ঢাকা ০১:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা বই শিশুদের অনুপ্রাণিত করবে: ডা. জুবাইদা রহমান তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য দলের মতো বিএনপি নেতারা পালিয়ে যাননি : ত্রাণমন্ত্রী মক্কায় কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৪ হাফেজকে জামায়াত আমিরের সংবর্ধনা আজিজ ফয়জুন্নেছা টাওয়ার নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ক্রিকেটারদের মন জয় করতে বড় পদক্ষেপ নিলেন তামিম কর ফাঁকির জরিমানায় লাগবে দালিলিক প্রমাণ : এনবিআর যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচে নামিয়ে রেমিট্যান্সে শীর্ষে সৌদি আরব : সংসদে প্রতিমন্ত্রী নুর কোটালীপাড়ায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সেন্টার উদ্বোধন 

মানিকগঞ্জে ৮ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫৪৯ জন

মানিকগঞ্জে দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ৫৪৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৪০৯ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৪০ জন। ইতোমধ্যেই ৯৩ শতাংশেরও বেশি রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে মানিকগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮ জন এবং বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন ৫ জন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৩৬ জন রোগী ভর্তি আছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৫১৩ জন রোগী সুস্থ হয়েছেন। এ পর্যন্ত জেলায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে এ হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৩ জন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১৬৮ জন ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১৫৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

ঘিওরে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত উপজেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪৮ জন। এর মধ্যে ৪৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১ জন।
সাটুরিয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। চলতি বছরে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৫০ জন। এর মধ্যে ৪৪ জন সুস্থ হয়ে গেছেন, এখনও চিকিৎসাধীন আছেন ৬ জন।

মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হয়েছেন ৪ জন রোগী। এ নিয়ে হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি আছেন ৯ জন। চলতি বছর জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত এখানে মোট ১৪৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৩৪ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়েছেন।

মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ হাসপাতালে এ পর্যন্ত মোট ১৪০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১৩৩ জন সুস্থ হয়েছেন এবং বর্তমানে ৭ জন চিকিৎসাধীন আছেন।

সিংগাইর, হরিরামপুর, শিবালয় ও দৌলতপুরে কোনো ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়নি।

বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ মানিকগঞ্জের সমন্বয়কারী বিমল রায় বলেন, মানিকগঞ্জে ডেঙ্গুর বিস্তার বাড়লেও মৃত্যুহার এখনও শূন্য। তবে সামনের দিনগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির আশঙ্কাও রয়েছে। এ জন্য জেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সরকারি ও বেসরকারিভাবে সচেতনতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. খুরশীদ আলম বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত চিকিৎসা প্রদানের কারণে রোগীরা দ্রুত সুস্থ হচ্ছেন। তবে জনগণকে সচেতন না হলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এ ছাড়া তিনি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা, বাড়ির আঙিনায় জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশারি ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

মানিকগঞ্জে ৮ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫৪৯ জন

আপডেট সময় ০১:৫৮:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫

মানিকগঞ্জে দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ৫৪৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৪০৯ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৪০ জন। ইতোমধ্যেই ৯৩ শতাংশেরও বেশি রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে মানিকগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮ জন এবং বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন ৫ জন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ৩৬ জন রোগী ভর্তি আছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ নিয়ে চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৫১৩ জন রোগী সুস্থ হয়েছেন। এ পর্যন্ত জেলায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় ২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে এ হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৩ জন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১৬৮ জন ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১৫৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

ঘিওরে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত উপজেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪৮ জন। এর মধ্যে ৪৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১ জন।
সাটুরিয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। চলতি বছরে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৫০ জন। এর মধ্যে ৪৪ জন সুস্থ হয়ে গেছেন, এখনও চিকিৎসাধীন আছেন ৬ জন।

মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হয়েছেন ৪ জন রোগী। এ নিয়ে হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি আছেন ৯ জন। চলতি বছর জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত এখানে মোট ১৪৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৩৪ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়েছেন।

মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ হাসপাতালে এ পর্যন্ত মোট ১৪০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১৩৩ জন সুস্থ হয়েছেন এবং বর্তমানে ৭ জন চিকিৎসাধীন আছেন।

সিংগাইর, হরিরামপুর, শিবালয় ও দৌলতপুরে কোনো ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়নি।

বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ মানিকগঞ্জের সমন্বয়কারী বিমল রায় বলেন, মানিকগঞ্জে ডেঙ্গুর বিস্তার বাড়লেও মৃত্যুহার এখনও শূন্য। তবে সামনের দিনগুলোতে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির আশঙ্কাও রয়েছে। এ জন্য জেলার সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সরকারি ও বেসরকারিভাবে সচেতনতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. খুরশীদ আলম বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত চিকিৎসা প্রদানের কারণে রোগীরা দ্রুত সুস্থ হচ্ছেন। তবে জনগণকে সচেতন না হলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এ ছাড়া তিনি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা, বাড়ির আঙিনায় জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশারি ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন।