনি মিয়া বাবুল রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা করল ১১-দল মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী কচুয়ায় দেড় কিলোমিটার সড়ক বেহাল: ঝুঁকিতে ২৫০ শিক্ষার্থী, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

মদপানে ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনায় ৪ মরদেহ উত্তোলন

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ এলাকায় বিষাক্ত মদপানে ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনায় কবর থেকে চারজনের মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (নিয়োগপ্রাপ্ত) নূরুল হুদা মনিনের উপস্থিতিতে এই মরদেহগুলো উত্তোলন করা হয়।

যাদেন মরদেহ উত্তোলন করা হয়—চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার পিরোজখালি গ্রামের লাল্টু হোসেন, খেজুরা গ্রামের সেলিম (৪৫), নফরকান্দি গ্রামের খেদের আলী (৫০) ও শংকরচন্দ্র গ্রামের শহিদুল মোল্লা।

এর আগে, গত ৯ অক্টোবর দিবাগত রাতে ডিঙ্গেদহ বাজার এলাকায় কয়েকজন একসঙ্গে বিষাক্ত অ্যালকোহল পান করেন। পরদিন একে একে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বিভিন্ন সময়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়। রোববার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যুর পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপরই দুজনের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলেও চারজনকে পরিবারের সদস্যরা গোপনে দাফন করেছিলেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হোসেন আলী বলেন, গত ১৩ অক্টোবর নিহত লাল্টুর ভাই রাকিব বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, মামলা দায়েরের আগেই নিহত চারজনকে গোপনে দাফন করা হয়েছিল। পরে ১৫ অক্টোবর আমরা আদালতে মরদেহ উত্তোলনের আবেদন করি। আদালত ১৬ অক্টোবর মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ দেন এবং জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আদেশ দেন। তিনি আরও বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী চারজনের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে ঘটনাটির সঙ্গে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিষাক্ত স্পিরিটের যোগসূত্র পাওয়া গেছে বলে জানায় পুলিশ। তদন্তে জানা গেছে, লাইসেন্সবিহীন মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যালকোহল বিক্রি ও সরবরাহের সঙ্গে স্থানীয় এক চক্র জড়িত। মামলা দায়েরের পর চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঝিনাইদহ থেকে মূল আসামি ফারুক আহমেদ ওরফে ‘অ্যালকো ফারুক’ (৪০) ও তার সহযোগী জুমাত আলীকে (৪৬) গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১১৭ বোতল মেয়াদোত্তীর্ণ স্পিরিট।

জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক স্বীকার করেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হোমিও চিকিৎসার আড়ালে বিষাক্ত ও মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যালকোহল বিক্রি করে আসছিলেন এবং চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ দিতেন। সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট নূরুল হুদা মনির বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। আমার উপস্থিতিতে চারজনের মরদেহ উত্তোলন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সিলেট পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরে নিয়াজুর-সুবর্ণা দম্পতিকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ

মদপানে ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনায় ৪ মরদেহ উত্তোলন

আপডেট সময় ১২:৫১:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ এলাকায় বিষাক্ত মদপানে ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনায় কবর থেকে চারজনের মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (নিয়োগপ্রাপ্ত) নূরুল হুদা মনিনের উপস্থিতিতে এই মরদেহগুলো উত্তোলন করা হয়।

যাদেন মরদেহ উত্তোলন করা হয়—চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার পিরোজখালি গ্রামের লাল্টু হোসেন, খেজুরা গ্রামের সেলিম (৪৫), নফরকান্দি গ্রামের খেদের আলী (৫০) ও শংকরচন্দ্র গ্রামের শহিদুল মোল্লা।

এর আগে, গত ৯ অক্টোবর দিবাগত রাতে ডিঙ্গেদহ বাজার এলাকায় কয়েকজন একসঙ্গে বিষাক্ত অ্যালকোহল পান করেন। পরদিন একে একে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বিভিন্ন সময়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়। রোববার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যুর পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এরপরই দুজনের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলেও চারজনকে পরিবারের সদস্যরা গোপনে দাফন করেছিলেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হোসেন আলী বলেন, গত ১৩ অক্টোবর নিহত লাল্টুর ভাই রাকিব বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, মামলা দায়েরের আগেই নিহত চারজনকে গোপনে দাফন করা হয়েছিল। পরে ১৫ অক্টোবর আমরা আদালতে মরদেহ উত্তোলনের আবেদন করি। আদালত ১৬ অক্টোবর মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ দেন এবং জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আদেশ দেন। তিনি আরও বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী চারজনের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে ঘটনাটির সঙ্গে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিষাক্ত স্পিরিটের যোগসূত্র পাওয়া গেছে বলে জানায় পুলিশ। তদন্তে জানা গেছে, লাইসেন্সবিহীন মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যালকোহল বিক্রি ও সরবরাহের সঙ্গে স্থানীয় এক চক্র জড়িত। মামলা দায়েরের পর চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঝিনাইদহ থেকে মূল আসামি ফারুক আহমেদ ওরফে ‘অ্যালকো ফারুক’ (৪০) ও তার সহযোগী জুমাত আলীকে (৪৬) গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১১৭ বোতল মেয়াদোত্তীর্ণ স্পিরিট।

জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক স্বীকার করেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হোমিও চিকিৎসার আড়ালে বিষাক্ত ও মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যালকোহল বিক্রি করে আসছিলেন এবং চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ দিতেন। সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট নূরুল হুদা মনির বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। আমার উপস্থিতিতে চারজনের মরদেহ উত্তোলন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।