স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার আমলে গোপালগঞ্জের নাম ও আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ তদবির বাণিজ্য করে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন, তেমনি একজন তিতাসের গাড়িচালক গোপালগঞ্জের শেখ সেলিমের যুবলীগের ক্যাডার হাফিজ মজুমদার শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন নামে বেনামে স্ত্রী পুত্র সন্তান সহ বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের নামে করেছেন বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ।
গোপালগঞ্জ সদরের মধ্য বনগ্রামের বাসিন্দা দরিদ্র কৃষক হেমায়েত মজুমদারের ছেলে হাফিজ মজুমদার শেখ সেলিমের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিতাসের সামান্য বেতনের একজন গাড়িচালক হলেও তার ছিল ব্যাপক ক্ষমতা ও প্রভাব, তিতাসের উচ্চপদস্থ অনেক কর্মকর্তার বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্য করতেন তিনি । ভয়ে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতো না। ঘুষ দুর্নীতি নিয়োগ তদবিরের অবৈধ অর্থে এলাকায় হয়েছেন দানশীল মসজিদ মাদ্রাসা স্কুল উন্নয়নে দান করতেন বিপুল পরিমাণ অর্থ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মধ্য বনগ্রাম ও গোপালগঞ্জ সদরের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা বলেন বনগ্রাম শামসুল উলুম সুলতানিয়া মাদ্রাসা এতিমখানা মসজিদ ও ঈদগাহ কমপ্লেক্স , বনগ্রাম মধ্যপাড়া মোহাম্মাদিয়া জামে মসজিদ গোপালগঞ্জ সদর সহ অনেক মসজিদ মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হাফিজ মজুমদার অনেক দান করেছেন এলাকায় দানশীল হিসেবে তার খুব সুনাম আছে কিন্তু এই সব কিছুই করেছেন তিনি অবৈধ অর্থে। একজন গাড়ি চালকের বেতন কত হয় কিভাবে তিনি এত অর্থ ব্যয় করেছেন? বনগ্রামে বাবার রেখে যাওয়া কয়েক শতাংশ জায়গার উপর ভাঙা টিনের ঘর ভেঙে আশেপাশে আরও জমি ক্রয় করে নির্মাণ করেছেন পাকা বিল্ডিং, গোপালগঞ্জ সদরের ঘোমেরচড় মৌজায় সাড়ে পাঁচ শতাংশ জায়গার উপরে কয়েক কোটি টাকা খরচ করে ছেলে রিহাদ মজুমদারের নামে নির্মাণ করছেন একটি বহুতল ভবন, এলাকার আরো বেশ কয়েকজন বাসিন্দা আরও বলেন এই হাফিজ মজুমদারের ব্যবহার খুব খারাপ এবং তিনি অনেক অহংকারী ।অবৈধ অর্থে গোপালগঞ্জ সদরসহ আশেপাশের উপজেলা সহ বিভিন্ন মৌজায় বিপুল পরিমাণ জমির ক্রয় করেছেন নিজের নামে স্ত্রী ছেলে মেয়ে শ্বশুর শাশুড়ি ও বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের নামে , আওয়ামী লীগের উচ্চপদস্থ সাবেক মন্ত্রী এমপি ও শেখ সেলিমের প্রভাব খাটিয়ে তিনি এই পরিমাণ অর্থ আয় করেছেন। নিজেকে পরিচয় দিতেন শেখ পরিবারের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে। তবে ৫ ই আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলেও হাফিজ মজুমদারের ক্ষমতার দাপট এক চুলও কমেনি।
অনুসন্ধানে জানা যায় হাফিজ মজুমদার রাজধানী ঢাকায় একাধিক বাড়ি ও ফ্লাট ক্রয় করেছেন স্ত্রী পুত্র মেয়েদের নামে। চলাফেরা করেন আলিশান ভাবে তার বিলাসী জীবনযাপন দেখলে কেউ বলতে পারবে না তিনি একজন সামান্য ড্রাইভার, ছেলেমেয়েদেরকে নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করান যা অনেক ব্যয়বহুল।
তিতাসের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী বলেন স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের পতন হলেও ফ্যাসিবাদের অধিকাংশ দোসর এখনো রয়ে গেছে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে এই হাফিজ মজুমদার ৫ই আগস্ট এর আগে নিজের ইচ্ছে মতো ডিউটি করতেন মনে চাইলে আসতেন মনে না চাইলে আসতেন না ভয়ে তাকে কেউ কিছু বলতে পারত না ।অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিএনপি জামাত তকমা লাগিয়ে বদলি করেছেন চাকরি খাওয়ার ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করতেন একজন গাড়িচালক হয়েও তিনি একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ভঙ্গিমায় চলাফেরা করতেন ৫ ই আগস্টের পরে ভোল পাল্টিয়ে কিছু রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করে এখনো বহাল তবিয়তে আছেন এই ধরনের অসাধু ও দুর্নীতিবাজ কর্মচারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন।
হাফিজ মজুমদারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক অভিযোগ জমা হলেও তা আওয়ামী লীগের প্রভাব ও গোপালগঞ্জের নামের কারণে অদৃশ্য হয়ে যেত।
তবে সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে হাফিজ মজুমদার, স্ত্রী লিজা আক্তার, ছেলে মোহাম্মদ রিহাদ মজুমদার, ও তার দুই কন্যা সাবুকুন নাহার রোজা ও কেয়া মজুমদারের নামে অনুসন্ধান শুরু করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন আওয়ামী লীগের প্রভাব ও গোপালগঞ্জের নাম ভাঙিয়ে যে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন তাদের সকলের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাফিজ মজুমদার এর ফোনে একাধিকবার ফোন দিলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























