রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সচল যন্ত্রপাতি বিকল দেখিয়ে মেরামতের নামে লোপাট করা হয়েছে প্রায় ৪৭ লাখ টাকা। এ ঘটনায় হাসপাতালের সাবেক পরিচালক, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ও এক স্টোরকিপারের নাম সামনে এসেছে। অথচ হাসপাতালটিতে অচল পড়ে আছে ১০০ কোটি টাকার তিন শতাধিক জীবনরক্ষাকারী যন্ত্র।
রাজধানীসহ সারা দেশের লাখ লাখ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ চিকিৎসা নেয় এই হাসপাতালে। অথচ ৩২০টি অতি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র বছরের পর বছর ধরে বিকল থাকায় ব্যাহত হচ্ছে সেবা কার্যক্রম। এর মধ্যেই সচল যন্ত্র নষ্ট দেখিয়ে অর্থ লোপাটের বিষয়টি সামনে এসেছে।

বাঁ থেকে সাবেক পরিচালক ডা. মো. শফিউর রহমান, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. নন্দ দুলাল সাহা এবং স্টোরকিপার মো. রফিকুল ইসলাম।
এ ঘটনায় হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ডা. মো. শফিউর রহমান, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. নন্দ দুলাল সাহা এবং স্টোরকিপার মো. রফিকুল ইসলামের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
নষ্ট না হওয়া যন্ত্র মেরামত হলো যেভাবে
২০২৪-২৫ অর্থবছরে যন্ত্র মেরামতের বরাদ্দ ছিল ৪০ লাখ টাকা। এর বিপরীতে খরচ দেখানো হয় ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা।২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৯৫ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে খরচ দেখানো হয় ১৫ লাখ ২১ হাজার টাকা। পেশেন্ট মনিটর, ইসিজি মেশিন, ওটি টেবিল ও ডায়াথার্মি মেশিন মেরামতের নামে সাতটি কোটেশনের মাধ্যমে তোলা হয় এই অর্থ।
দুই অর্থবছর মিলিয়ে মেরামতের নামে মোট তোলা হয়েছে ৪৭ লাখ ১৮ হাজার ৫০০ টাকা। প্রতিটি বিলে তৎকালীন পরিচালক ডা. মো. শফিউর রহমানের স্বাক্ষর থাকলেও এতে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারদের কোনো সম্মতি ছিল না বলে জানা গেছে।
বিষয়টি জানতে পেরে বিস্ময় প্রকাশ করেন হাসপাতালের প্রধান বায়োমেডিকেল প্রকৌশলী মোহাম্মদ তৌহিদুদ জামান। তিনি বলেন, ‘এসব যন্ত্র তো নষ্টই হয়নি, মেরামত হবে কীভাবে? নষ্ট হলে সবার আগে আমাদের বায়োমেডিকেল টিমের জানার কথা। আমরা কিছুই জানি না, অথচ কাগজপত্রে নাকি মেরামত সম্পন্ন করে বিলও তোলা শেষ! পুরোটাই ভুয়া কোটেশন বানিয়ে ভাগ-বাঁটোয়ারা করা হয়েছে।’
মোহাম্মদ তৌহিদুদ জামান বলেন, ‘বিষয়টি সম্প্রতি জানতে পেরেছি। এটি নিয়ে তৎকালীন পরিচালক শফিউর রহমানের বিরুদ্ধে অডিট আপত্তিও এসেছে। তিনি কয়েক দিন পরপর মীমাংসার জন্য হাসপাতালে আসেন। এই টাকা স্টোরকিপার রফিক ও পরিচালক সিন্ডিকেটের পেটে গেছে।’
কাজ পায় স্টোরকিপারের স্ত্রীর ভুয়া প্রতিষ্ঠান
হাসপাতালের বিভিন্ন মেরামত ও মালামাল সরবরাহের কার্যাদেশ পায় ‘এম/এস এস.আর ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। দরপত্রে ঠিকানা দেখানো হয় মিরপুরের পশ্চিম শেওড়াপাড়ার ৩১৪-৩১৫ নম্বর বাসা (ফ্ল্যাট ৪/বি)। তবে দরপত্রে উল্লিখিত ঠিকানা অনুযায়ী সেখানে গিয়ে এমন কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
দরপত্রে কাজ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা দেখানো হয় রাজধানীর মিরপুরের পশ্চিম শেওড়াপাড়ার এই ভবনে। তবে সেখানে গিয়ে এমন কোনো প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব
ওই ভবনের বাসিন্দা ও স্থানীয়রা জানান, ভবনটির পুরোটাই আবাসিক। সেখানে কোনো অফিস বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নেই।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল হাসপাতালের স্টোরকিপার মো. রফিকুল ইসলামের স্ত্রীর নামে খোলা একটি কাগুজে প্রতিষ্ঠান।
সরকারি চাকরিতে থেকে স্ত্রীর নামে কাল্পনিক প্রতিষ্ঠান খুলে জালিয়াতির প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রফিক বলেন, ‘স্ত্রী স্বাধীনভাবে ব্যবসা করতে পারেন।’
বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারদের স্বাক্ষর ছাড়া এবং মালামাল না বুঝে পেয়ে কীভাবে বিল পাস হলো? এমন প্রশ্ন করা হলে নামাজের অজুহাতে নিজের কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান তিনি। ভালো যন্ত্র নষ্ট দেখিয়ে ভুয়া বিল তৈরি করে অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে জানতে চাইলে রফিক বলেন, ‘ক্যাশ থেকে টাকা নিয়ে কাজ করা হয়েছিল। সেই টাকা সমন্বয়ের জন্য পরিচালকের নির্দেশে বিল করা হয়েছে।’
অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত গ্লাভস ফের ওটিতে
অনুসন্ধানে উঠে আসে, অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত সার্জিক্যাল প্রসিডিউর গ্লাভস নতুন করে প্যাকেটজাত করে হাসপাতালের স্টোরে সরবরাহ করতেন স্টোরকিপার রফিক। জালিয়াতি চাপা দিতে নার্সদের প্রতি তার নির্দেশ ছিল, ব্যবহৃত গ্লাভস যেন কেটে ফেলা না হয়।
হাসপাতালটিতে বছরে অন্তত ১০ হাজার জোড়া সার্জিক্যাল প্রসিডিউর গ্লাভসের প্রয়োজন হয়। প্রতি জোড়ার দাম অন্তত ১৫০ টাকা। সে হিসাবে বছরে শুধু গ্লাভসের পেছনেই খরচ হয় প্রায় ১৫ লাখ টাকা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নার্স ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সংক্রমিত গ্লাভস পুনরায় ওটিতে ব্যবহার করা রোগীর জীবন নিয়ে তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়। ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই ধরনের গ্লাভস সরবরাহ করা হয়েছে। পরে চিকিৎসকদের আপত্তির মুখে গত বছর থেকে উন্নতমানের গ্লাভস সরবরাহ শুরু হয়।
এদিকে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হলেও স্টোরকিপার রফিকের রয়েছে ব্যক্তিগত গাড়ি ও চালক। ১৯৯২ সালে যোগদান করা রফিক চাকরির সুবাদে আগারগাঁওয়ে সরকারি স্টাফ কোয়ার্টার (বি-১৪, জি-১০) বরাদ্দ পেলেও বিগত আওয়ামী লীগ আমলে ১৭ বছর ধরে নিজে না থেকে অন্যকে ভাড়া দিয়ে আদায় করেছেন ৮১ লাখ টাকার বেশি।
রফিকের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ। হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিমের নাম ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের ১৭ বছরে নানা অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। তবে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এখনও বিকল তিন শতাধিক যন্ত্র
একদিকে সচল যন্ত্রের ভুয়া মেরামত দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা লোপাট হচ্ছে। অন্যদিকে অতি জরুরি তিন শতাধিক ছোট-বড় জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম বছরের পর বছর ধরে বিকল পড়ে আছে।২০২২ সালে হাসপাতাল থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকার অক্সিজেন পাইপলাইন চুরির ঘটনায় তদন্ত কমিটি হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো তদন্ত প্রতিবেদনে প্রকাশ হয়নি। ফলে এর সঙ্গে জড়িতদের কারও গায়েও আঁচড় লাগেনি। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্টোরকিপার রফিক বলেন, ‘এই চুরি সম্পর্কে ওয়ার্ড মাস্টাররা জানে, আমি কিছু জানি না।’
নষ্ট যন্ত্রপাতির তালিকায় রয়েছে ভেন্টিলেটর, এমআরআই, সিটি স্ক্যান, এক্সরে, এন্ডোস্কপি, কলোনস্কোপি, পেশেন্ট মনিটর, আল্ট্রাসাউন্ড, অক্সিজেন জেনারেটরের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ ও জীবনরক্ষাকারী নানা সরঞ্জাম। এগুলোর মোট মূল্য অন্তত ১০০ কোটি টাকা।
২০১৬ সালে ১৮ কোটি টাকায় কেনা একমাত্র এমআরআই যন্ত্রটি বছর দু-এক যেতেই বিকল হয়ে পড়ে। পরে সেটি আর ঠিক করা হয়নি। ফলে প্রতি মাসে শত শত রোগী এই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
দুটি সিটি স্ক্যানের মধ্যে একটি নষ্ট পড়ে আছে পাঁচ বছর ধরে। চার কোটি টাকায় কেনা এই যন্ত্রটি সচল করার কোনো উদ্যোগ নেই।
এ ছাড়া ৪০টি ভেন্টিলেটর পড়ে আছে। এগুলোর একেকটির দাম প্রায় ৩০ লাখ টাকা। সে হিসাবে শুধু ভেন্টিলেটরই পড়ে আছে ১২ কোটি টাকার।
