রেলওয়ে স্টেশনের টোকাই থেকে শুরু। এরপর পুলিশের সোর্স, তারপর থানার অলিখিত ক্যাশিয়ার। পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। রাতারাতি হয়ে যান কোটিপতি। এটি সিনেমাটিক কোনো গল্প নয়, বাস্তব জীবনের কাহিনী নোয়াখালীর সূবর্ণচরের মো. অলি ওরফে “ক্যাশিয়ার অলি”-র।
আওয়ামী লীগের আমলে এলাকায় করেছেন চেয়ারম্যান নির্বাচনও। বর্তমানে তিনি চড়েন বিলাসবহুল গাড়িতে।
চকবাজার, আকবরশাহ ও ডাবলমুরিং থানার এলাকায় অপরাধীদের কাছে ছিল তার ব্যাপক প্রভাব। তার ইশারায় চলতো মাদক ব্যবসা, জুয়া, দেহ ব্যবসা, ফুটপাত ও গাড়ির স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি, পুলিশ দিয়ে ব্ল্যাকমেইলিংসহ নানা অপকর্ম। সাংবাদিকরা প্রতিবেদন করলে পাঠানো হতো জেলে।
৫ আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। তবে এখন আবার নতুন করে নগরের আকবরশাহ এলাকায় “ক্যাশিয়ার” পরিচয়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। মাদক স্পট, জুয়া, বাস স্ট্যান্ড, হোটেল, ফুটপাত, সাগর পাড়ের অবৈধ তেলের দোকান, ট্রাক স্ট্যান্ড, চোরাই কাঠের গাড়ি, পাহাড় কাটা, অবৈধ পলিথিন কারখানা, অটোরিকশা—সবকিছু থেকেই নিয়মিত চাঁদা তুলছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আকবরশাহ থানার ওসি আরিফ হোসেন পারিবারিক ও অফিসিয়াল কারণে ছুটিতে থাকায় এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এলাকা দখলে নেন অলি। পরিচয় দেন—তিনি থানার ক্যাশিয়ার হিসেবে আবার দায়িত্ব পেয়েছেন। সেই থেকেই ফের অর্থ আদায় শুরু করেন।
এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদক পরিচয় গোপন রেখে ফোনে যোগাযোগ করলে ক্যাশিয়ার অলি সীতাকুণ্ড থেকে তিনটি ট্রাকে করে চোরাই কাঠ আনার প্রস্তাব পান।
প্রতিবেদককে তিনি জানান—“আমি এখন আকবরশাহ থানার ক্যাশের দায়িত্বে। গাছের গাড়ি প্রতি এক হাজার টাকা নিই। তিন গাড়ির জন্য তিন হাজার টাকা দেবেন। পুলিশ ধরলে আমাকে কল দেবেন। নিশ্চিন্তে গাড়ি নিয়ে আসুন।”
এই কথোপকথনের অডিও সংরক্ষিত আছে প্রতিবেদকের কাছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান—অলি প্রায় আড়াই লাখ টাকা দিয়ে থানার ক্যাশিয়ার পদ কিনেছেন। তবে কাকে টাকা দিয়েছেন সে বিষয়ে মুখ খোলেননি তিনি।
প্রতিবেদন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. অলি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন,আপনি কি আমাকে চ্যালেঞ্জ করতে চান? আমি ফেডারেশনের অলি।”এ কথা বলেই তিনি মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এ বিষয়ে আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমানকে ফোন করলে তিনি প্রতিবেদককে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করতে বলেন।
পরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ও পাবলিক রিলেশনস অফিসার মাহমুদা খানম দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি-কে বলেন—
“থানায় কোনো ক্যাশিয়ার থাকতে পারে না। কেউ যদি থানার পরিচয়ে চাঁদাবাজি করে তাহলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি আপনি আমাদের পুলিশ কমিশনার মহোদয়কে জানান, তিনি অনুমতি দিলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।”
নিজস্ব প্রতিবেদক: 























