ঢাকা ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কর ফাঁকির জরিমানায় লাগবে দালিলিক প্রমাণ : এনবিআর যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচে নামিয়ে রেমিট্যান্সে শীর্ষে সৌদি আরব : সংসদে প্রতিমন্ত্রী নুর কোটালীপাড়ায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সেন্টার উদ্বোধন  জনগণের ভোগান্তি নিরসনে লং মার্চে অংশ নিচ্ছে এনসিপি : আখতার হোসেন ‘জি এম তো নাই’ হেসে বললেন স্পিকার, বাতিল হলো প্রশ্ন সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুলের ২৮৪ শতক জমি জব্দ, ৬ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ কুমিল্লা দাউদকান্দিতে ১ লাখ ৪২ হাজার ভারতীয় ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার-১২ আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, মন্ত্রণালয়ের কাছে নথি চায় দুদক শাবনূরকে বিয়ে করা প্রসঙ্গে যা বলেছিলেন সালমান শাহর বাবা মনোহরগঞ্জে ভাতের হোটেল থেকে ইয়াবাসহ ২জন আটক

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে গ্রাম পুলিশের চিঠি

খোলা হয়েছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স। ৪ মাস ১৮ দিন পর মসজিদের ১৩টি দান বাক্স থেকে ৩২ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। এখন চলছে গণনা কার্যক্রম।

তবে প্রতিবার টাকা, স্বর্ণ-রুপার পাশাপাশি আলোচনায় থাকে মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া চিঠি নিয়ে। এসব চিঠিতে লোকজন জীবনের প্রাপ্তি, বিরহ-বেদনা, আয়- উন্নতির ফরিয়াদ, চাকরির প্রত্যাশা, মনের মানুষকে কাছে পাওয়া, পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের আশা, রোগব্যাধী থেকে মুক্তি পেতে আকুতি প্রকাশ করে থাকেন।

তেমনি বেনামে এক চিঠি দিয়েছেন গ্রাম পুলিশ। চিঠিতে লেখা রয়েছে, ‘হে আল্লাহ, মালিক আমি একজন সাধারণ গ্রাম পুলিশ। আমার বেতন মাত্র …. টাকা। আল্লাহ তাও আমার আপনার দরবারে অর্থ সম্পদ টাকা পয়সা কোনো কিছুই চাওয়ার নাই। শুধু আপনার কাছে আমার একটাই দরখাস্ত। মালিক আপনি আমার ছেলেরে প্রতিবন্ধী বানিয়েছেন। মানুষের কোনো গুণাগুন আল্লাহ আপনি তার মধ্যে দেন নাই।’

তিনি চিঠিতে আরও লিখেন, ‘আল্লাহ আমরা আর তার দেওয়া জ্বালা-যন্ত্রণা সহ্য করতে পারছি না। অতি দুঃখের সাথে আপনার দরবারে ফরিয়াদ করছিগো মালিক, …। আমিন।’

অন্য এক চিঠিতে অপর একজন লিখেছেন, ‘ভুল পথে আছি কিনা সঠিক পথে আছি জানি না। তুমি অন্তর্যামী। শুধু এইটুকু চাই যেই মানুষটাকে ৫ বছর ধরে ঠিক একইভাবে ফিল করে আসছি তাকে যদি তুমি আমার কপালে লিখে থাকো তবে খুব শিগগিরই কোনো সম্মানহানি না করে আমার করে দিও। নয়তো ভুলে যাওয়ার শক্তি দিও। আমিন।’ এমন অসংখ্য চিঠি নামে-বেনামে দানবাক্সে পাওয়া যায়।

টাকা গণনায় ৩৪০ জন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, জেলা প্রশাসনের ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৩৩ জন শিক্ষক ও স্টাফ, ৯ জন সেনা সদস্য, ৩০ জন পুলিশ সদস্য, পাঁচজন আনসার ব্যাটালিয়ান, ১০ জন আনসার সদস্য, ১০০ জন ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারী। প্রতিবার তিনমাস পর খেলা হলেও এবার ৪ মাস ১৮ দিন পর খোলা হয়েছে।

