ঢাকা ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা বই শিশুদের অনুপ্রাণিত করবে: ডা. জুবাইদা রহমান তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য দলের মতো বিএনপি নেতারা পালিয়ে যাননি : ত্রাণমন্ত্রী মক্কায় কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৪ হাফেজকে জামায়াত আমিরের সংবর্ধনা আজিজ ফয়জুন্নেছা টাওয়ার নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ক্রিকেটারদের মন জয় করতে বড় পদক্ষেপ নিলেন তামিম কর ফাঁকির জরিমানায় লাগবে দালিলিক প্রমাণ : এনবিআর যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচে নামিয়ে রেমিট্যান্সে শীর্ষে সৌদি আরব : সংসদে প্রতিমন্ত্রী নুর কোটালীপাড়ায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সেন্টার উদ্বোধন 

চুয়াডাঙ্গায় পাট কাটা শুরু, ফলন কমেও দামে আশার আলো

চলতি মৌসুমে চুয়াডাঙ্গার কৃষকেরা মাঠে নেমেছেন পাট কাটার কাজে। তবে অতিবৃষ্টির কারণে কাঙ্ক্ষিত ফলন না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছেন চাষিরা। যদিও বাজারে পাটের দাম বেশি থাকায় আশার আলো দেখছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর জেলায় ৮ হাজার ৯৯৫ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ২৩৫ হেক্টর বেশি। তবে কাটার আগমুহূর্তে টানা বৃষ্টিতে পাট হেলে পড়ায় ফলন কিছুটা কম হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতি বিঘায় উৎপাদন খরচ দাঁড়ায় ১৫-২০ হাজার টাকা। সাধারণত বিঘায় ৮-১২ মণ পাট পাওয়া যায়। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৪ হাজার টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ৫০০ টাকা বেশি। এ ছাড়া পাটকাঠির দামও বেড়েছে।

চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা নদী, দামুড়হুদার রাইসার বিল, পদ্ম বিল, দলকালক্ষ্মীপুরের বিল, আলমডাঙ্গার তাসসারের বিল, জীবননগরের ভৈরব নদসহ বিভিন্ন খাল-বিলের পাশে এখন পাট শুকাচ্ছেন চাষিরা। এ ছাড়া রাস্তার দু’পাশে বাঁশের আড়ায় ঝুলছে পাটকাঠি। কোথাও আটি বেঁধে শুকাতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষকেরা। পর্যাপ্ত বৃষ্টির কারণে ডোবা-পুকুর ও খাল-বিলে জাগ দেওয়া পাটের রং ভালো হওয়ার পাশাপাশি পাটকাঠির মানও উন্নত হয়েছে।

বেলগাছি গ্রামের কৃষক হাসমত আলী বলেন, ‘পাটের দাম ভালো হলেও ফলন কম হওয়ায় খরচ পোষাতে কষ্ট হচ্ছে। কৃষি উপকরণের দামও বেশি হওয়ায় দুশ্চিন্তা বেড়েছে।’
চুয়াডাঙ্গায় পাট কাটা শুরু, ফলন কমেও দামে আশার আলো, আসাদুল হক নামের আরেক চাষি বলেন, ‘এক বিঘায় প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু ফলন আগের মতো হচ্ছে না। দাম বেশি হলেও লোকসান কাটানো কঠিন।’

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার আবাদ বেশি হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় অর্ধেক পাট কাটা শেষ হয়েছে। জাগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি আছে। দাম ভালো থাকায় কৃষকেরা লাভবান হবেন। পাট চাষ বাড়াতে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

চুয়াডাঙ্গায় পাট কাটা শুরু, ফলন কমেও দামে আশার আলো

আপডেট সময় ১২:৩৫:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫

চলতি মৌসুমে চুয়াডাঙ্গার কৃষকেরা মাঠে নেমেছেন পাট কাটার কাজে। তবে অতিবৃষ্টির কারণে কাঙ্ক্ষিত ফলন না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছেন চাষিরা। যদিও বাজারে পাটের দাম বেশি থাকায় আশার আলো দেখছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর জেলায় ৮ হাজার ৯৯৫ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ২৩৫ হেক্টর বেশি। তবে কাটার আগমুহূর্তে টানা বৃষ্টিতে পাট হেলে পড়ায় ফলন কিছুটা কম হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতি বিঘায় উৎপাদন খরচ দাঁড়ায় ১৫-২০ হাজার টাকা। সাধারণত বিঘায় ৮-১২ মণ পাট পাওয়া যায়। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৪ হাজার টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ৫০০ টাকা বেশি। এ ছাড়া পাটকাঠির দামও বেড়েছে।

চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা নদী, দামুড়হুদার রাইসার বিল, পদ্ম বিল, দলকালক্ষ্মীপুরের বিল, আলমডাঙ্গার তাসসারের বিল, জীবননগরের ভৈরব নদসহ বিভিন্ন খাল-বিলের পাশে এখন পাট শুকাচ্ছেন চাষিরা। এ ছাড়া রাস্তার দু’পাশে বাঁশের আড়ায় ঝুলছে পাটকাঠি। কোথাও আটি বেঁধে শুকাতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষকেরা। পর্যাপ্ত বৃষ্টির কারণে ডোবা-পুকুর ও খাল-বিলে জাগ দেওয়া পাটের রং ভালো হওয়ার পাশাপাশি পাটকাঠির মানও উন্নত হয়েছে।

বেলগাছি গ্রামের কৃষক হাসমত আলী বলেন, ‘পাটের দাম ভালো হলেও ফলন কম হওয়ায় খরচ পোষাতে কষ্ট হচ্ছে। কৃষি উপকরণের দামও বেশি হওয়ায় দুশ্চিন্তা বেড়েছে।’
চুয়াডাঙ্গায় পাট কাটা শুরু, ফলন কমেও দামে আশার আলো, আসাদুল হক নামের আরেক চাষি বলেন, ‘এক বিঘায় প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু ফলন আগের মতো হচ্ছে না। দাম বেশি হলেও লোকসান কাটানো কঠিন।’

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার আবাদ বেশি হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় অর্ধেক পাট কাটা শেষ হয়েছে। জাগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি আছে। দাম ভালো থাকায় কৃষকেরা লাভবান হবেন। পাট চাষ বাড়াতে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’