ঢাকা ০৬:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে লেখা বই শিশুদের অনুপ্রাণিত করবে: ডা. জুবাইদা রহমান তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন করবে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্য দলের মতো বিএনপি নেতারা পালিয়ে যাননি : ত্রাণমন্ত্রী মক্কায় কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৪ হাফেজকে জামায়াত আমিরের সংবর্ধনা আজিজ ফয়জুন্নেছা টাওয়ার নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ক্রিকেটারদের মন জয় করতে বড় পদক্ষেপ নিলেন তামিম কর ফাঁকির জরিমানায় লাগবে দালিলিক প্রমাণ : এনবিআর যুক্তরাষ্ট্রকে পাঁচে নামিয়ে রেমিট্যান্সে শীর্ষে সৌদি আরব : সংসদে প্রতিমন্ত্রী নুর কোটালীপাড়ায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং সেন্টার উদ্বোধন 

সরকারি দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি

ঠাকুরগাঁওয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে সার বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। বাজারে টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও নির্ধারিত দামে এ সব সার পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক বিক্রেতা রশিদ না দিয়েই বস্তাপ্রতি ৩শ থেকে ৫শ টাকা পর্যন্ত বেশি নিচ্ছেন।

সরেজমিনে বিভিন্ন উপজেলায় দেখা যায়, ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা সীমিত মজুদের কথা বলে অনাগ্রহ নিয়ে সার দিচ্ছেন। তবে বেশি দামে কিনলে সার মিলছে সহজেই। সদর উপজেলার কৃষক মনসুর আলী বলেন, টিএসপি কিনেছেন ১ হাজার ৮২০ টাকায়, অথচ সরকারি দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকা। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার কৃষক আবদুর রহমান জানান, ডিলারের বিক্রয়কেন্দ্রে সার আসার পরপরই কিছু খুচরা ব্যবসায়ীরা তা কিনে নেয়। পরে সেই সারই বাজারে অতিরিক্ত দামে বিক্রি হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে ঠাকুরগাঁওয়ে বরাদ্দ ছিল টিএসপি ১ হাজার ৪০৬ মেট্রিক টন, ডিএপি ২ হাজার ৬৯৩ মেট্রিক টন, এমওপি ৩ হাজার ১৩৬ মেট্রিক টন, ইউরিয়া ৬ হাজার ৫৮৭ মেট্রিক টন। জেলার পাঁচ উপজেলায় বিসিআইসির ৬২ জন ও বিএডিসির ১৪৮ জন ডিলারের মাধ্যমে এসব সার বিতরণ হয়।

তবে কৃষি বিভাগের দাবি, বরাদ্দের একটি অংশ পাচার হয়ে যাচ্ছে পাশের জেলা পঞ্চগড়ের চা-বাগানে, ফলে স্থানীয় কৃষকেরা সংকটে পড়ছেন। সম্প্রতি সদর উপজেলার গড়েয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক বাড়ি থেকে ৯৪৭ বস্তা অবৈধ সার উদ্ধার করেছে কৃষি অফিস ও যৌথ বাহিনী। যার বাজারমূল্য আনুমানিক ১১ লাখ।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ও সার মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব মো. মাজেদুল ইসলাম বলেন, সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী মজুদ রয়েছে। তবে পঞ্চগড়ের ব্যবসায়ী ও চা-চাষিরা এখান থেকে সার নিয়ে যাওয়ায় সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন ঠাকুরগাঁও জেলা ইউনিটের সভাপতি মোদাচ্ছের হোসেন জানান, খুচরা ব্যবসায়ীরা ডিলারের কাছ থেকে না নিয়ে বাইরের উৎস থেকে বেশি দামে কিনে আনেন, তাই তারাও বেশি দামে বিক্রি করেন।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৪২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

সরকারি দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি

আপডেট সময় ০৭:১৫:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৫

ঠাকুরগাঁওয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে সার বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। বাজারে টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও নির্ধারিত দামে এ সব সার পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক বিক্রেতা রশিদ না দিয়েই বস্তাপ্রতি ৩শ থেকে ৫শ টাকা পর্যন্ত বেশি নিচ্ছেন।

সরেজমিনে বিভিন্ন উপজেলায় দেখা যায়, ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা সীমিত মজুদের কথা বলে অনাগ্রহ নিয়ে সার দিচ্ছেন। তবে বেশি দামে কিনলে সার মিলছে সহজেই। সদর উপজেলার কৃষক মনসুর আলী বলেন, টিএসপি কিনেছেন ১ হাজার ৮২০ টাকায়, অথচ সরকারি দাম ১ হাজার ৩৫০ টাকা। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার কৃষক আবদুর রহমান জানান, ডিলারের বিক্রয়কেন্দ্রে সার আসার পরপরই কিছু খুচরা ব্যবসায়ীরা তা কিনে নেয়। পরে সেই সারই বাজারে অতিরিক্ত দামে বিক্রি হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে ঠাকুরগাঁওয়ে বরাদ্দ ছিল টিএসপি ১ হাজার ৪০৬ মেট্রিক টন, ডিএপি ২ হাজার ৬৯৩ মেট্রিক টন, এমওপি ৩ হাজার ১৩৬ মেট্রিক টন, ইউরিয়া ৬ হাজার ৫৮৭ মেট্রিক টন। জেলার পাঁচ উপজেলায় বিসিআইসির ৬২ জন ও বিএডিসির ১৪৮ জন ডিলারের মাধ্যমে এসব সার বিতরণ হয়।

তবে কৃষি বিভাগের দাবি, বরাদ্দের একটি অংশ পাচার হয়ে যাচ্ছে পাশের জেলা পঞ্চগড়ের চা-বাগানে, ফলে স্থানীয় কৃষকেরা সংকটে পড়ছেন। সম্প্রতি সদর উপজেলার গড়েয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক বাড়ি থেকে ৯৪৭ বস্তা অবৈধ সার উদ্ধার করেছে কৃষি অফিস ও যৌথ বাহিনী। যার বাজারমূল্য আনুমানিক ১১ লাখ।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ও সার মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব মো. মাজেদুল ইসলাম বলেন, সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী মজুদ রয়েছে। তবে পঞ্চগড়ের ব্যবসায়ী ও চা-চাষিরা এখান থেকে সার নিয়ে যাওয়ায় সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন ঠাকুরগাঁও জেলা ইউনিটের সভাপতি মোদাচ্ছের হোসেন জানান, খুচরা ব্যবসায়ীরা ডিলারের কাছ থেকে না নিয়ে বাইরের উৎস থেকে বেশি দামে কিনে আনেন, তাই তারাও বেশি দামে বিক্রি করেন।