ঢাকা ১১:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা বই শিশুদের অনুপ্রাণিত করবে: ডা. জুবাইদা রহমান তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য দলের মতো বিএনপি নেতারা পালিয়ে যাননি : ত্রাণমন্ত্রী মক্কায় কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৪ হাফেজকে জামায়াত আমিরের সংবর্ধনা আজিজ ফয়জুন্নেছা টাওয়ার নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ক্রিকেটারদের মন জয় করতে বড় পদক্ষেপ নিলেন তামিম কর ফাঁকির জরিমানায় লাগবে দালিলিক প্রমাণ : এনবিআর যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচে নামিয়ে রেমিট্যান্সে শীর্ষে সৌদি আরব : সংসদে প্রতিমন্ত্রী নুর কোটালীপাড়ায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সেন্টার উদ্বোধন 

নামাজের জন্য ডাকা নিয়ে বিরোধ, প্রতিবাদ করায় বিএনপি নেতাকে হত্যা

শরীয়তপুরের জাজিরায় খবির উদ্দিন সরদার (৫৫) নামের এক বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাতে উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়নের উমরদি মাদবরকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত খবির উদ্দিন সরদার উমরউদ্দিন মাদবর কান্দি গ্রামের মৃত ইউনূস সরদারের ছেলে। তিনি বড় কান্দি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরদার বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম ক্বারী মোহাম্মদ আলী পাঁচ ওয়াক্ত আজান শেষে নিয়মিত গ্রামবাসীকে নামাজ আদায়ের জন্য ডাক দেন। ফজরের নামাজের জন্য ডাকাডাকি করায় বিরক্ত হয়ে আপত্তি জানায় আলমাস সরদার। এ নিয়ে আলমাস সরদার ইমামকে হুমকি দিলে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন সরদার জাজিরা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আলমাস সরদার সোমবার সন্ধ্যায় তার সহযোগীদের নিয়ে ইমামের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ায়। এক পর্যায়ে ইমামকে হুমকির প্রতিবাদ করে খবির উদ্দিন সরদার এগিয়ে গেলে তার ওপর ধরালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। হামলার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাকে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত আলমাস সরদারের বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

মসজিদের ইমাম ক্বারী মোহাম্মদ আলী বলেন, মসজিদের মাইকে নামাজের জন্য ডাকাডাকি করা নিয়ে আলমাস সরদার মসজিদ কমিটি, মুসল্লি ও আমার সঙ্গে রাগারাগি করে। পরে এ নিয়ে থানায় অভিযোগ করেন মসজিদের সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন সরদার। গতকাল রাতে ৮ থেকে ১০টি মোটরসাইকেল নিয়ে আলমাস সরদার ও তার সহযোগীরা ছুড়ি নিয়ে মসজিদের সামনে এলে মুরব্বিরা প্রতিবাদ করে এবং তাদের কাছে জানতে চায়, কেন এসেছে। এক পর্যায়ে তর্কাতর্কি হয়, তারা চলে যাওয়ার সময় খবির সরদারকে কুপিয়ে চলে যায়।

বিষয়টি নিয়ে জাজিরা উপজেলা বিএনপির সভাপতি বজলুর রশিদ শিকদার বলেন, মসজিদের মাইকে আজানের পর নামাজের জন্য ডাকাডাকি করায় আলমাস সরদারের ঘুমে ব্যাঘাত হয়। তাই সে মসজিদে এসে হুজুরকে হুমকি দেয়। পরে সবাই প্রতিবাদ জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আলমাস সরদারসহ তার সহযোগীরা হামলা চালিয়ে খবির সরদারকে হত্যা করেছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই ও দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।

জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক কবির আলম বলেন, ওই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। তার বুকের ডানপাশে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। এতে তার ফুসফুসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছিল। এতেই সে মারা যায়।

এ ব্যাপারে জাজিরা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল ইসলাম বলেন, খবির সরদার নামের এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের আটক করতে অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নামাজের জন্য ডাকা নিয়ে বিরোধ, প্রতিবাদ করায় বিএনপি নেতাকে হত্যা

আপডেট সময় ০৭:০৪:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

শরীয়তপুরের জাজিরায় খবির উদ্দিন সরদার (৫৫) নামের এক বিএনপি নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাতে উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়নের উমরদি মাদবরকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত খবির উদ্দিন সরদার উমরউদ্দিন মাদবর কান্দি গ্রামের মৃত ইউনূস সরদারের ছেলে। তিনি বড় কান্দি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরদার বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম ক্বারী মোহাম্মদ আলী পাঁচ ওয়াক্ত আজান শেষে নিয়মিত গ্রামবাসীকে নামাজ আদায়ের জন্য ডাক দেন। ফজরের নামাজের জন্য ডাকাডাকি করায় বিরক্ত হয়ে আপত্তি জানায় আলমাস সরদার। এ নিয়ে আলমাস সরদার ইমামকে হুমকি দিলে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন সরদার জাজিরা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আলমাস সরদার সোমবার সন্ধ্যায় তার সহযোগীদের নিয়ে ইমামের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ায়। এক পর্যায়ে ইমামকে হুমকির প্রতিবাদ করে খবির উদ্দিন সরদার এগিয়ে গেলে তার ওপর ধরালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। হামলার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাকে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত আলমাস সরদারের বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

মসজিদের ইমাম ক্বারী মোহাম্মদ আলী বলেন, মসজিদের মাইকে নামাজের জন্য ডাকাডাকি করা নিয়ে আলমাস সরদার মসজিদ কমিটি, মুসল্লি ও আমার সঙ্গে রাগারাগি করে। পরে এ নিয়ে থানায় অভিযোগ করেন মসজিদের সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন সরদার। গতকাল রাতে ৮ থেকে ১০টি মোটরসাইকেল নিয়ে আলমাস সরদার ও তার সহযোগীরা ছুড়ি নিয়ে মসজিদের সামনে এলে মুরব্বিরা প্রতিবাদ করে এবং তাদের কাছে জানতে চায়, কেন এসেছে। এক পর্যায়ে তর্কাতর্কি হয়, তারা চলে যাওয়ার সময় খবির সরদারকে কুপিয়ে চলে যায়।

বিষয়টি নিয়ে জাজিরা উপজেলা বিএনপির সভাপতি বজলুর রশিদ শিকদার বলেন, মসজিদের মাইকে আজানের পর নামাজের জন্য ডাকাডাকি করায় আলমাস সরদারের ঘুমে ব্যাঘাত হয়। তাই সে মসজিদে এসে হুজুরকে হুমকি দেয়। পরে সবাই প্রতিবাদ জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আলমাস সরদারসহ তার সহযোগীরা হামলা চালিয়ে খবির সরদারকে হত্যা করেছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই ও দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।

জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক কবির আলম বলেন, ওই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। তার বুকের ডানপাশে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। এতে তার ফুসফুসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছিল। এতেই সে মারা যায়।

এ ব্যাপারে জাজিরা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুল ইসলাম বলেন, খবির সরদার নামের এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের আটক করতে অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ।