ঢাকা ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কর ফাঁকির জরিমানায় লাগবে দালিলিক প্রমাণ : এনবিআর যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচে নামিয়ে রেমিট্যান্সে শীর্ষে সৌদি আরব : সংসদে প্রতিমন্ত্রী নুর কোটালীপাড়ায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সেন্টার উদ্বোধন  জনগণের ভোগান্তি নিরসনে লং মার্চে অংশ নিচ্ছে এনসিপি : আখতার হোসেন ‘জি এম তো নাই’ হেসে বললেন স্পিকার, বাতিল হলো প্রশ্ন সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুলের ২৮৪ শতক জমি জব্দ, ৬ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ কুমিল্লা দাউদকান্দিতে ১ লাখ ৪২ হাজার ভারতীয় ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার-১২ আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, মন্ত্রণালয়ের কাছে নথি চায় দুদক শাবনূরকে বিয়ে করা প্রসঙ্গে যা বলেছিলেন সালমান শাহর বাবা মনোহরগঞ্জে ভাতের হোটেল থেকে ইয়াবাসহ ২জন আটক

৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবিতে বিএনপি নেতার হামলায় ভ্যানচালক নিহত

  • যশোর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৮:৩৯:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
  • ৬২৩ বার পড়া হয়েছে

যশোরের মণিরামপুরে পাঁচ হাজার টাকা চাঁদার দাবিতে বিএনপি নেতার হামলায় এক ভ্যানচালক নিহত ও তার পরিবারের চারজন আহত হয়েছেন। মণিরামপুর পৌর বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক সাব্বির হোসেন ওরফে বড় সাব্বিরের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দিনগত মধ্যরাতে ঢাকায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিন্টু হোসেন (৪০) নামের ওই ভ্যানচালকের মৃত্যু হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় মণিরামপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহত মিন্টু উপজেলার হাকোবা গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে। হামলার শিকার মিন্টুর দুই ভাই সেন্টু ও পিকুল যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে সেন্টুর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এ ঘটনায় নিহত মিন্টুর মা আমেনা বেগম বাদী হয়ে মনিরামপুর থানায় মামলা করেছেন। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ফারুক ও ছোট সাব্বির নামের দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে মূলহোতা বিএনপি নেতা বড় সাব্বির পলাতক রয়েছেন।
হামলার শিকার পিকুল হোসেন বলেন, ‘হাকোবা এলাকার বিএনপি নেতা সাব্বির আমার ভাই সেন্টুর চায়ের দোকানে এসে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় আমার ভাইয়ের চোখে আঙুল ঢুকিয়ে দিতে যান। এসময় আমরা এগিয়ে এসে বাধা দিলে সাব্বির চলে যান। পরে দলবল নিয়ে এসে আমাদের তিন ভাইকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেন। হামলাকারী বাকিদের বাড়িও হাকোবা গ্রামে।’

নিহত মিন্টুর বাবা আব্দুল আজিজ ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘দুই বছর আগে আমার মেজো ছেলে সেন্টুর ভ্যান চুরি হয়ে যায়। তখন হাকোবা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ আজিম নতুন ভ্যান কেনার জন্য আমাদের পাঁচ হাজার টাকা সহায়তা দেন। টাকা দেওয়ার সময় আজিম বলেছিন, এই টাকা ফেরত দেওয়া লাগবে না।’

আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আমার চার ছেলে ভ্যানচালক। মেজো বউমা হাকোবা হাইস্কুলের পেছনে চায়ের দোকান চালায়। আজিম কাউন্সিলের দেওয়া সেই টাকা একমাস ধরে আমাদের কাছে দাবি করছে হাকোবা এলাকার সাব্বির নামের এক ব্যক্তি। আমরা বলেছিলাম, আজিমকে সঙ্গে আনলে টাকা দেবো। কিন্তু সাব্বির কাউন্সিলর আজিমকে একদিনও সঙ্গে আনতে পারেনি।’
‘বৃহস্পতিবার বিকেলে ছেলের চায়ের দোকানে এসে সাব্বির মেজো বউমার কাছে ফের টাকা চায়। টাকা না পেয়ে নানা হুমকি-ধমকি দিতে থাকে। এসময় আমরা এগিয়ে এসে বাধা দিলে সাব্বির চলে যায়। পরে ৫-৬ জন সঙ্গী নিয়ে এসে আমার তিন ছেলে ও আমাদের (স্বামী-স্ত্রী) ওপর হামলা করে। আমাদের পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে। খবর পেয়ে পুলিশ আসার পর ওরা পালিয়ে যায়।’

যুবলীগ নেতা ও হাকোবা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ আজিম আত্মগোপনে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

