ঢাকা ১০:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা বই শিশুদের অনুপ্রাণিত করবে: ডা. জুবাইদা রহমান তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য দলের মতো বিএনপি নেতারা পালিয়ে যাননি : ত্রাণমন্ত্রী মক্কায় কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৪ হাফেজকে জামায়াত আমিরের সংবর্ধনা আজিজ ফয়জুন্নেছা টাওয়ার নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ক্রিকেটারদের মন জয় করতে বড় পদক্ষেপ নিলেন তামিম কর ফাঁকির জরিমানায় লাগবে দালিলিক প্রমাণ : এনবিআর যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচে নামিয়ে রেমিট্যান্সে শীর্ষে সৌদি আরব : সংসদে প্রতিমন্ত্রী নুর কোটালীপাড়ায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সেন্টার উদ্বোধন 

ছদ্মবেশে ছিনতাইচেষ্টা, হাতেনাতে আটক ৩ নারী

নাটোরের বড়াইগ্রামে হিন্দু নারীর বেশ ধরে কীর্তন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে তিন নারীকে হাতেনাতে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে তাদের বড়াইগ্রাম থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

শনিবার (২৩ আগস্ট) রাতে উপজেলার পৌর এলাকার লক্ষীকোল কালী মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।

আটক নারীরা সবাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাসিন্দা। তারা হলেন- নাসিরনগর থানার ধরমন্ডল গ্রামের কাজল মিয়ার স্ত্রী লিপি আক্তার (৩০), দুলাল মিয়ার স্ত্রী শামসুন্নাহার (২৮) এবং হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী রোজিনা বেগম (২৬)। ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তারা শাঁখা-সিঁদুর পরে হিন্দু নারীর ছদ্মবেশে মন্দিরে প্রবেশ করেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, দিনাজপুরের বাসিন্দা চায়না রানী (৫৫) তার মেয়ে জামাই মন্টু কুমার কুন্ডুকে (৩৫) নিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে ওই দিন সন্ধ্যায় লক্ষীকোল কালী মন্দিরে অনুষ্ঠিত লীলাকীর্তন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠান চলাকালে শাঁখা-সিঁদুর পরা তিন নারী তাদের পাশেই বসেন এবং ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন।

এক পর্যায়ে কীর্তনের আবেগঘন পরিবেশে দুই নারী আলিঙ্গনের ভান করে চায়না রানী ও মন্টু কুন্ডুর গলা থেকে স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। মুহূর্তেই বিষয়টি টের পেয়ে মন্টু কুন্ডু একজনকে ধরে ফেলেন। পরে উপস্থিত জনতার সহায়তায় আরও দু’জনকে চিহ্নিত করে আটক করা হয়।

ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করে এবং আটক নারীদের বড়াইগ্রাম থানায় হস্তান্তর করা হয়।

বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারওয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালবেলাকে বলেন, আটক নারীরা জিজ্ঞাসাবাদে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, সম্প্রতি বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব ও জনসমাগমে নারী ছিনতাইকারীদের সক্রিয়তা বেড়েছে। তারা ছদ্মবেশ নিয়ে নানা কৌশলে সাধারণ মানুষের মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নিচ্ছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এলাকাবাসী।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

ছদ্মবেশে ছিনতাইচেষ্টা, হাতেনাতে আটক ৩ নারী

আপডেট সময় ০৪:১৪:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫

নাটোরের বড়াইগ্রামে হিন্দু নারীর বেশ ধরে কীর্তন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে তিন নারীকে হাতেনাতে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে তাদের বড়াইগ্রাম থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

শনিবার (২৩ আগস্ট) রাতে উপজেলার পৌর এলাকার লক্ষীকোল কালী মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।

আটক নারীরা সবাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাসিন্দা। তারা হলেন- নাসিরনগর থানার ধরমন্ডল গ্রামের কাজল মিয়ার স্ত্রী লিপি আক্তার (৩০), দুলাল মিয়ার স্ত্রী শামসুন্নাহার (২৮) এবং হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী রোজিনা বেগম (২৬)। ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তারা শাঁখা-সিঁদুর পরে হিন্দু নারীর ছদ্মবেশে মন্দিরে প্রবেশ করেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, দিনাজপুরের বাসিন্দা চায়না রানী (৫৫) তার মেয়ে জামাই মন্টু কুমার কুন্ডুকে (৩৫) নিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে ওই দিন সন্ধ্যায় লক্ষীকোল কালী মন্দিরে অনুষ্ঠিত লীলাকীর্তন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠান চলাকালে শাঁখা-সিঁদুর পরা তিন নারী তাদের পাশেই বসেন এবং ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন।

এক পর্যায়ে কীর্তনের আবেগঘন পরিবেশে দুই নারী আলিঙ্গনের ভান করে চায়না রানী ও মন্টু কুন্ডুর গলা থেকে স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। মুহূর্তেই বিষয়টি টের পেয়ে মন্টু কুন্ডু একজনকে ধরে ফেলেন। পরে উপস্থিত জনতার সহায়তায় আরও দু’জনকে চিহ্নিত করে আটক করা হয়।

ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করে এবং আটক নারীদের বড়াইগ্রাম থানায় হস্তান্তর করা হয়।

বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারওয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালবেলাকে বলেন, আটক নারীরা জিজ্ঞাসাবাদে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, সম্প্রতি বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব ও জনসমাগমে নারী ছিনতাইকারীদের সক্রিয়তা বেড়েছে। তারা ছদ্মবেশ নিয়ে নানা কৌশলে সাধারণ মানুষের মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নিচ্ছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এলাকাবাসী।