ঢাকা ০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা বই শিশুদের অনুপ্রাণিত করবে: ডা. জুবাইদা রহমান তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য দলের মতো বিএনপি নেতারা পালিয়ে যাননি : ত্রাণমন্ত্রী মক্কায় কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৪ হাফেজকে জামায়াত আমিরের সংবর্ধনা আজিজ ফয়জুন্নেছা টাওয়ার নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ক্রিকেটারদের মন জয় করতে বড় পদক্ষেপ নিলেন তামিম কর ফাঁকির জরিমানায় লাগবে দালিলিক প্রমাণ : এনবিআর যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচে নামিয়ে রেমিট্যান্সে শীর্ষে সৌদি আরব : সংসদে প্রতিমন্ত্রী নুর কোটালীপাড়ায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সেন্টার উদ্বোধন 

ঢাকঢোল পিটিয়ে বেদখলে থাকা জমি উদ্ধার

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় আদালতের আদেশে এক যুগ ধরে বেদখলে থাকা এক ব্যক্তির ৮ শতক জমি উদ্ধার হয়েছে। পুরো সময়জুড়ে পুলিশ ও আদালতের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। বুধবার (২০ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়নের বনগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ঢাকঢোল পিটিয়ে জমি প্রকৃত মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আদালতের পক্ষে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরিমাপ করে উদ্ধার করা জমিতে লাল নিশানা গেড়ে দেওয়া হয়। ওই জমিতে দখলদাররা পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছিল। সেগুলো আদালতের পক্ষ থেকে আনা ১০ জন শ্রমিক দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় ঢাকঢোলের শব্দে উৎসুক জনতা ভিড় করতে দেখা যায়। ভাঙার পূর্বে ওই স্থাপনায় থাকা ভাড়াটিয়া পরিবারগুলোকে মালামাল নিয়ে যেতে দেখা গেছে। সকাল ১১টা থেকে বিকাল পর্যন্ত চলে স্থাপনা ভেঙে জমি উদ্ধার কাজ।
ঢাকঢোল পিটিয়ে বেদখলে থাকা জমি উদ্ধার

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাউজান উপজেলার দেওয়ানপুর গশ্চি গ্রামের মৃত দুলা মিয়ার ছেলে মো. নুরুল আলমের সঙ্গে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা খোন্দাকার পাড়ার কবির আহাম্মদের স্ত্রী মোছা. হালিমা খাতুনের জায়গাসংক্রান্ত বিরোধ সৃষ্টি হয়। নুরুল আলম জায়গাটি ২০০৯ সালে খরিদ করেন। এরপর ২০১৩ সাল পর্যন্ত দখলে ছিল। কিন্তু এটি বেদখল হয়ে গেলে ২০১৪ সালে তৃতীয় যুগ্ম জজ আদালতে মামলা করেন তিনি। সেটি রাঙ্গুনিয়া আদালতে স্থানান্তরিত হলে সেখানে দীর্ঘ সময় মামলা পরিচালনা করে রায় পান নুরুল আলম। পরে প্রতিপক্ষ হালিমা বেগম গিয়ে একটি মিস মামলা করলে সেখানেও পক্ষে রায় পান তিনি। তারা আবার গিয়ে জেলা জজের কাছে আবেদন করেন। কিন্তু সেখানেও তাদের মামলা নামঞ্জুর হয়ে যায়। এরপর সেই রায়ের অনুকূলে পূর্বের দাখিল করা মামলার যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আদালত জায়গাটি নুরুল আলমকে দখল বুঝিয়ে দেন।

জানতে চাইলে ভুক্তভোগী নুরুল আলম কালবেলাকে বলেন, ‘দীর্ঘ সময় পর আইনের সহায়তায় আমি ও আমার পরিবার জায়গা বুঝে পেলাম। এভাবে জমি পাওয়ায় আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা আরও বেড়ে গেছে।’

এ বিষয়ে আদালতের নাজির শাহ আলম কালবেলাকে বলেন, ‘আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকঢোল পিটিয়ে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সময় কোনো ধরনের ঝামেলা হয়নি।’

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

ঢাকঢোল পিটিয়ে বেদখলে থাকা জমি উদ্ধার

আপডেট সময় ০৯:৫৯:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় আদালতের আদেশে এক যুগ ধরে বেদখলে থাকা এক ব্যক্তির ৮ শতক জমি উদ্ধার হয়েছে। পুরো সময়জুড়ে পুলিশ ও আদালতের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। বুধবার (২০ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়নের বনগ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ঢাকঢোল পিটিয়ে জমি প্রকৃত মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আদালতের পক্ষে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরিমাপ করে উদ্ধার করা জমিতে লাল নিশানা গেড়ে দেওয়া হয়। ওই জমিতে দখলদাররা পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছিল। সেগুলো আদালতের পক্ষ থেকে আনা ১০ জন শ্রমিক দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় ঢাকঢোলের শব্দে উৎসুক জনতা ভিড় করতে দেখা যায়। ভাঙার পূর্বে ওই স্থাপনায় থাকা ভাড়াটিয়া পরিবারগুলোকে মালামাল নিয়ে যেতে দেখা গেছে। সকাল ১১টা থেকে বিকাল পর্যন্ত চলে স্থাপনা ভেঙে জমি উদ্ধার কাজ।
ঢাকঢোল পিটিয়ে বেদখলে থাকা জমি উদ্ধার

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাউজান উপজেলার দেওয়ানপুর গশ্চি গ্রামের মৃত দুলা মিয়ার ছেলে মো. নুরুল আলমের সঙ্গে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা খোন্দাকার পাড়ার কবির আহাম্মদের স্ত্রী মোছা. হালিমা খাতুনের জায়গাসংক্রান্ত বিরোধ সৃষ্টি হয়। নুরুল আলম জায়গাটি ২০০৯ সালে খরিদ করেন। এরপর ২০১৩ সাল পর্যন্ত দখলে ছিল। কিন্তু এটি বেদখল হয়ে গেলে ২০১৪ সালে তৃতীয় যুগ্ম জজ আদালতে মামলা করেন তিনি। সেটি রাঙ্গুনিয়া আদালতে স্থানান্তরিত হলে সেখানে দীর্ঘ সময় মামলা পরিচালনা করে রায় পান নুরুল আলম। পরে প্রতিপক্ষ হালিমা বেগম গিয়ে একটি মিস মামলা করলে সেখানেও পক্ষে রায় পান তিনি। তারা আবার গিয়ে জেলা জজের কাছে আবেদন করেন। কিন্তু সেখানেও তাদের মামলা নামঞ্জুর হয়ে যায়। এরপর সেই রায়ের অনুকূলে পূর্বের দাখিল করা মামলার যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আদালত জায়গাটি নুরুল আলমকে দখল বুঝিয়ে দেন।

জানতে চাইলে ভুক্তভোগী নুরুল আলম কালবেলাকে বলেন, ‘দীর্ঘ সময় পর আইনের সহায়তায় আমি ও আমার পরিবার জায়গা বুঝে পেলাম। এভাবে জমি পাওয়ায় আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা আরও বেড়ে গেছে।’

এ বিষয়ে আদালতের নাজির শাহ আলম কালবেলাকে বলেন, ‘আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকঢোল পিটিয়ে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সময় কোনো ধরনের ঝামেলা হয়নি।’