শনিবার (২৩ আগস্ট) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত কেরানীগঞ্জ মডেল থানা ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার দুটি ভিন্ন এলাকায় এসব লাশ ভেসে ওঠে। পুলিশ সূত্র জানায়, রাত ৮টার দিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অন্তর্গত মাদারীপুর ঘাট এলাকায় নদীতে ভাসমান অবস্থায় এক যুবক (৩৫) ও এক যুবতীর (২৫) লাশ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ দুটিকে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
অন্যদিকে বিকেল ও সন্ধ্যার মধ্যে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার মীরেরবাগ অংশে আরও দুটি লাশ ভেসে ওঠে। এদের একজন আনুমানিক ৩৫ বছরের নারী এবং অপরজন মাত্র ৫ বছরের শিশু।
সদরঘাট নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহাগ রানা জানান, লাশগুলোর পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। এ ঘটনায় একটি মামলা করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল হক ডাবলু বলেন, কেরানীগঞ্জ মডেল থানা এলাকায় দুজন এবং দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা এলাকায় আরও দুজনসহ মোট চারটি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার হয়েছে। নৌপুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি সৈয়দ মোহাম্মদ আক্তার হোসেন জানান, লাশগুলোতে সুস্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন আছে কি না, তা ময়নাতদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে। প্রতিটি লাশের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, লাশগুলো একই সঙ্গে বা কাছাকাছি সময়ে নদীতে পড়তে পারে। এটি হত্যা নাকি দুর্ঘটনা- তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য পৃথকভাবে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং নৌপুলিশের নেতৃত্বে তদন্ত চলছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, একদিনে নারী, শিশু ও যুবক-যুবতীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় নদীপথে চলাচলকারী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা বুড়িগঙ্গায় পুলিশ টহল ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি 























