সংবাদ শিরোনাম ::
গুগলে দেখলাম দুর্নীতিতে এক নম্বরে রাজনীতিবিদরা, দুই নম্বরে আমলারা: রুমিন ফারহানা তালাকের নোটিশের পর শ্বশুরবাড়ি-জামাইপক্ষের বিরোধ, গরু ও মালামাল নেওয়ার অভিযোগ ডিএনসিসির সোহেল মিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পবিপ্রবিতে ব্যবসায় প্রশাসন, সিএসই ও মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষকদের সঙ্গে উপাচার্যের মতবিনিময় বিআইডাব্লিউটিএর প্রকল্প পরিচালক আবুল কালামের দূর্নীতি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার কর্মকর্তা মাহফুজের বিরুদ্ধে নারীকে মারধরের অভিযোগ ১৬তম গ্রেডের কর্মচারী, অথচ কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক! শফিকুল ইসলামের সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন চার্জে লাগিয়ে মোবাইল চালাতে গিয়ে বিস্ফোরণ, প্রাণ গেল মিজানের কমলনগরে ক্ষতিগ্রস্ত ৩ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান  আমশিল্প ও ইপিজেড প্রতিষ্ঠায় বিশেষ গুরুত্বের দাবি, প্রস্তাবিত বাজেটকে স্বাগত চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের

ঋণখেলাপি হয়েও স্বপদে মধুমতি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর

মধুমতি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর এনআরবিসি ব্যাংক ও উত্তরা ফাইন্যান্স থেকে নেওয়া বিপুল অঙ্কের ঋণ পরিশোধ করছেন না। ফলে প্রতিষ্ঠান দুটি তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছেও পৌঁছেছে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, ঋণখেলাপি ব্যক্তি ব্যাংকের পরিচালক হতে পারেন না। এমনকি পরিচালক পদে থাকা কেউ ঋণখেলাপি হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাকে অপসারণ করতে পারে। তবে খেলাপি ঋণ নিয়মিত হলে তিনি আবার পরিচালক হতে পারেন। আর ইচ্ছাকৃত খেলাপি হলে ঋণ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর পাঁচ বছর পর্যন্ত পরিচালক হওয়ার সুযোগ থাকে না।
কিন্তু এসব বিধান অমান্য করেই হুমায়ুন কবীর মধুমতি ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে বহাল রয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) তথ্য বলছে, হুমায়ুন কবীরের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নর্দান হেচারি এনআরবিসি ব্যাংক থেকে প্রায় ১১৩ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ কোটি টাকা খেলাপি অবস্থায় আছে। একই প্রতিষ্ঠানের উত্তরা ফাইন্যান্সে ২ কোটি ২৩ লাখ টাকার ঋণও খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এনআরবিসি ব্যাংক গত জুলাইয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৭ ধারায় আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিস পাঠিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও গ্যারান্টার হিসেবে হুমায়ুন কবীরের নামও এতে উল্লেখ আছে।
আইন অনুযায়ী, কোনো পরিচালক ঋণ বা কিস্তি দুই মাসের বেশি সময় ধরে পরিশোধে ব্যর্থ হলে তার পদ শূন্য হয়ে যায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনে নোটিস জারি করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনআরবিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌহিদুল আলম খান বলেন, “প্রতিষ্ঠানটি ঋণখেলাপি। আমরা নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকে নোটিস দিয়েছি।”
সিআইবি তথ্য অনুযায়ী, হুমায়ুন কবীর তার নিজ ব্যাংক মধুমতি থেকেও ঋণ নিয়েছেন। তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ইনসেক্টিসাইড এন্টারপ্রাইজ বাংলাদেশ লিমিটেড-এর ঋণ রয়েছে ৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা। ঋণের মেয়াদ গত বছরের ১৯ নভেম্বর শেষ হলেও মধুমতি ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটিকে এখনো নিয়মিত ঋণ হিসেবে দেখাচ্ছে।
এছাড়া ঢাকা আইসক্রিম লিমিটেড নামের আরেক প্রতিষ্ঠানের ১১৫ কোটি ২৭ লাখ টাকার ঋণের গ্যারান্টারও তিনি।
মধুমতি ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর ব্যাংকটির এক কোটি ৫৫ লাখ ৮ হাজার ৫০০টি শেয়ারের মালিক।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মধুমতি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর বলেন, “আমি নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করছি। আমার কাছে এ ধরনের কোনো নোটিস আসেনি।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “কোনো পরিচালক নিজ ব্যাংক বা অন্য ব্যাংকে যদি খেলাপি হন, আর তা যদি বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে আসে, তখন বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়। প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গুগলে দেখলাম দুর্নীতিতে এক নম্বরে রাজনীতিবিদরা, দুই নম্বরে আমলারা: রুমিন ফারহানা

