ঢাকা ০৯:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা বই শিশুদের অনুপ্রাণিত করবে: ডা. জুবাইদা রহমান তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য দলের মতো বিএনপি নেতারা পালিয়ে যাননি : ত্রাণমন্ত্রী মক্কায় কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৪ হাফেজকে জামায়াত আমিরের সংবর্ধনা আজিজ ফয়জুন্নেছা টাওয়ার নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ক্রিকেটারদের মন জয় করতে বড় পদক্ষেপ নিলেন তামিম কর ফাঁকির জরিমানায় লাগবে দালিলিক প্রমাণ : এনবিআর যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচে নামিয়ে রেমিট্যান্সে শীর্ষে সৌদি আরব : সংসদে প্রতিমন্ত্রী নুর কোটালীপাড়ায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সেন্টার উদ্বোধন 

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মেম্বারের বিরুদ্ধে সরকারি রাস্তার গাছ কাটে নেওয়া অভিযোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বালিয়াডাঙ্গায় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারের বিরুদ্ধে সরকারি রাস্তার কয়েকশ গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের যাদুপুর সড়কের মধ্যবয়সী বিভিন্ন ফলদ, বনজ গাছ কাটা হয়। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) থেকে সোমবার (১৮ আগস্ট) পর্যন্ত আনুমানিক দুই শতাধিক গাছ কাটার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও জনপ্রতিনিধি সূত্রে জানা যায়, পল্লী বিদ্যুতের লাইন স্থাপনের জন্য গাছের কিছু অংশ কাটার কথা থাকলেও কাটা হয়েছে সিংহভাগ অংশই। এমনকি পল্লী বিদ্যুতের লোকজন গাছ কাটার কথা থাকলেও তা করছে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের লোকজন। এসব গাছ কাটার পর জমা করা হয়েছে ইউপি সদস্য মেহেদী হাসানের বাড়ির সামনে। কয়েকদিনে আনুমানিক ৪০০ মনের অধিক গাছ কাটে তারা।

অভিযোগ উঠেছে, বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউল হক কমলের নির্দেশে এসব গাছ আত্মসাৎ করতে যাবতীয় কার্যক্রম করছেন ০৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মেহেদী হাসান। ঘটনাস্থল ০৯ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন হলেও ০৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মেহেদী হাসান সেখানে গিয়ে গাছগুলো তার নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার যাবতীয় ব্যবস্থা করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মতিন বলেন, নির্বিচারে রাস্তাী বড় বড় আম মেহগনী ও নিমের গাছ কাটা হয়েছে। অবাক করা বিষয়, গাছগুলো কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ লুটপাট চলছে। এনিয়ে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া দরকার ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের বিরুদ্ধে।

যাদুপুর গ্রামের বাসিন্দা তরিকুল ইসলাম (ছদ্মনাম) বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সরকারি সম্পদ রক্ষার জন্য নির্বাচিত করেছেন জনগণ। কিন্তু তারাই সরকারি সম্পদ লুটপাটে জড়িয়ে পড়েছে। কয়েকশ টন কাঠ চুরি করেছে জনপ্রতিনিধিরা। দিনের বেলা প্রকাশ্যে এমন পুকুর চুরির ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন নিরব ভূমিকায় রয়েছে।

বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ০৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মেহেদী হাসান জানান, সড়কের গাছগুলোর ফল কিনেছিলাম আমরা। তাই চেয়ারম্যানের নির্দেশে গাছগুলো নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে ফল কিনে গাছ নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করলে সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

ইউপি চেয়ারম্যান আতাউল হক কমলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে পরে কথা বলব বলে ফোন কেটে দেন তিনি। পরে এনিয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোন রিসিভ করেননি ইউপি চেয়ারম্যান।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মেম্বারের বিরুদ্ধে সরকারি রাস্তার গাছ কাটে নেওয়া অভিযোগ

আপডেট সময় ০৪:২২:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বালিয়াডাঙ্গায় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারের বিরুদ্ধে সরকারি রাস্তার কয়েকশ গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের যাদুপুর সড়কের মধ্যবয়সী বিভিন্ন ফলদ, বনজ গাছ কাটা হয়। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) থেকে সোমবার (১৮ আগস্ট) পর্যন্ত আনুমানিক দুই শতাধিক গাছ কাটার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও জনপ্রতিনিধি সূত্রে জানা যায়, পল্লী বিদ্যুতের লাইন স্থাপনের জন্য গাছের কিছু অংশ কাটার কথা থাকলেও কাটা হয়েছে সিংহভাগ অংশই। এমনকি পল্লী বিদ্যুতের লোকজন গাছ কাটার কথা থাকলেও তা করছে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের লোকজন। এসব গাছ কাটার পর জমা করা হয়েছে ইউপি সদস্য মেহেদী হাসানের বাড়ির সামনে। কয়েকদিনে আনুমানিক ৪০০ মনের অধিক গাছ কাটে তারা।

অভিযোগ উঠেছে, বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউল হক কমলের নির্দেশে এসব গাছ আত্মসাৎ করতে যাবতীয় কার্যক্রম করছেন ০৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মেহেদী হাসান। ঘটনাস্থল ০৯ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন হলেও ০৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মেহেদী হাসান সেখানে গিয়ে গাছগুলো তার নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার যাবতীয় ব্যবস্থা করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মতিন বলেন, নির্বিচারে রাস্তাী বড় বড় আম মেহগনী ও নিমের গাছ কাটা হয়েছে। অবাক করা বিষয়, গাছগুলো কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ লুটপাট চলছে। এনিয়ে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া দরকার ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের বিরুদ্ধে।

যাদুপুর গ্রামের বাসিন্দা তরিকুল ইসলাম (ছদ্মনাম) বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সরকারি সম্পদ রক্ষার জন্য নির্বাচিত করেছেন জনগণ। কিন্তু তারাই সরকারি সম্পদ লুটপাটে জড়িয়ে পড়েছে। কয়েকশ টন কাঠ চুরি করেছে জনপ্রতিনিধিরা। দিনের বেলা প্রকাশ্যে এমন পুকুর চুরির ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন নিরব ভূমিকায় রয়েছে।

বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ০৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মেহেদী হাসান জানান, সড়কের গাছগুলোর ফল কিনেছিলাম আমরা। তাই চেয়ারম্যানের নির্দেশে গাছগুলো নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে ফল কিনে গাছ নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করলে সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

ইউপি চেয়ারম্যান আতাউল হক কমলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে পরে কথা বলব বলে ফোন কেটে দেন তিনি। পরে এনিয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোন রিসিভ করেননি ইউপি চেয়ারম্যান।