ঢাকা ০৩:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা বই শিশুদের অনুপ্রাণিত করবে: ডা. জুবাইদা রহমান তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য দলের মতো বিএনপি নেতারা পালিয়ে যাননি : ত্রাণমন্ত্রী মক্কায় কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৪ হাফেজকে জামায়াত আমিরের সংবর্ধনা আজিজ ফয়জুন্নেছা টাওয়ার নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ক্রিকেটারদের মন জয় করতে বড় পদক্ষেপ নিলেন তামিম কর ফাঁকির জরিমানায় লাগবে দালিলিক প্রমাণ : এনবিআর যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচে নামিয়ে রেমিট্যান্সে শীর্ষে সৌদি আরব : সংসদে প্রতিমন্ত্রী নুর কোটালীপাড়ায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সেন্টার উদ্বোধন 

বাড়িতে ঢুকে অন্তঃসত্ত্বার পেটে লাথি, গর্ভেই মারা গেলো সন্তান

পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন হালিমা খাতুন (৩৭)। নতুন জীবনের স্পন্দন ছিল তার গর্ভে। কিন্তু নির্মম মারধর সেই স্বপ্নকে কেড়ে নিল চিরতরে। গর্ভের সন্তানকে হারালেন তিনি, আর নিজেও মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন আশাশুনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিছানায়।

ঘটনাটি ঘটে ৯ আগস্ট সকালে, সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের বল্লপুর গ্রামে।
অভিযোগের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় চারজনসহ আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি পূর্ব শত্রুতার জেরে ইমাম হাফেজ রফিকুল ইসলামের বাড়িতে ঢুকে গালিগালাজ শুরু করে। তখন বাড়িতে ছিলেন শুধু তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী হালিমা। গালিগালাজ বন্ধ করতে অনুরোধ করায় অভিযুক্তরা লোহার রড, জিআই পাইপ, হাতুড়ি ও বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে তাকে।

মারধরের এক পর্যায়ে তার তলপেটে লাথি ও পাইপের আঘাত লাগে। গুরুতর জখমের কারণে গর্ভপাত হয়ে যায়, পাঁচ মাসের সন্তান জন্মের আগেই মারা যায়। এসময় হামলাকারীরা স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা লুট করে এবং ঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে। হামলায় হালিমার মেয়ে নাইমা খাতুনকেও মারধর করা হয়।

১৪ আগস্ট সকালে হালিমা মৃত সন্তান প্রসব করলে পরিবার থানায় খবর দেয়। পুলিশ নবজাতকের মরদেহ ও মাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। হালিমাকে ভর্তি করা হয় আশাশুনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, আর নবজাতকের মরদেহ পাঠানো হয় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য।

ভুক্তভোগীর স্বামী রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার সন্তানকে তারা মেরে ফেলেছে। স্ত্রী এখনো ব্যথায় কাতরাচ্ছে। আমি এই নৃশংস ঘটনার বিচার চাই।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আরেফিন জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

বাড়িতে ঢুকে অন্তঃসত্ত্বার পেটে লাথি, গর্ভেই মারা গেলো সন্তান

আপডেট সময় ১১:৩৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৫

পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন হালিমা খাতুন (৩৭)। নতুন জীবনের স্পন্দন ছিল তার গর্ভে। কিন্তু নির্মম মারধর সেই স্বপ্নকে কেড়ে নিল চিরতরে। গর্ভের সন্তানকে হারালেন তিনি, আর নিজেও মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন আশাশুনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিছানায়।

ঘটনাটি ঘটে ৯ আগস্ট সকালে, সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আনুলিয়া ইউনিয়নের বল্লপুর গ্রামে।
অভিযোগের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় চারজনসহ আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি পূর্ব শত্রুতার জেরে ইমাম হাফেজ রফিকুল ইসলামের বাড়িতে ঢুকে গালিগালাজ শুরু করে। তখন বাড়িতে ছিলেন শুধু তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী হালিমা। গালিগালাজ বন্ধ করতে অনুরোধ করায় অভিযুক্তরা লোহার রড, জিআই পাইপ, হাতুড়ি ও বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে তাকে।

মারধরের এক পর্যায়ে তার তলপেটে লাথি ও পাইপের আঘাত লাগে। গুরুতর জখমের কারণে গর্ভপাত হয়ে যায়, পাঁচ মাসের সন্তান জন্মের আগেই মারা যায়। এসময় হামলাকারীরা স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা লুট করে এবং ঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে। হামলায় হালিমার মেয়ে নাইমা খাতুনকেও মারধর করা হয়।

১৪ আগস্ট সকালে হালিমা মৃত সন্তান প্রসব করলে পরিবার থানায় খবর দেয়। পুলিশ নবজাতকের মরদেহ ও মাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। হালিমাকে ভর্তি করা হয় আশাশুনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, আর নবজাতকের মরদেহ পাঠানো হয় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য।

ভুক্তভোগীর স্বামী রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার সন্তানকে তারা মেরে ফেলেছে। স্ত্রী এখনো ব্যথায় কাতরাচ্ছে। আমি এই নৃশংস ঘটনার বিচার চাই।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আরেফিন জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।