ঢাকা ০২:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মনোহরগঞ্জে সন্ত্রাসী কায়দায় গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ পিএসএলের বাকি অংশে খেলা হচ্ছে না নাহিদ-মুস্তাফিজের কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অনিয়মকেই নিয়মে পরিনত করছেন মাদারীপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার বেরোবিতে আন্তঃবিভাগ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত আইইএলটিএস পরীক্ষা দিতে আসা তরুণীর লাশ মিলল হোটেলের বাথরুমে বড়লেখা উপজেলা পৌর ছাত্রদল ও বড়লেখা উপজেলা শাখার ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তনু হত্যায় গ্রেপ্তার হাফিজুরের ডিএনএর নমুনা সংগ্রহ বিসিকের টেন্ডার সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রাশেদ! ঘোড়াশালে চাঁদাবাজ মহিউদ্দিনের দাপট, স্বাস্থ্যকেন্দ্র দখলের অভিযোগ কালীগঞ্জে ফুয়েল কার্ড যাচাইয়ে ইউএনও’র তৎপরতা, ভুল বোঝাবুঝির অবসান
কোটি টাকার মালিক উপ-সহকারী প্রকৌশলী কাজী মাকসুদ

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সদস্য

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী কাজী মাকসুদ—নামটি এখন নগর ভবনে ‘অদৃশ্য ক্ষমতার’ প্রতীক হিসেবে পরিচিত। মাত্র একটি উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে থেকে তিনি কীভাবে কোটি টাকার মালিক হলেন, সেই প্রশ্ন ঘুরছে কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয়দের মুখে মুখে। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সামসুল আলমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ব্যাপক আর্থিক সুবিধা ভোগ করে আসছেন।
কাজী মাকসুদ বহু বছর ধরে একই পদে বহাল রয়েছেন। প্রশাসনিক রদবদল বা বদলির তালিকায় নাম এলেও রহস্যজনকভাবে প্রতিবারই তিনি পদে বহাল থাকেন। সিটি করপোরেশনের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, সামসুল আলমের ‘বিশেষ অনুগ্রহে’ তিনি বদলি এড়াতে সক্ষম হন। এমনকি সামসুল আলম অবসরে যাওয়ার পরও তার প্রভাব ব্যবহার করে মাকসুদ নগর ভবনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফাইল ও প্রকল্প নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন।
একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “মাকসুদকে কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না। কোন প্রকল্পে কত টাকার অনুমোদন লাগবে, কার ঘরে ফাইল আটকে থাকবে—সব কিছু তিনি ঠিক করে দেন।”
অভিযোগ রয়েছে, ভবন নির্মাণের অনুমোদন, নকশা পাস, জমির মাপজোক—সব জায়গায়ই চলছে মাকসুদের অঘোষিত ঘুষ বাণিজ্য। অনুমোদনের জন্য আবেদনকারীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ প্রায় নিয়মিত। একাধিক ঠিকাদার জানিয়েছেন, “উপ-সহকারী প্রকৌশলী অফিসের ফাইল ছাড়া কোনো কাজ হয় না। কাজী মাকসুদ বা তার সহযোগীরা না চাইলে কিছুই এগোয় না।”
এই প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট, যার মূল কেন্দ্রেই আছেন কাজী মাকসুদ। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নগর ভবনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে অর্থ বণ্টন হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
মাকসুদের মাসিক বেতন সরকারি স্কেলে সীমিত হলেও তার বর্তমান জীবনযাপন সেই আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি কুমিল্লা শহরের অভিজাত এলাকায় একটি দোতলা ভবনের মালিক, পাশাপাশি গ্রামে একাধিক জমিও ক্রয় করেছেন। ব্যয়বহুল গাড়ি, নিয়মিত দামি রেস্টুরেন্টে আড্ডা এবং বিভিন্ন ঠিকাদারদের সঙ্গে বিলাসবহুল জীবনযাপন এখন তার নিত্যচিত্র।
সুশীল সমাজের এক সদস্য বলেন, “একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে থেকে এত সম্পদ কিভাবে হলো? দুদক চাইলে এক সপ্তাহেই সব বের করতে পারবে।”
বর্তমান প্রশাসক শাহ আলম দায়িত্ব নেওয়ার পর নগর উন্নয়নে অভিযান ও পরিদর্শন শুরু করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, মাকসুদসহ সিন্ডিকেটের প্রভাবশালী সদস্যরা নতুন প্রশাসককে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি শহরের ফুটপাত ও রাস্তা দখলমুক্ত অভিযান সম্পর্কেও আগাম তথ্য ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।
কুমিল্লার সুশীল সমাজের সদস্যরা মনে করেন, সিটি করপোরেশনের দুর্নীতির মূল উৎস এই সিন্ডিকেট, যার অন্যতম সক্রিয় সদস্য কাজী মাকসুদ। তাদের মতে, শুধু প্রশাসনিক বদল নয়, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সরাসরি তদন্ত ছাড়া নগর ভবনের অনিয়ম বন্ধ হবে না।
একজন নাগরিক বলেন, “মাকসুদের মতো কর্মকর্তারা যদি বছরের পর বছর একই পদে থেকে কোটি টাকার মালিক হতে পারেন, তাহলে সাধারণ কর্মচারী ও জনগণ ন্যায্য সেবা কিভাবে পাবে?

