ঢাকা ০২:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা বই শিশুদের অনুপ্রাণিত করবে: ডা. জুবাইদা রহমান তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য দলের মতো বিএনপি নেতারা পালিয়ে যাননি : ত্রাণমন্ত্রী মক্কায় কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৪ হাফেজকে জামায়াত আমিরের সংবর্ধনা আজিজ ফয়জুন্নেছা টাওয়ার নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ক্রিকেটারদের মন জয় করতে বড় পদক্ষেপ নিলেন তামিম কর ফাঁকির জরিমানায় লাগবে দালিলিক প্রমাণ : এনবিআর যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচে নামিয়ে রেমিট্যান্সে শীর্ষে সৌদি আরব : সংসদে প্রতিমন্ত্রী নুর কোটালীপাড়ায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সেন্টার উদ্বোধন 

পানি কমায় বাড়ছে তিস্তার ক্ষত

কমতে শুরু করেছে তিস্তা নদীর পানি। পানি কমলেও লালমনিরহাটে দেখা দিয়েছে ভাঙন। কয়েকদিন আগেও টলটলে পানির স্রোতে দ্বীপের মতো ভেসে থাকা গ্রামগুলোতে এখন চোখে পড়ছে ভাঙা ঘর, ভেজা আসবাবপত্র আর কাদায় মাখামাখি উঠান। তীরবর্তী মানুষের মুখে একটাই দীর্ঘশ্বাস, ‘সব হারিয়েও এখন ভাঙনের ভয়’। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় প্রতিদিনই নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।

হাতীবান্ধার গড্ডিমারী, সিন্দুর্না, কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট আর আবাদি জমি হুমকির মুখে। দক্ষিণ ভোটমারী ও সিন্দুর্না, মহিষখোচার চরাঞ্চলে প্রতিদিন গড়ে কয়েক হাত জমি নদীতে চলে যাচ্ছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ফসলি জমিতে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ক্ষতি। মহিষখোচা উনিয়নের গোবর্ধন এলাকার কৃষক হামিদুর রহমান ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন, এখন রোপণের জন্য বীজই নাই। কৃষকের ঘরে মরণ ছাড়া আর উপায় নাই।

বন্যার পানি সরে যাওয়ায় অনেক পরিবার ঘরে ফিরলেও সেখানে দেখা দিয়েছে নতুন দুঃখ। কালীগঞ্জের দিনমজুর শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনদিন স্কুলে আশ্রয় নিয়েছিলাম। এখন ঘরে ফিরেছি। কিন্তু ঘরই বসবাসের অযোগ্য। সবকিছু ভিজে গেছে, পোকামাকড় ভরে গেছে।

সিন্দুর্না গ্রামের সফুরা বেগম ভেজা খাটের পাশে বসে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, তিস্তা আমাদের সব শেষ করে দিলো। ক্ষেত গেল, ঘর গেল, মাছ গেল। ত্রাণ দিয়ে তো একদিন চলে, আমাদের চাই স্থায়ী বাঁধ।
সিন্দুর্না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টেবিল-চেয়ার ভিজে কাঠ আলগা হয়ে গেছে। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, পাঠদান শুরু হলেও শিশুরা ঠিকমতো বসতে পারছে না। বিদ্যালয় ভবনের গা ঘেঁষে ভাঙন শুরু হয়েছে, যে কোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার শঙ্কা।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাইখুল আরিফিন দাবি করেন, ক্ষতির পরিমাণ সীমিত। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ কৃষকের কাছে রোপণের জন্য চারা নেই, নতুন করে কেনার সামর্থ্যও নেই।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন বেড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তিস্তা শুধু ঘরবাড়ি ও ফসল ভাসায়নি, মানুষের মনে রেখে গেছে গভীর ক্ষতের দাগ। তীরবর্তী মানুষের মুখে একটাই দাবি- ত্রাণ নয়, চাই তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়ন।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

পানি কমায় বাড়ছে তিস্তার ক্ষত

আপডেট সময় ০৩:৪৬:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৫

কমতে শুরু করেছে তিস্তা নদীর পানি। পানি কমলেও লালমনিরহাটে দেখা দিয়েছে ভাঙন। কয়েকদিন আগেও টলটলে পানির স্রোতে দ্বীপের মতো ভেসে থাকা গ্রামগুলোতে এখন চোখে পড়ছে ভাঙা ঘর, ভেজা আসবাবপত্র আর কাদায় মাখামাখি উঠান। তীরবর্তী মানুষের মুখে একটাই দীর্ঘশ্বাস, ‘সব হারিয়েও এখন ভাঙনের ভয়’। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় প্রতিদিনই নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।

হাতীবান্ধার গড্ডিমারী, সিন্দুর্না, কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট আর আবাদি জমি হুমকির মুখে। দক্ষিণ ভোটমারী ও সিন্দুর্না, মহিষখোচার চরাঞ্চলে প্রতিদিন গড়ে কয়েক হাত জমি নদীতে চলে যাচ্ছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ফসলি জমিতে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ক্ষতি। মহিষখোচা উনিয়নের গোবর্ধন এলাকার কৃষক হামিদুর রহমান ক্ষোভ ঝেড়ে বলেন, এখন রোপণের জন্য বীজই নাই। কৃষকের ঘরে মরণ ছাড়া আর উপায় নাই।

বন্যার পানি সরে যাওয়ায় অনেক পরিবার ঘরে ফিরলেও সেখানে দেখা দিয়েছে নতুন দুঃখ। কালীগঞ্জের দিনমজুর শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনদিন স্কুলে আশ্রয় নিয়েছিলাম। এখন ঘরে ফিরেছি। কিন্তু ঘরই বসবাসের অযোগ্য। সবকিছু ভিজে গেছে, পোকামাকড় ভরে গেছে।

সিন্দুর্না গ্রামের সফুরা বেগম ভেজা খাটের পাশে বসে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, তিস্তা আমাদের সব শেষ করে দিলো। ক্ষেত গেল, ঘর গেল, মাছ গেল। ত্রাণ দিয়ে তো একদিন চলে, আমাদের চাই স্থায়ী বাঁধ।
সিন্দুর্না সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টেবিল-চেয়ার ভিজে কাঠ আলগা হয়ে গেছে। শিক্ষকরা জানিয়েছেন, পাঠদান শুরু হলেও শিশুরা ঠিকমতো বসতে পারছে না। বিদ্যালয় ভবনের গা ঘেঁষে ভাঙন শুরু হয়েছে, যে কোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার শঙ্কা।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাইখুল আরিফিন দাবি করেন, ক্ষতির পরিমাণ সীমিত। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ কৃষকের কাছে রোপণের জন্য চারা নেই, নতুন করে কেনার সামর্থ্যও নেই।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন বেড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তিস্তা শুধু ঘরবাড়ি ও ফসল ভাসায়নি, মানুষের মনে রেখে গেছে গভীর ক্ষতের দাগ। তীরবর্তী মানুষের মুখে একটাই দাবি- ত্রাণ নয়, চাই তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়ন।