ঢাকা ০৩:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা বই শিশুদের অনুপ্রাণিত করবে: ডা. জুবাইদা রহমান তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য দলের মতো বিএনপি নেতারা পালিয়ে যাননি : ত্রাণমন্ত্রী মক্কায় কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৪ হাফেজকে জামায়াত আমিরের সংবর্ধনা আজিজ ফয়জুন্নেছা টাওয়ার নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ক্রিকেটারদের মন জয় করতে বড় পদক্ষেপ নিলেন তামিম কর ফাঁকির জরিমানায় লাগবে দালিলিক প্রমাণ : এনবিআর যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচে নামিয়ে রেমিট্যান্সে শীর্ষে সৌদি আরব : সংসদে প্রতিমন্ত্রী নুর কোটালীপাড়ায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সেন্টার উদ্বোধন 

মেডিকেলে ‘আনফিট’ রিপোর্টে ভেঙে গেলে নবদম্পতির সংসার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় বিয়ের তিন মাস না যেতেই ভেঙে গেল নবদম্পতির সংসার। পরে নববধূর পরিবারের পক্ষ থেকে অপহরণের মামলা দিয়ে যুবককে কারাগারে পাঠিয়েছেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

সজীবের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুন কসবা উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের সৈয়দাবাদ গ্রামের সিদ্দিক মিয়ার ছেলে সজীব মিয়ার সঙ্গে খাড়েরা ইউনিয়নের দেলীগ্রামের প্রবাসী আবু বকর সিদ্দিকের মেয়ে মোছাম্মৎ মাওয়ার বিয়ে হয়। দেনমোহর ধার্য করা হয় তিন লাখ টাকা। বিয়ের সময় কনের পরিবার জানায়, মাওয়ার ভাই মহিউদ্দিন সৌদি আরব পাঠাবেন সজীবকে। এ আশ্বাসে সজীবের পরিবার কনের পরিবারকে তিন লাখ টাকা দেয়।

আরও জানা গেছে, বিয়ের মাত্র দুই মাস পর সৌদি ভিসার জন্য ঢাকায় মেডিকেল টেস্টে অংশ নেন সজীব। রিপোর্টে ধরা পড়ে তিনি হেপাটাইটিসে আক্রান্ত। ফলস্বরূপ তাকে ভিসার জন্য ‘আনফিট’ ঘোষণা করা হয়।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মাওয়ার পরিবার জানায়, তারা আর সজীবের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে না। কিছুদিন পর মাওয়া বাবার বাড়িতে চলে যান। রোববার (২১ আগস্ট) মাওয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে সজীবের বিরুদ্ধে ‘অপহরণ’-এর অভিযোগ এনে কসবা থানায় মামলা করা হয়। মামলার ভিত্তিতে পুলিশ সজীবকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।

সজীবের মা তাছলিমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সৌদি নেওয়ার নামে প্রতারণা করে আমাদের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নিয়েছে মেয়ের পরিবার। মেডিকেলে আনফিট হওয়ার পর ষড়যন্ত্র করে আমার ছেলেকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে। আমার ছেলে মাওয়াকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেছে, আড়াই মাস সংসারও করেছে। তারপরও কীভাবে ওরা অপহরণের মামলা দেয়? এতে সংসার ভেঙে গেল, আবার নির্দোষ ছেলেকে কারাগারে পাঠানো হলো। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

কসবা থানার ওসি মো. আব্দুল কাদের বলেন, কনের পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে এবং অভিযুক্ত সজীবকে থানায় নিয়ে আসা হয়। প্রাথমিক তদন্ত শেষে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এখন মামলার নথি ও প্রমাণ যাচাই-বাছাই চলছে। আদালতে যা উপস্থাপিত হবে তার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

মেডিকেলে ‘আনফিট’ রিপোর্টে ভেঙে গেলে নবদম্পতির সংসার

আপডেট সময় ১১:৫১:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় বিয়ের তিন মাস না যেতেই ভেঙে গেল নবদম্পতির সংসার। পরে নববধূর পরিবারের পক্ষ থেকে অপহরণের মামলা দিয়ে যুবককে কারাগারে পাঠিয়েছেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন।

সজীবের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জুন কসবা উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের সৈয়দাবাদ গ্রামের সিদ্দিক মিয়ার ছেলে সজীব মিয়ার সঙ্গে খাড়েরা ইউনিয়নের দেলীগ্রামের প্রবাসী আবু বকর সিদ্দিকের মেয়ে মোছাম্মৎ মাওয়ার বিয়ে হয়। দেনমোহর ধার্য করা হয় তিন লাখ টাকা। বিয়ের সময় কনের পরিবার জানায়, মাওয়ার ভাই মহিউদ্দিন সৌদি আরব পাঠাবেন সজীবকে। এ আশ্বাসে সজীবের পরিবার কনের পরিবারকে তিন লাখ টাকা দেয়।

আরও জানা গেছে, বিয়ের মাত্র দুই মাস পর সৌদি ভিসার জন্য ঢাকায় মেডিকেল টেস্টে অংশ নেন সজীব। রিপোর্টে ধরা পড়ে তিনি হেপাটাইটিসে আক্রান্ত। ফলস্বরূপ তাকে ভিসার জন্য ‘আনফিট’ ঘোষণা করা হয়।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মাওয়ার পরিবার জানায়, তারা আর সজীবের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে না। কিছুদিন পর মাওয়া বাবার বাড়িতে চলে যান। রোববার (২১ আগস্ট) মাওয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে সজীবের বিরুদ্ধে ‘অপহরণ’-এর অভিযোগ এনে কসবা থানায় মামলা করা হয়। মামলার ভিত্তিতে পুলিশ সজীবকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।

সজীবের মা তাছলিমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সৌদি নেওয়ার নামে প্রতারণা করে আমাদের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নিয়েছে মেয়ের পরিবার। মেডিকেলে আনফিট হওয়ার পর ষড়যন্ত্র করে আমার ছেলেকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে। আমার ছেলে মাওয়াকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেছে, আড়াই মাস সংসারও করেছে। তারপরও কীভাবে ওরা অপহরণের মামলা দেয়? এতে সংসার ভেঙে গেল, আবার নির্দোষ ছেলেকে কারাগারে পাঠানো হলো। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

কসবা থানার ওসি মো. আব্দুল কাদের বলেন, কনের পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে এবং অভিযুক্ত সজীবকে থানায় নিয়ে আসা হয়। প্রাথমিক তদন্ত শেষে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এখন মামলার নথি ও প্রমাণ যাচাই-বাছাই চলছে। আদালতে যা উপস্থাপিত হবে তার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।