দেশি টাকার পাশাপাশি সেখানে ছিল স্বর্ণালংকার ও বিদেশি মুদ্রাও। জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কড়া নিরাপত্তায় দানবাক্স খোলা হয়েছে। এ ছাড়াও সেনা, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা সার্বিক দায়িত্বে রয়েছেন।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কর ফাঁকির জরিমানায় লাগবে দালিলিক প্রমাণ : এনবিআর

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে গ্রাম পুলিশের চিঠি

আপডেট সময় ০৫:৪৩:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

খোলা হয়েছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স। ৪ মাস ১৮ দিন পর মসজিদের ১৩টি দান বাক্স থেকে ৩২ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। এখন চলছে গণনা কার্যক্রম।

তবে প্রতিবার টাকা, স্বর্ণ-রুপার পাশাপাশি আলোচনায় থাকে মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া চিঠি নিয়ে। এসব চিঠিতে লোকজন জীবনের প্রাপ্তি, বিরহ-বেদনা, আয়- উন্নতির ফরিয়াদ, চাকরির প্রত্যাশা, মনের মানুষকে কাছে পাওয়া, পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের আশা, রোগব্যাধী থেকে মুক্তি পেতে আকুতি প্রকাশ করে থাকেন।

তেমনি বেনামে এক চিঠি দিয়েছেন গ্রাম পুলিশ। চিঠিতে লেখা রয়েছে, ‘হে আল্লাহ, মালিক আমি একজন সাধারণ গ্রাম পুলিশ। আমার বেতন মাত্র …. টাকা। আল্লাহ তাও আমার আপনার দরবারে অর্থ সম্পদ টাকা পয়সা কোনো কিছুই চাওয়ার নাই। শুধু আপনার কাছে আমার একটাই দরখাস্ত। মালিক আপনি আমার ছেলেরে প্রতিবন্ধী বানিয়েছেন। মানুষের কোনো গুণাগুন আল্লাহ আপনি তার মধ্যে দেন নাই।’

তিনি চিঠিতে আরও লিখেন, ‘আল্লাহ আমরা আর তার দেওয়া জ্বালা-যন্ত্রণা সহ্য করতে পারছি না। অতি দুঃখের সাথে আপনার দরবারে ফরিয়াদ করছিগো মালিক, …। আমিন।’

অন্য এক চিঠিতে অপর একজন লিখেছেন, ‘ভুল পথে আছি কিনা সঠিক পথে আছি জানি না। তুমি অন্তর্যামী। শুধু এইটুকু চাই যেই মানুষটাকে ৫ বছর ধরে ঠিক একইভাবে ফিল করে আসছি তাকে যদি তুমি আমার কপালে লিখে থাকো তবে খুব শিগগিরই কোনো সম্মানহানি না করে আমার করে দিও। নয়তো ভুলে যাওয়ার শক্তি দিও। আমিন।’ এমন অসংখ্য চিঠি নামে-বেনামে দানবাক্সে পাওয়া যায়।

টাকা গণনায় ৩৪০ জন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, জেলা প্রশাসনের ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৩৩ জন শিক্ষক ও স্টাফ, ৯ জন সেনা সদস্য, ৩০ জন পুলিশ সদস্য, পাঁচজন আনসার ব্যাটালিয়ান, ১০ জন আনসার সদস্য, ১০০ জন ব্যাংকের কর্মকর্তা ও কর্মচারী। প্রতিবার তিনমাস পর খেলা হলেও এবার ৪ মাস ১৮ দিন পর খোলা হয়েছে।

দেশি টাকার পাশাপাশি সেখানে ছিল স্বর্ণালংকার ও বিদেশি মুদ্রাও। জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কড়া নিরাপত্তায় দানবাক্স খোলা হয়েছে। এ ছাড়াও সেনা, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা সার্বিক দায়িত্বে রয়েছেন।