ঢাকা ০৫:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিরোধী দল দুর্ভাগ্যবশত হাসিনার ভাষায় কথা বলছে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ভারতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু, হত্যার অভিযোগ পরিবারের সঞ্জিতের ধর্মান্তর, বিয়ে, ২০ লাখ টাকা ও পিতৃপরিচয়ের জটিলতা ও প্রতারণা সালমান শাহ হত্যা মামলা : খলনায়ক ডনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন বালিয়াডাঙ্গীতে স্কুলের ৪৭ শতক জমি নিয়ে বিরোধ, উদ্ধারে মানববন্ধন সিলেট পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরে নিয়াজুর-সুবর্ণা দম্পতিকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ ডিজিটাল নম্বর প্লেটের নামে ১৫০০ কোটি টাকা আদায়, ৫৪ লাখ গ্রাহক বিপাকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগে যুগ্ম সচিব মোর্শেদা ফেরদৌসকে ঘিরে নানা অভিযোগ সোনামসজিদ স্থলবন্দরে রাজস্ব আদায়ে বড় ধস, চার বছরে ঘাটতি হাজার কোটি সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে যন্ত্র বিকলের নামে ৪৭ লাখ টাকা লোপাট!

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২০

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের ২০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এদের মধ্যে কোতোয়ালি থানা ও ডিবির যৌথ অভিযানে ১২ জন এবং র‌্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লার অভিযানে আরও আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রবিবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর কান্দিরপাড়ে ভিক্টোরিয়া কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শাখায় এ সংঘর্ষে ঘটনায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন, তৌহিদুল ইসলাম মাহিম (১৮), মো. ফাহিম (১৭), শাফায়েত ইসলাম (২১), রহমাতুল ফুয়াদ (১৮), সালমান শিকদার (১৭), রাকিবুল হাসান (২১), রাফাতুল ইসলাম রাতুল (২২) এবং শাওন রায় (২২)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী জিসান ও ফাহাদের সঙ্গে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তানভিন সিফাতের কথা কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সিফাত তার বহিরাগত বন্ধুদের ডেকে আনে। তারা ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়।
এ সময় ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া ও হামলার দৃশ্য ভিডিও করে শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।

এতে ঘটনাটি দ্রুত আলোচনায় আসে। সংঘর্ষে মোস্তাফিজুর রহমান, অনয় দেবনাথ, মো. মাহিন, মো. রিজভীসহ পাঁচজন আহত হন। আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সোমবার (২০ অক্টোবর) নগরীর শাকতলা র‌্যাব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লার কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান ইবনে আলম জানান, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত ৮ কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

মেজর সাদমান ইবনে আলম বলেন, গত ১৯ অক্টোবর সংঘর্ষের পরপরই র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে জড়িত ৮ কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র‌্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা সংঘর্ষে অংশ নেওয়া ও অস্ত্র ব্যবহার করার কথা স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

একই ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পৃথক অভিযান চালিয়ে আরও ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সংঘর্ষের অন্যতম নেতৃত্বদাতা সিফাত (২০) ও আবরার (১৯) রয়েছেন।
সোমবার দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) রাশেদুল হক চৌধুরী জানান, ভিক্টোরিয়া কলেজে সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে চাপাতি, হাসুয়া ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। সংঘর্ষে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টিকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে সংঘর্ষের পর কলেজের আশপাশে পুলিশের নজরদারি রয়েছে। ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। পুলিশ বলেছে, ঘটনাটির পেছনে কিশোর গ্যাং–সংস্কৃতির প্রভাব এবং ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার চেষ্টাই মূল কারণ।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিরোধী দল দুর্ভাগ্যবশত হাসিনার ভাষায় কথা বলছে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২০

আপডেট সময় ০৯:২৬:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের ২০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এদের মধ্যে কোতোয়ালি থানা ও ডিবির যৌথ অভিযানে ১২ জন এবং র‌্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লার অভিযানে আরও আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রবিবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর কান্দিরপাড়ে ভিক্টোরিয়া কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শাখায় এ সংঘর্ষে ঘটনায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন, তৌহিদুল ইসলাম মাহিম (১৮), মো. ফাহিম (১৭), শাফায়েত ইসলাম (২১), রহমাতুল ফুয়াদ (১৮), সালমান শিকদার (১৭), রাকিবুল হাসান (২১), রাফাতুল ইসলাম রাতুল (২২) এবং শাওন রায় (২২)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী জিসান ও ফাহাদের সঙ্গে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তানভিন সিফাতের কথা কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সিফাত তার বহিরাগত বন্ধুদের ডেকে আনে। তারা ধারালো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়।
এ সময় ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া ও হামলার দৃশ্য ভিডিও করে শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।

এতে ঘটনাটি দ্রুত আলোচনায় আসে। সংঘর্ষে মোস্তাফিজুর রহমান, অনয় দেবনাথ, মো. মাহিন, মো. রিজভীসহ পাঁচজন আহত হন। আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সোমবার (২০ অক্টোবর) নগরীর শাকতলা র‌্যাব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লার কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান ইবনে আলম জানান, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত ৮ কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

মেজর সাদমান ইবনে আলম বলেন, গত ১৯ অক্টোবর সংঘর্ষের পরপরই র‌্যাব গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে জড়িত ৮ কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র‌্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা সংঘর্ষে অংশ নেওয়া ও অস্ত্র ব্যবহার করার কথা স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

একই ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পৃথক অভিযান চালিয়ে আরও ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সংঘর্ষের অন্যতম নেতৃত্বদাতা সিফাত (২০) ও আবরার (১৯) রয়েছেন।
সোমবার দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) রাশেদুল হক চৌধুরী জানান, ভিক্টোরিয়া কলেজে সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে চাপাতি, হাসুয়া ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। সংঘর্ষে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টিকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে সংঘর্ষের পর কলেজের আশপাশে পুলিশের নজরদারি রয়েছে। ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। পুলিশ বলেছে, ঘটনাটির পেছনে কিশোর গ্যাং–সংস্কৃতির প্রভাব এবং ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার চেষ্টাই মূল কারণ।