পূর্ণাঙ্গ সেটআপসহ দুটি পোর্টেবল এক্সরে মেশিন পড়ে আছে, যার দাম ৬ কোটি টাকা। এন্ডোস্কপি ও কোলনোস্কোপি পড়ে আছে সাতটি। এগুলোর প্রতিটির দাম অন্তত এক কোটি টাকা হিসাবে সবকটির মোট দাম কমপক্ষে সাত কোটি টাকা।
দেড় কোটি টাকা মূল্যের পেশেন্ট মনিটর পড়ে আছে ৩০টির বেশি। ৭ কোটি ২ লাখ টাকার আল্ট্রাসাউন্ড পড়ে আছে ১৪টি, ৮০ লাখ টাকার দুটি ইকো মেশিন, এক কোটি টাকার একটি এক্সরে ম্যামোগ্রাফি, চার কোটি টাকার দুটি অক্সিজেন ও দুটি এয়ার জেনারেটর পড়ে আছে অকেজো অবস্থায়।
বিকলের তালিকায় আছে ল্যাপারোস্কোপিও, যার প্রতিটির মূল্য অন্তত ৮০ লাখ টাকা। সেক্ষেত্রে ১০টি ল্যাপারোস্কোপির মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৮ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে হাসপাতালটিতে প্রায় ১০০ কোটি টাকার যন্ত্র অচল অবস্থায় পড়ে আছে।
সিন্ডিকেটের পকেটে রাজস্বের কোটি টাকা
রোগ নির্ণয় ফি, ওষুধ বিক্রি, বেড ভাড়াসহ হাসপাতালের বিভিন্ন খাত থেকে আসা রাজস্ব আয়ে স্বচ্ছতা আনতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে অটোমেশন চালু করেন সম্প্রতি পরিচালক থেকে ওএসডি হওয়া ডা. সেহাব উদ্দিন। এতে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় দুই কোটি টাকা বেশি আয় হয়েছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে, রাজস্ব আয়ের এই তহবিল আগে যেত কোথায়।
অটোমেশনের আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে হাসপাতালের রাজস্ব আয় ছিল পাঁচ কোটি ২ লাখ ৪১ হাজার ৭৭৫ টাকা। সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (২৬ জুন পর্যন্ত) আয় হয়েছে ছয় কোটি ৯৯ লাখ ৮৫ হাজার ১৫০ টাকা। অর্থাৎ ছয় মাসের ব্যবধান ১ কোটি ৯৭ লাখ ৪৩ হাজার ৩৭৫ টাকা। একাধিক কর্মকর্তার ভাষ্য, এই পুরো টাকা গেছে নন্দ দুলাল ও রফিকের পেটে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর হাসপাতালে পরিচালক পরিবর্তন হলেও বহাল তবিয়তে থেকে যান উপপরিচালক নন্দ দুলাল সাহা। তিনি ও স্টোরকিপার রফিক প্রতিষ্ঠানের সব কেনাকাটার সঙ্গে যুক্ত।
সামগ্রিক বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. নন্দ দুলাল সাহা প্রথমে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করতে বলেন। পরে টাকা আত্মসাতের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘সবকিছু নিয়ম মেনেই হয়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে সাবেক পরিচালক ডা. শফিউর রহমান বলেন, ‘এই বিষয়ে কোনো কথা হবে না। ওখানে দেখার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আছে। সরকারের আরও দেখার অনেক বিভাগ আছে, তারা সবাই দেখছে। আমার শাসনামলে কোনো কাগজপত্রে কোথাও কোনো গরমিল নেই।’
তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটা প্রতিষ্ঠানের নিয়ম হলো, একটা মেশিন নষ্ট হলে ডিপার্টমেন্ট থেকে রিকুইজিশন দেয়। বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়াররা যাচাই-বাছাই করে কোটেশনের মাধ্যমে যন্ত্রপাতি কেনে। যার মেশিন ঠিক হয়েছে, ব্যবহারকারীরা সঠিক বললে তবেই বিল স্টোর অ্যাকাউন্টস হয়ে আমার কাছে আসে। এখানে দুই নম্বরি করার সুযোগ নেই। তৌহিদ এবং বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের মধ্যে দলাদলি থাকার কারণে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে দোষারোপ করে পরিচালকের পেছনে লাগে। এটা (ভুল তথ্য দিয়ে বিল তোলা) সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস স্বাস্থ্য বিভাগের
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ রুমী বলেন, ‘বিষয়টি আমলে নেওয়া হলো। সরকারি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্ত্রীর নামে প্রতিষ্ঠান খুলে একই প্রতিষ্ঠানে ঠিকাদারির সুযোগ নেই। তাই বিষয়টি নিয়ে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ কমিটি দিয়ে তদন্ত করা হবে। তাতেও না হলে অধিদপ্তর করবে। সত্যতা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমার সময়ের না, তবে তদন্ত করে দেখা হবে। অনিয়মের বিষয়টি প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















