শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন পর আবারও দেখা মিলেছে বন্যহাতি। খাদ্যের সন্ধানে গারো পাহাড় থেকে লোকালয়ে নেমেছে হাতির দল। মানুষের কৌতূহলও বেড়েছে, প্রতিদিনই সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন স্থানে ভিড় জমাচ্ছে উৎসুক জনতা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২৪ আগস্ট) রাত থেকে নলকুড়া ইউনিয়নের সন্ধ্যাকুড়া, হলদীগ্রাম, গুমড়া, রাংটিয়া এবং কাংশা ইউনিয়নের ছোট-বড় গজনী ও তাওয়াকুচা এলাকায় ৪৫ থেকে ৫৫টি হাতির দল অবস্থান করছে।
দিনের বেলা পাহাড়ের বিভিন্ন টিলায় ঘোরাঘুরি করে খাবার খুঁজলেও সন্ধ্যার দিকে তারা লোকালয়ে নেমে আসে। গ্রামবাসী মশাল জ্বালিয়ে ও চিৎকার-হৈহুল্লোড় করে হাতির দল জঙ্গলে ফেরাতে চেষ্টা করছে। তবে এ ধরনের চেষ্টা সব সময় কার্যকর হচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে দেখা গেছে, সন্ধ্যাকুড়া এলাকায় হাতির দল গোলাপ বাগান, আকাশমণি গাছের বাগান এবং বিভিন্ন সবজি ক্ষেতে অবস্থান করছে। এর ফলে ধান ও সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
ময়মনসিংহ বন বিভাগের রাংটিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল করিম জানান, হাতির খাদ্যের জন্য পাহাড়ে সুফল বাগান তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া চলতি মাসে প্রতিটি বিটে দুই হাজার করে কলাগাছ রোপণের কর্মসূচি শুরু হয়েছে, যা বড় হলে হাতির খাবারের সংকট কমবে। বন বিভাগ ও ইআরটি সার্বক্ষণিকভাবে হাতিকে জঙ্গলে ফেরানোর চেষ্টা করছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, ‘মূলত খাদ্যের সন্ধানে হাতি লোকালয়ে এসেছে। সীমান্তে খাদ্যের ব্যবস্থা করলে হয়তো এরা লোকালয়ে আসত না। সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’
শেরপুর প্রতিনিধি 























