ঢাকা ১০:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা বই শিশুদের অনুপ্রাণিত করবে: ডা. জুবাইদা রহমান তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য দলের মতো বিএনপি নেতারা পালিয়ে যাননি : ত্রাণমন্ত্রী মক্কায় কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৪ হাফেজকে জামায়াত আমিরের সংবর্ধনা আজিজ ফয়জুন্নেছা টাওয়ার নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ক্রিকেটারদের মন জয় করতে বড় পদক্ষেপ নিলেন তামিম কর ফাঁকির জরিমানায় লাগবে দালিলিক প্রমাণ : এনবিআর যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচে নামিয়ে রেমিট্যান্সে শীর্ষে সৌদি আরব : সংসদে প্রতিমন্ত্রী নুর কোটালীপাড়ায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সেন্টার উদ্বোধন 
আল-কেমী হাসাপাতালের ডা. তাসলিমা আক্তার

সিজারিয়ান রোগীর পেটে এক ফুট গজ রেখেই সেলাই ৭ মাস পর অপারেশনে অপসারণ

  • ফেনী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৭:৩০:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫
  • ৬৩১ বার পড়া হয়েছে

ফেনীতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ফরিদা ইয়াসমিন (৪০) নামের এক সিজারিয়ান রোগীর পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়া হয়েছে। অপারেশনের সাত মাস পর বুধবার (২৭ আগস্ট) রাতে ফেনীর আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে অপারেশন করে গজটি বের করা হয়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) ফেনী শহরের আল-কেমী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ফেনীর সিভিল সার্জনের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে জানা যায়, জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর গ্রামের প্রবাসী মহিউদ্দিন উদ্দিনের স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিন গত ৩ ফেব্রুয়ারি আল-কেমী হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে সিজারিয়ান অপারেশন করেন ডা. তাসলিমা আক্তার। এসময় রোগীর পেটে গজ রেখে সেলাই দিয়ে বেডে পাঠিয়ে দেন। চারদিন পর রিলিজ দিয়ে বাড়িতে পাঠালে রোগী পেটে ব্যথা অনুভব করেন। এরপর ডা. তাসলিমা আক্তারের কাছে গেলে তিনি ব্যথার ওষুধ দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

তারপরও কমছিল না তাসলিমা আক্তারের। এ কারণে গত সাত মাসে কয়েকজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন তিনি। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার পেটে বস্তুসদৃশ কিছু রয়েছে বলে ধরা পড়ে। ফের অপারেশন করাতে হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বুধবার রাতে ফেনী শহরের আল বারাকা হাসপাতালে সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. আজিজ উল্লাহ ভুক্তভোগী ফরিদা ইয়াসমিনের অপারেশন করেন। এসময় পেট থেকে প্রায় এককেজি ওজনের এক ফুট একটি গজ বের করা হয়।, রোগীর স্বামী মহিউদ্দিন বলেন, ‘স্ত্রীর পেছনে গত সাত মাসে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়েছি। আমি ওই চিকিৎসকের শাস্তি চাই।’

এ ঘটনায় রোগীর ভাই মো. শাহ ফয়সাল বাদী হয়ে ফেনীর সিভিল সার্জন ও ফেনী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে জানতে ডা. তাসলিমা আক্তারের ফোনে কল দেওয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিম জানান, বিষয়টি শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

আল-কেমী হাসাপাতালের ডা. তাসলিমা আক্তার

সিজারিয়ান রোগীর পেটে এক ফুট গজ রেখেই সেলাই ৭ মাস পর অপারেশনে অপসারণ

আপডেট সময় ০৭:৩০:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৫

ফেনীতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ফরিদা ইয়াসমিন (৪০) নামের এক সিজারিয়ান রোগীর পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়া হয়েছে। অপারেশনের সাত মাস পর বুধবার (২৭ আগস্ট) রাতে ফেনীর আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে অপারেশন করে গজটি বের করা হয়। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) ফেনী শহরের আল-কেমী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ফেনীর সিভিল সার্জনের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে জানা যায়, জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর গ্রামের প্রবাসী মহিউদ্দিন উদ্দিনের স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিন গত ৩ ফেব্রুয়ারি আল-কেমী হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে সিজারিয়ান অপারেশন করেন ডা. তাসলিমা আক্তার। এসময় রোগীর পেটে গজ রেখে সেলাই দিয়ে বেডে পাঠিয়ে দেন। চারদিন পর রিলিজ দিয়ে বাড়িতে পাঠালে রোগী পেটে ব্যথা অনুভব করেন। এরপর ডা. তাসলিমা আক্তারের কাছে গেলে তিনি ব্যথার ওষুধ দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

তারপরও কমছিল না তাসলিমা আক্তারের। এ কারণে গত সাত মাসে কয়েকজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন তিনি। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার পেটে বস্তুসদৃশ কিছু রয়েছে বলে ধরা পড়ে। ফের অপারেশন করাতে হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বুধবার রাতে ফেনী শহরের আল বারাকা হাসপাতালে সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. আজিজ উল্লাহ ভুক্তভোগী ফরিদা ইয়াসমিনের অপারেশন করেন। এসময় পেট থেকে প্রায় এককেজি ওজনের এক ফুট একটি গজ বের করা হয়।, রোগীর স্বামী মহিউদ্দিন বলেন, ‘স্ত্রীর পেছনে গত সাত মাসে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়েছি। আমি ওই চিকিৎসকের শাস্তি চাই।’

এ ঘটনায় রোগীর ভাই মো. শাহ ফয়সাল বাদী হয়ে ফেনীর সিভিল সার্জন ও ফেনী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে জানতে ডা. তাসলিমা আক্তারের ফোনে কল দেওয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিম জানান, বিষয়টি শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।