ঋণখেলাপি হয়েও স্বপদে মধুমতি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর

আপডেট সময় ০১:২১:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মধুমতি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর এনআরবিসি ব্যাংক ও উত্তরা ফাইন্যান্স থেকে নেওয়া বিপুল অঙ্কের ঋণ পরিশোধ করছেন না। ফলে প্রতিষ্ঠান দুটি তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছেও পৌঁছেছে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, ঋণখেলাপি ব্যক্তি ব্যাংকের পরিচালক হতে পারেন না। এমনকি পরিচালক পদে থাকা কেউ ঋণখেলাপি হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাকে অপসারণ করতে পারে। তবে খেলাপি ঋণ নিয়মিত হলে তিনি আবার পরিচালক হতে পারেন। আর ইচ্ছাকৃত খেলাপি হলে ঋণ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর পাঁচ বছর পর্যন্ত পরিচালক হওয়ার সুযোগ থাকে না।
কিন্তু এসব বিধান অমান্য করেই হুমায়ুন কবীর মধুমতি ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে বহাল রয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) তথ্য বলছে, হুমায়ুন কবীরের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নর্দান হেচারি এনআরবিসি ব্যাংক থেকে প্রায় ১১৩ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ কোটি টাকা খেলাপি অবস্থায় আছে। একই প্রতিষ্ঠানের উত্তরা ফাইন্যান্সে ২ কোটি ২৩ লাখ টাকার ঋণও খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এনআরবিসি ব্যাংক গত জুলাইয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৭ ধারায় আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিস পাঠিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও গ্যারান্টার হিসেবে হুমায়ুন কবীরের নামও এতে উল্লেখ আছে।
আইন অনুযায়ী, কোনো পরিচালক ঋণ বা কিস্তি দুই মাসের বেশি সময় ধরে পরিশোধে ব্যর্থ হলে তার পদ শূন্য হয়ে যায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনে নোটিস জারি করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনআরবিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌহিদুল আলম খান বলেন, “প্রতিষ্ঠানটি ঋণখেলাপি। আমরা নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকে নোটিস দিয়েছি।”
সিআইবি তথ্য অনুযায়ী, হুমায়ুন কবীর তার নিজ ব্যাংক মধুমতি থেকেও ঋণ নিয়েছেন। তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ইনসেক্টিসাইড এন্টারপ্রাইজ বাংলাদেশ লিমিটেড-এর ঋণ রয়েছে ৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা। ঋণের মেয়াদ গত বছরের ১৯ নভেম্বর শেষ হলেও মধুমতি ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটিকে এখনো নিয়মিত ঋণ হিসেবে দেখাচ্ছে।
এছাড়া ঢাকা আইসক্রিম লিমিটেড নামের আরেক প্রতিষ্ঠানের ১১৫ কোটি ২৭ লাখ টাকার ঋণের গ্যারান্টারও তিনি।
মধুমতি ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর ব্যাংকটির এক কোটি ৫৫ লাখ ৮ হাজার ৫০০টি শেয়ারের মালিক।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মধুমতি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর বলেন, “আমি নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করছি। আমার কাছে এ ধরনের কোনো নোটিস আসেনি।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “কোনো পরিচালক নিজ ব্যাংক বা অন্য ব্যাংকে যদি খেলাপি হন, আর তা যদি বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরে আসে, তখন বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়। প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”