পলাতক থাকায় অভিযুক্ত সাব্বির হোসেনের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, ‘বড় সাব্বির পৌর বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক। ব্যক্তির দায় দল নেবে না। দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করাদের দল আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়নি, দেবেও না। ছাব্বির যা করেছে নিন্দনীয় কাজ। একই পরিবারের পাঁচ সদস্য হাসপাতালে। তার মধ্যে একজন মারা গেছে। আমরা দলীয়ভাবে পরিবারকে চিকিৎসার বিষয়ে সহযোগিতা করছি।’

মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান বলেন, ছোট সাব্বির ও ফারুক নামের দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধান আসামিকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কর ফাঁকির জরিমানায় লাগবে দালিলিক প্রমাণ : এনবিআর

৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবিতে বিএনপি নেতার হামলায় ভ্যানচালক নিহত

আপডেট সময় ০৮:৩৯:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

যশোরের মণিরামপুরে পাঁচ হাজার টাকা চাঁদার দাবিতে বিএনপি নেতার হামলায় এক ভ্যানচালক নিহত ও তার পরিবারের চারজন আহত হয়েছেন। মণিরামপুর পৌর বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক সাব্বির হোসেন ওরফে বড় সাব্বিরের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দিনগত মধ্যরাতে ঢাকায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিন্টু হোসেন (৪০) নামের ওই ভ্যানচালকের মৃত্যু হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় মণিরামপুর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহত মিন্টু উপজেলার হাকোবা গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে। হামলার শিকার মিন্টুর দুই ভাই সেন্টু ও পিকুল যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের মধ্যে সেন্টুর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এ ঘটনায় নিহত মিন্টুর মা আমেনা বেগম বাদী হয়ে মনিরামপুর থানায় মামলা করেছেন। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ফারুক ও ছোট সাব্বির নামের দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে মূলহোতা বিএনপি নেতা বড় সাব্বির পলাতক রয়েছেন।
হামলার শিকার পিকুল হোসেন বলেন, ‘হাকোবা এলাকার বিএনপি নেতা সাব্বির আমার ভাই সেন্টুর চায়ের দোকানে এসে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় আমার ভাইয়ের চোখে আঙুল ঢুকিয়ে দিতে যান। এসময় আমরা এগিয়ে এসে বাধা দিলে সাব্বির চলে যান। পরে দলবল নিয়ে এসে আমাদের তিন ভাইকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেন। হামলাকারী বাকিদের বাড়িও হাকোবা গ্রামে।’

নিহত মিন্টুর বাবা আব্দুল আজিজ ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘দুই বছর আগে আমার মেজো ছেলে সেন্টুর ভ্যান চুরি হয়ে যায়। তখন হাকোবা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ আজিম নতুন ভ্যান কেনার জন্য আমাদের পাঁচ হাজার টাকা সহায়তা দেন। টাকা দেওয়ার সময় আজিম বলেছিন, এই টাকা ফেরত দেওয়া লাগবে না।’

আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আমার চার ছেলে ভ্যানচালক। মেজো বউমা হাকোবা হাইস্কুলের পেছনে চায়ের দোকান চালায়। আজিম কাউন্সিলের দেওয়া সেই টাকা একমাস ধরে আমাদের কাছে দাবি করছে হাকোবা এলাকার সাব্বির নামের এক ব্যক্তি। আমরা বলেছিলাম, আজিমকে সঙ্গে আনলে টাকা দেবো। কিন্তু সাব্বির কাউন্সিলর আজিমকে একদিনও সঙ্গে আনতে পারেনি।’
‘বৃহস্পতিবার বিকেলে ছেলের চায়ের দোকানে এসে সাব্বির মেজো বউমার কাছে ফের টাকা চায়। টাকা না পেয়ে নানা হুমকি-ধমকি দিতে থাকে। এসময় আমরা এগিয়ে এসে বাধা দিলে সাব্বির চলে যায়। পরে ৫-৬ জন সঙ্গী নিয়ে এসে আমার তিন ছেলে ও আমাদের (স্বামী-স্ত্রী) ওপর হামলা করে। আমাদের পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে। খবর পেয়ে পুলিশ আসার পর ওরা পালিয়ে যায়।’

যুবলীগ নেতা ও হাকোবা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ আজিম আত্মগোপনে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

পলাতক থাকায় অভিযুক্ত সাব্বির হোসেনের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, ‘বড় সাব্বির পৌর বিএনপির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক। ব্যক্তির দায় দল নেবে না। দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করাদের দল আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়নি, দেবেও না। ছাব্বির যা করেছে নিন্দনীয় কাজ। একই পরিবারের পাঁচ সদস্য হাসপাতালে। তার মধ্যে একজন মারা গেছে। আমরা দলীয়ভাবে পরিবারকে চিকিৎসার বিষয়ে সহযোগিতা করছি।’

মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান বলেন, ছোট সাব্বির ও ফারুক নামের দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধান আসামিকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’