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মনোহরগঞ্জে সন্ত্রাসী কায়দায় গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ

কোটি টাকার মালিক উপ-সহকারী প্রকৌশলী কাজী মাকসুদ

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সদস্য

আপডেট সময় ০১:২৮:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী কাজী মাকসুদ—নামটি এখন নগর ভবনে ‘অদৃশ্য ক্ষমতার’ প্রতীক হিসেবে পরিচিত। মাত্র একটি উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে থেকে তিনি কীভাবে কোটি টাকার মালিক হলেন, সেই প্রশ্ন ঘুরছে কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয়দের মুখে মুখে। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সামসুল আলমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ব্যাপক আর্থিক সুবিধা ভোগ করে আসছেন।
কাজী মাকসুদ বহু বছর ধরে একই পদে বহাল রয়েছেন। প্রশাসনিক রদবদল বা বদলির তালিকায় নাম এলেও রহস্যজনকভাবে প্রতিবারই তিনি পদে বহাল থাকেন। সিটি করপোরেশনের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, সামসুল আলমের ‘বিশেষ অনুগ্রহে’ তিনি বদলি এড়াতে সক্ষম হন। এমনকি সামসুল আলম অবসরে যাওয়ার পরও তার প্রভাব ব্যবহার করে মাকসুদ নগর ভবনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফাইল ও প্রকল্প নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন।
একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “মাকসুদকে কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না। কোন প্রকল্পে কত টাকার অনুমোদন লাগবে, কার ঘরে ফাইল আটকে থাকবে—সব কিছু তিনি ঠিক করে দেন।”
অভিযোগ রয়েছে, ভবন নির্মাণের অনুমোদন, নকশা পাস, জমির মাপজোক—সব জায়গায়ই চলছে মাকসুদের অঘোষিত ঘুষ বাণিজ্য। অনুমোদনের জন্য আবেদনকারীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ প্রায় নিয়মিত। একাধিক ঠিকাদার জানিয়েছেন, “উপ-সহকারী প্রকৌশলী অফিসের ফাইল ছাড়া কোনো কাজ হয় না। কাজী মাকসুদ বা তার সহযোগীরা না চাইলে কিছুই এগোয় না।”
এই প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট, যার মূল কেন্দ্রেই আছেন কাজী মাকসুদ। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নগর ভবনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে অর্থ বণ্টন হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
মাকসুদের মাসিক বেতন সরকারি স্কেলে সীমিত হলেও তার বর্তমান জীবনযাপন সেই আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি কুমিল্লা শহরের অভিজাত এলাকায় একটি দোতলা ভবনের মালিক, পাশাপাশি গ্রামে একাধিক জমিও ক্রয় করেছেন। ব্যয়বহুল গাড়ি, নিয়মিত দামি রেস্টুরেন্টে আড্ডা এবং বিভিন্ন ঠিকাদারদের সঙ্গে বিলাসবহুল জীবনযাপন এখন তার নিত্যচিত্র।
সুশীল সমাজের এক সদস্য বলেন, “একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে থেকে এত সম্পদ কিভাবে হলো? দুদক চাইলে এক সপ্তাহেই সব বের করতে পারবে।”
বর্তমান প্রশাসক শাহ আলম দায়িত্ব নেওয়ার পর নগর উন্নয়নে অভিযান ও পরিদর্শন শুরু করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, মাকসুদসহ সিন্ডিকেটের প্রভাবশালী সদস্যরা নতুন প্রশাসককে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি শহরের ফুটপাত ও রাস্তা দখলমুক্ত অভিযান সম্পর্কেও আগাম তথ্য ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।
কুমিল্লার সুশীল সমাজের সদস্যরা মনে করেন, সিটি করপোরেশনের দুর্নীতির মূল উৎস এই সিন্ডিকেট, যার অন্যতম সক্রিয় সদস্য কাজী মাকসুদ। তাদের মতে, শুধু প্রশাসনিক বদল নয়, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সরাসরি তদন্ত ছাড়া নগর ভবনের অনিয়ম বন্ধ হবে না।
একজন নাগরিক বলেন, “মাকসুদের মতো কর্মকর্তারা যদি বছরের পর বছর একই পদে থেকে কোটি টাকার মালিক হতে পারেন, তাহলে সাধারণ কর্মচারী ও জনগণ ন্যায্য সেবা কিভাবে পাবে?