শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল রাজধানী ঢাকার অন্যতম বৃহত্তম এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি জেনারেল হাসপাতাল। এটি সকল ধরনের রোগীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার জন্য মানুষ এখানে আসে। তবে সরেজমিনে দেখা যায়, ভেতরের অবস্থা আরও ভয়াবহ। জরাজীর্ণ বেড, ভাঙা দরজা-জানালা, স্যাঁতসেঁতে ফ্লোর, চারদিকে ময়লার স্তুপ আর দুর্গন্ধ—সব মিলিয়ে নাজুক পরিবেশ বিরাজ করছে।
হাসপাতালের গেইট দিয়ে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে বাহারি দোকানের পসরা ও হকার। বিড়ি-সিগারেট থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যই পাওয়া যায় এখানে। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতাল প্রশাসন ও কর্মরত আনসার সদস্যদের ম্যানেজ করেই চলে এসব দোকান। হাসপাতাল বাউন্ডারির ভেতরে অবাধে চলছে ধূমপান।
ইমার্জেন্সি দিয়ে প্রবেশের পথে প্রথমেই নাকে লাগে আবর্জনার তীব্র দুর্গন্ধ। গেইটে ঢুকতেই দেখা যায়, আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত কিছু কর্মী, যাদের গলায় আইডি কার্ড ঝুলছে, তারা হুইলচেয়ার ও ট্রলির উপর বসে আছে। কোন রোগীর জন্য হুইলচেয়ার বা ট্রলি প্রয়োজন হলে গুনতে হয় ১০০ থেকে ৫০০ টাকা।
গতকাল এক রোগী ইমার্জেন্সিতে আসলে কর্তব্যরত ডাক্তার রোগীর স্বজনকে জানান, রোগীকে দ্রুত ভর্তি করতে হবে; তবে আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে কোনো বেড খালি নেই। ফ্লোরে চিকিৎসা নিতে হবে কি না, তা সিদ্ধান্ত নিতে বলেন তিনি। বাধ্য হয়ে রোগীর স্বজনেরা ভর্তি করান এবং একজন ওয়ার্ড বয়ের পরামর্শে ১,০০০ টাকার বিনিময়ে পাঁচতলার একটি ওয়ার্ডে বেড ম্যানেজ করতে হয় তাদের।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক হাসপাতাল কর্মী জানান, “এখানে সব সেবাই টাকার বিনিময়ে পাওয়া যায়। আপনি সেবা চাইলে খরচ করতে হবে। ওয়ার্ড বয় বা খালারা সব ম্যানেজ করে দেবে। যেখানে ডাক্তার বলছে দুই-তিন দিনেও বেড দেওয়া সম্ভব নয়, সেখানে মামুন ভাই কীভাবে বেড ম্যানেজ করে দেয়—এটাই ভাববার বিষয়।”
বিভিন্ন ফ্লোরের ওয়ার্ডে ঘুরে দেখা যায়, বিছানাসহ সর্বত্র ঘুরে বেড়াচ্ছে ছোট ছোট চায়না তেলাপোকা। সেই সাথে মানুষ, কুকুর ও বেড়ালের সহাবস্থান। পাঁচতলার ৫২৫ নম্বর ওয়ার্ডের সামনে বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে এক অসুস্থ রোগী, তার সাথেই শুয়ে আছে একটি বেওয়ারিশ কুকুর। অন্যদিকে আরেকটি কুকুর মানুষের বেডের পাশেই খাবার খুঁজে বেড়াচ্ছে।
ওয়ার্ডের টয়লেটগুলোতে উপচে পড়ছে ময়লা। এই মলমূত্রের দুর্গন্ধের মধ্যেই থাকতে হচ্ছে ভর্তি রোগীদের। দক্ষিণ পাশের সিঁড়ি দিয়ে নামতেই দুর্গন্ধে কারো দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। অন্ধকার সিঁড়িতে ঘুমিয়ে আছে কিছু ভবঘুরে পথশিশু।
রোগীর স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এখানে আসা প্রায় সকলেই দরিদ্র। সরকারি খরচে চিকিৎসা পাওয়া যায় বলেই তাদের ভরসা এই হাসপাতাল। কিন্তু নার্স ও আয়াদের ব্যবহার মোটেও ভালো নয়। অধিকাংশ আয়া ও ওয়ার্ড বয় টাকার বিনিময়ে কাজ করে; টাকা না দিলে কাজ করে না। রাতে কোনো রোগীর অসুবিধায় নার্স ডাকতে গেলে তারা খারাপ ব্যবহার করে। হাসপাতাল থেকে কিছু ঔষধ দেওয়ার কথা থাকলেও নাপা ছাড়া আর কিছুই থাকে না।
হাসান মাহমুদ স্টাফ রির্পোটার 























